কুমিলস্নার ঘটনার জের

চাঁদপুরে আসামি আড়াই হাজার গাজীপুরে রিমান্ডে ১৮ জন

চাঁদপুরে আসামি আড়াই হাজার গাজীপুরে রিমান্ডে ১৮ জন

কুমিলস্নার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের কয়েকটি জেলায় মন্দিরে হামলা, ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন মামলায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে আসামি করা হয়েছে এবং গাজীপুর কাশিমপুরে প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় তিন মামলায় ১৮ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

আমাদের চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় বুধবার রাতে কুমিলস্নার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা ও মন্দির ভাঙার দায়ে মন্দির কর্তৃপক্ষ একটি মামলা করেছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে।

শুক্রবার হাজীগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশীদ জানান, উপজেলায় মোট ১২টি পূজামন্ডপ ভাঙচুর হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে দুটি ও মন্দির ভাঙার দায়ে মন্দির কর্তৃপক্ষ একটি মামলা করেছে। এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের দুটি মামলার একটিতে অজ্ঞাত পরিচয় দুই হাজার ২০০ জনকে এবং আরেকটিতে অজ্ঞাত প্রায় ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে চারজন নিহত হন বলে জানিয়েছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে। সম্পদের ওপর আঘাত এসেছে, মানুষের জীবনের ওপর আঘাত এসেছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতির আলোকে যারা শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন তারা আত্মরক্ষায় এবং জানমালের নিরাপত্তায় ফায়ারিং করেছে। মোট চারজন নিহত হয়েছেন। সাতজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৯ পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন।'

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাজীগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। পুলিশের পাশাপাশি দুই পস্নাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে বুধবার রাতে হাজীগঞ্জ বাজারে পুলিশ ও জনতার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত আল আমিন, শামীম ও হৃদয়ের দাফন হাজীগঞ্জের নিজ নিজ গ্রামের সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্মাণ শ্রমিক বাবলুর মৃতদেহ গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সুন্দরগঞ্জ ভাগডাঙ্গায় নেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরে রিমান্ডে ১৮ জন

আমাদের গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে তিনটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১৮ জনকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

কাশিমপুর থানার ওসি মো. মাহবুবে খোদা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কাশিমপুর বাজারের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কাশিমপুর পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি বাবুল রুদ্র, কাশিমপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার পারিবারিক মন্দির পরিচালনাকারী সুবল চন্দ্র দাস ও পালপাড়া নামাবাজার এলাকার সার্বজনীন পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি পরিমল পাল বাদী হয়ে ওই মামলা তিনটি করেছেন। প্রতিটি মামলায় অজ্ঞাত ১৫০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দুই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাশিমপুর থানার এসআই মো. তানভীর আহমদ জানান, শুক্রবার সকালে আদালতে গ্রেপ্তার ২০ জনের মধ্যে ১৮ জনের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালতের বিচারক তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্য দুইজনকে ঘটনার দিন আহত অবস্থায় আটক করা হয়েছিল। তারা সুস্থ হলে পরে তাদেরও রিমান্ড চাওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে