'বিশ্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি'

'বিশ্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি'

'সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বের কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী এতটা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে নেই। শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে হামলাকারীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেই তা হলফ করে বলা যাচ্ছে না। একটি গোষ্ঠী যেকোনোভাবেই তাকে হত্যা করতে মরিয়া বলে আমরা ধারণা করছি। তাই কোনোভাবেই তার নিরাপত্তার ইসু্যতে নূ্যনতম ঝুঁকি নিতে রাজি নই।'

রোববার

ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রিপরিষদবর্গ ও গণমান্য ব্যক্তি এবং বিদেশি কূটনীতিকরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

তিনি আরও বলেন, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তার স্বার্থে কাউকে ট্রলিব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, ভ্যানিটিব্যাগ, টিফিন ক্যারিয়ার, ফ্লাক্স, দিয়াশলাইসহ যেকোনো ধরনের দাহ্য পদার্থ, ছুরি-কাচি, ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতে দেওয়া হবে না।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের নিরাপত্তাজনিত ফাঁক রাখা হচ্ছে না। নানা কারণে এবার জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান অত্যন্ত সতর্কতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে পালন করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর এলাকায় ডগ স্কোয়াড ও বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দিয়ে তলস্নাশি করা হয়েছে। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরসহ পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের আশপাশের সব হোটেল-রেস্তোরাঁ ও মেসে তলস্নাশি চালানো হচ্ছে। জাদুঘরের প্রবেশপথে বসানো হয়েছে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর। থাকছে রুফটপ নিরাপত্তা এবং ওয়াচ টাওয়ার। ধানমন্ডির লেকে নৌ-পুলিশের টহল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী দুই দিন ওই এলাকা ঘিরে বিভিন্ন সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সামনের রাস্তায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আগতদের করোনার সংক্রমণ রোধে মাস্ক পরিধান করার অনুরোধ করেন ডিএমপি কমিশনার।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সকালে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ এবং কূটনীতিকরা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। পরে তারা বনানী কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বনানী কবরস্থানেও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুটি স্থানেই অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হবে। বিশুদ্ধ খাবার পানির সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, অতীতে বহুবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে হামলা হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ছিল উলেস্নখযোগ্য। আলস্নাহর অশেষ রহমতে তিনি বেঁচে গেছেন। অতীতের হামলাসহ সার্বিক বিচার-বিশ্লেষণে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বের কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী এতটা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে নেই।

তিনি আরও বলেন, 'এ জন্যই তার নিরাপত্তার ইসু্যতে আমরা নূ্যনতম ঝুঁকি নিতে রাজি নই। তাকে হত্যা করতে হয়তো এক বা একাধিক গোষ্ঠী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে। আমরা ধারণা করছি, শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে হামলাকারীদের ১০ বছরমেয়াদি পরিকল্পনা থাকাও বিচিত্র কিছু না। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের হামলার আশঙ্কা করছি না। তবে আগস্ট মাসকে হামলাকারীরা বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে।'

কারণ হিসেবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, 'বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল আগস্ট মাসেই। শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিল এই আগস্ট মাসেই। তাই আগস্ট মাসকে আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মাস হিসেবে বিবেচনা করি। এ জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কঠোর করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থেই গৃহীত নিরাপত্তা সম্পর্কে আমরা সব কিছুই প্রকাশ করব না। এমনটি সেটি উচিতও না।'

এ সময় ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ শহীদুলস্নাহসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে