রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

আওয়ামী লীগের অভিনন্দন 'জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বিশ্বশান্তি ও মানবমুক্তির দিকদর্শন'

ম যাযাদি ডেস্ক
  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে 'বিশ্বশান্তি ও মানবমুক্তির দিকদর্শন' বলে উলেস্নখ করেছে আওয়ামী লীগ। শনিবার দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে ওই ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, 'জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বনেতাদের সামনে দুর্যোগের সংকটপূর্ণ সময়ে সমাধানের সূত্র তুলে ধরেছেন। যুদ্ধ, অস্ত্রের প্রতিযোগিতা, ক্ষমতার প্রভাব এবং স্বার্থগত সংঘাতকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবমুক্তির প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি জবরদস্তিমূলক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার মতো বৈরীপন্থা পরিহার করে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংকট ও বিরোধ নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যার এই আহ্বান বিশ্বশান্তি ও মানবমুক্তির দিকদর্শন।' বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের আহ্বান জানিয়েছেন। বরাবরের মতো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখানো পথে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ প্রদান করেছেন এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধসহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর তাগিদ দিয়েছেন।' তিনি বলেছেন, 'প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণে শুধু বর্তমান সংকট সমাধানের বার্তাই নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবী প্রতিষ্ঠার দিক-নির্দেশনাও ছিল। তাই বঙ্গবন্ধুকন্যার এই ভাষণে বিশ্বসভায় বাংলাদেশের জনগণের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করে আওয়ামী লীগ।' বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'বিপর্যস্ত মানবিকতা রক্ষায় ২০১৭ সালে বাস্তুচু্যত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বমানবতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এই সংকট সমাধানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাতৃভূমি রাষ্ট্র মিয়ানমারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। মিয়ানমার ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিবদমান এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয়, ত্রিপক্ষীয় এবং জাতিসংঘসহ অন্যান্য অংশীজনদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে জোর প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। তারপরও এই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধান না হলে এই পরিস্থিতি থেকে উগ্রবাদের ভয়াবহ উত্থান ঘটতে পারে যা উপমহাদেশসহ বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে মর্মে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে সতর্ক করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি থেকে মানবজাতিকে রক্ষার জন্য জলবায়ু নিয়ে প্রতিশ্রম্নতি দেওয়া আর ভাঙার দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রদত্ত ভাষণে বিশ্বনেতাদের সামনে সফল রাষ্ট্রনায়কোচিত বার্তা ও দিক-নির্র্দেশনা তুলে ধরায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিবাদন।'
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে