বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

দেশে প্রবীণদের জীবনমান ও সামাজিক নিরাপত্তা বাড়েনি

বিশ্ব প্রবীণ দিবস আজ মোট জনসংখ্যার ৯.২৮ শতাংশ প্রবীণ
ম যাযাদি ডেস্ক
  ০১ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
দেশে প্রবীণ জনসংখ্যার হার ক্রমেই বাড়ছে। প্রবীণদের সামাজিক সুরক্ষায় সরকার বয়স্কভাতা দেওয়াসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও দেশের বিপুল সংখ্যক প্রবীণের সেবায় গড়ে ওঠেনি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। প্রবীণদের জীবনমান ও সামাজিক নিরাপত্তা বাড়েনি। অর্থনীতিসহ নানান চাপে পরিবার ছোট হয়ে আসায় ঝুঁকিতে আছেন তারা। আর এমন পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে আজ ১ অক্টোবর দেশে পালিত হবে 'বিশ্ব প্রবীণ দিবস'। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হলো 'পরিবর্তিত বিশ্বে প্রবীণ ব্যক্তির সহনশীলতা'। সর্বশেষ জনগণনা অনুযায়ী, দেশের মোট ১৬ কোটি ৫০ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ মানুষের মধ্যে প্রবীণ মানুষ ১ কোটি ৫৩ লাখ ২৬ হাজার ৭১৯ জন। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ প্রবীণ। ১৯৯০ সালে মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ ছিলেন প্রবীণ। ২০০১ সালে এই হার ছিল ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। ২০১১ সালে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর হার এসে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশে। ২০০১ সাল থেকে পরবর্তী দশ বছরে দেশে প্রবীণের সংখ্যা বেড়েছিল ১ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং পরবর্তী ১০ বছরে এ সংখ্যা বেড়েছে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ। ১৯৯০ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত গত ৩২ বছরে এই প্রবীণের হার দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে প্রবীণের সংখ্যা দ্রম্নত বাড়ছে। জনশুমারির তথ্যে উঠে এসেছে, জন্মহার কমে যাওয়া এবং নানা ধরনের আধুনিক চিকিৎসা কার্যক্রম সম্প্রসারিত হওয়ার কারণে দেশে মৃতু্যহার ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এ অবস্থায় প্রবীণ জনসংখ্যা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে, এটি অবশ্যই একটি তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার। আয়ু বৃদ্ধির বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে হবে। অবসর গ্রহণের পরও যারা কর্মক্ষম থাকেন, তাদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়বর্ধক উৎপাদনশীল কার্যক্রম নেওয়া যেতে পারে। তাদের বিভিন্ন আনন্দময় আয়বর্ধক কাজে নিয়োজিত করা যেতে পারে। এটি করা হলে দেশের জনসংখ্যার একটি অংশ কাজে ফিরে আসতে পারে। এতে তাদের সময় ভালো কাটবে আর দেশও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাবে। জীবন-সায়াহ্নে প্রবীণদের যথাযথভাবে দেখাশোনা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের অবশ্যকর্তব্য বলে মনে করেন সমাজবিজ্ঞানীরা। তথ্য অনুযায়ী, দেশে এক কোটি ৫৩ লাখের বেশি প্রবীণের জন্য মাত্র এক হাজার ৫০০ জনের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে বিভিন্ন প্রবীণনিবাস ও বৃদ্ধাশ্রমে। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ে, জীবন-সায়াহ্নে সন্তানের কাছে 'বোঝায়' পরিণত হয়েছেন বৃদ্ধ মা-বাবা। পাচ্ছেন না যোগ্য মর্যাদা ও নিরাপত্তা। নির্যাতন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রবীণনিবাসে মৃতু্য হলে মা-বাবার মরদেহ পর্যন্ত নিতে আসেন না অনেক সন্তান। বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান এমন মর্মস্পর্শী ঘটনাও ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে। প্রবীণদের সুরক্ষায় 'জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা, ২০১৩' এবং 'পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩' প্রণয়ন করেছে সরকার। নীতিমালায় জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের (সিনিয়র সিটিজেন) বিশেষ সুযোগ পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা তারা পাচ্ছেন না। আইন প্রণীত হলেও তা বাস্তবায়নের জন্য বিধিমালা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তাই আইনের সুফল পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী, উন্নত দেশে ৬৫ বছরের বেশি বয়সিরা প্রবীণ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ৬০ বছরের বেশি বয়সিরা প্রবীণ। তবে উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও প্রবীণের সংখ্যা দ্রম্নত বাড়ছে। প্রবীণহিতৈষী সংঘের হিসাবে, ২০৫০ সালে মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি পাঁচজনে একজন হবেন প্রবীণ। শিশুর সংখ্যা হবে ১৯ শতাংশ (শূন্য থেকে ১৫ বছর বয়সি জনগোষ্ঠী), মানে ৩৫ বছর পর প্রবীণরা শিশুদের সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবেন। দেশের প্রবীণরা যেন সন্তানের কাছে 'বোঝায়' পরিণত না হয়, তারা যেন মর্যাদাপূর্ণ জীবন কাটাতে পারেন- এ জন্য সবাইকে সজাগ ও আন্তরিক থাকতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। উলেস্নখ্য, ১৯৯০ সালের ১৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ঘোষণা করে।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে