বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস আজ

বিশ্বে বছরে ৮০ লাখ মানুষের মৃতু্যর জন্য দায়ী তামাক

যাযাদি ডেস্ক
  ৩১ মে ২০২৩, ০০:০০
আইন শক্তিশালী হলেই তামাকমুক্ত হবে দেশ :প্রজ্ঞা

বিশ্বে প্রতি বছর ৮০ লাখ মানুষের মৃতু্যর জন্য দায়ী তামাক। বাংলাদেশে এই সংখ্যা ১ লাখ ৬১ হাজার। এরমধ্যে ১২ লাখ মানুষই প্যাসিভ স্মোকিং বা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়ে থাকেন। পরোক্ষ ধূমপান ৮৫ ভাগ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এমন কী নারীদের ক্যান্সার ও হৃদরোগের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা পুরুষের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। তামাক ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯ম বৃহত্তম। আর দেশের ৩৫.৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহার করেন। তামাক ব্যবহারজনিত এমন ভয়াবহ বাস্তবতার ভেতর দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হবে আজ। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে 'তামাক নয়, খাদ্য ফলান'।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১০০ কোটি মানুষ ধূমপান করে থাকেন। তাদের মধ্যে ২০ কোটি নারী। এদের মধ্যে ৭১ শতাংশেরও বেশি নারী বাংলাদেশের মতো মধ্যম ও নিম্ন আয়ের দেশে বাস করে। এসব অঞ্চলে তামাকজনিত অসুস্থতা ও মৃতু্যর ঝুঁকিও বেশি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রত্যক্ষ ঝুঁকির মতো পরোক্ষ ধূমপানেও রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। গর্ভবতী অবস্থায় পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাবে সন্তান জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মারা যাওয়া কিংবা মৃত সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে উলেস্নখযোগ্য হারে। এমনকি, মায়ের বুকের

\হদুধও কমে যায় পরোক্ষ ধূমপানের কারণে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধু নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাই নয়, তামাকজাত দ্রব্যের ওপর অধিক হারে করারোপের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ তরুণ-তরুণীকে তামাক ব্যবহার থেকে বিরত করা যাবে এবং প্রায় ৫ লাখ তরুণ-তরুণী অকাল মৃতু্যর হাত থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়াও, কার্যকর করারোপের মাধ্যমে বাড়তি প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করাও সম্ভব হবে।

শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর হলেই বাংলাদেশ তামাকমুক্ত হবে বলে মনে করে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, 'তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম বন্ধসহ একটি খসড়া সংশোধনী কেবিনেটে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। খসড়াটি যত দ্রম্নত চূড়ান্ত হবে, তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের পথ ততই ত্বরান্বিত হবে।

'গেস্নাবাল বারডেন অব ডিজিজ স্টাডি-২০১৯'র তথ্য উলেস্নখ করে জুবায়ের বলেন, 'বাংলাদেশে মৃতু্য ও পঙ্গুত্বের প্রধান চারটি কারণের একটি তামাক। তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। তবে তামাকের এই ক্ষতিকে আড়াল করতে কোম্পানিগুলো তথাকথিত সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কর্মসূচিকে (সিএসআর) প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

মঙ্গলবার প্রজ্ঞার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পৃথিবীর ১২৫টিরও বেশি দেশে প্রায় ৪ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয় এবং শীর্ষ তামাক উৎপাদনকারী দেশগুলোর অধিকাংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ভুক্ত, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

এদিকে সর্বশেষ কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ (২০২১) অনুযায়ী, বাংলাদেশে তামাক চাষে ব্যবহৃত মোট জমির পরিমাণ ৯৯ হাজার ৬০০ দশমিক ২৪ একর। তামাকের পরিবর্তে এ পরিমাণ জমিতে বোরো ধান আবাদ করলে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪২৮ মেট্রিক টন বোরো এবং গম বা আলু চাষ করলে ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৬৬ মেট্রিক টন গম বা ৮ লাখ ৫০ হাজার ৩৮৭ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন করা সম্ভব হতো। ২০২১ সালে রবি মৌসুমে বোরো, গম এবং আলুর একরপ্রতি গড় উৎপাদন ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৬৮১ কেজি, ১ হাজার ৩৩৫ কেজি এবং ৮ হাজার ৫৩৮ কেজি।

প্রজ্ঞা বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায়, জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ এবং নানাবিধ বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ কারণে বাংলাদেশের জন্য খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি ক্রমশ অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এরকম পরিস্থিতিতে তামাকের মতো একটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিধ্বংসী ফসল উৎপাদনের বিপরীতে এই বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য হারানোর ক্ষতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে 'গ্রো ফুড, নট টোব্যাকো'। বিকল্প খাদ্য ফসল উৎপাদন ও বিপণনের সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই ও পুষ্টিকর ফসল চাষে তামাক চাষিদের উৎসাহিত করা এবং তামাক উৎপাদনে কোম্পানির কূটকৌশল উন্মোচনও এবারের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে