logo
রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৫ আশ্বিন ১৪২৭

  মো. আব্দুল কাইয়ুম   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০  

রাজনীতির হালচাল

আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের কোনো স্থান নেই আনোয়ার সাদাত সম্রাট সাধারণ সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগ

বাংলাদেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। মহান মুক্তিযুদ্ধে এই জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা ছিল পাক হানাদারমুক্ত। সমতল ভূমির চা এবং বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর এখন সারাদেশের মানুষের কাছে অধিক পরিচিত। দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে এখানকার রাজনীতি ভিন্ন প্রকৃতির। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম দুটি আসনই এই জেলায়। ১,৪০৪.৬৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জেলায় লোক সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। পাঁচ গড়ের সমাহার পঞ্চগড় জেলা পাঁচটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। সংসদীয় আসন দুইটি। '৪৭-এ পাক-ভারত বিভক্তির আগে জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে চারটিই ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার অধীনে। দীর্ঘদিন ধরেই প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিভক্তি দৃশ্যমান। গমির উদ্দিন প্রধান, মির্জা গোলাম হাফিজ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামসহ দেশবরেণ্য অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জন্মস্থান এই জেলায়। বর্তমান রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজনের বাড়িও পঞ্চগড় জেলায়। জেলার প্রধান তিন দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপচারিতা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ রাজনৈতিক অবস্থা তুলে ধরেছেন

আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের কোনো স্থান নেই আনোয়ার সাদাত সম্রাট সাধারণ সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগ
আনোয়ার সাদাত সম্রাট
আওয়ামী লীগ একটি সুশৃঙ্খল দল উলেস্নখ করে পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারাদেশের মতো পঞ্চগড় জেলাতেও নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। যেকোনো সমস্যা-সংকটে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করে।

দলের গ্রম্নপিং-কোন্দল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বড় একটি দলের মধ্যে বিভেদ থাকাটাই স্বাভাবিক। পঞ্চগড়ও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সবাই ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। বিগত নির্বাচনগুলোতে দলের সভানেত্রী যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন সবাই তাকে জেতানোর জন্য একসঙ্গে কাজ করেছেন। এ ক্ষেত্রে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হয়নি।

পঞ্চগড় আওয়ামী লীগে কোনো অনুপ্রবেশকারী নেই দাবি করে আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, এখানে অনুপ্রবেশকারীদের কোনো স্থানও নেই। বর্তমানে যারা নেতৃত্বে রয়েছেন তারা সবাই দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পঞ্চগড় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সবসময় ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়। আদর্শবিচু্যত বা হাইব্রিড কেউ এখানে ঠাঁই পান না।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে উলেস্নখ করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ও উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত নয়। পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধায় স্থলবন্দর চালু হওয়ার পর থেকে চতুর্দেশীয় বাণিজ্যের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। পাশের দেশ ভারত ছাড়াও নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে এই স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট চালু হওয়ার পর থেকেই সবার কাছে বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি রুট অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আগামীতে এই স্থলবন্দর দিয়ে চীনের সঙ্গে ব্যবসাবাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার।

আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, রেলপথমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজনের প্রচেষ্টায় দেবীগঞ্জ উপজেলায় ২১৭ দশমিক ৭৮ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে অর্থনৈতিক অঞ্চল। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ হাজার দক্ষ-অদক্ষ নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই পঞ্চগড়ে গড়ে উঠেছে দেশের তৃতীয় চা-অঞ্চল। গত বছর এখানকার ১৮টি চা-কারখানায় উৎপাদিত হয়েছে ৯৬ লাখ কেজি চা। এখানকার উৎপাদিত চা দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

আনোয়ার সাদাত সম্র্রাটের বাবা মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নুরুল ইসলাম ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০০৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরেরবার ২০১৪ সালে তিনি সদর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালের কাউন্সিলে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পঞ্চগড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমানুলস্নাহ বাচ্চু মারা যাওয়ার পর উপনির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে