শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

কাজ পাচ্ছেন না ভাঙ্গার দিনমজুর হাটের শ্রমিকরা

ম ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
  ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দিনমজুরদের চলছে দুর্দিন। অনেকেই দিনমজুরের কাজ না পেয়ে কষ্টে জীবন ধারণ করছেন। প্রতিদিন ভোর না হতেই তারা এসে জড়ো হন ভাঙ্গা ইন্টার সেকশন মোড়ে। কাজের আশায় তারা প্রতিদিন ভোরে জড়ো হলেও অনেকেই কাজ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন করুণ মুখে। পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের দিন কাটছে চরম সংকটে। ভাঙ্গা বিশ্বরোড মোড়ের দিনমজুরের হাট ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় হাট। এই হাটে শ্রম বিক্রির জন্য নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী, শংকরপাশা, জয় বাংলা, ভবুকদিয়া, ভাঙ্গা উপজেলার মহেশ্বরদী, জানদী, তুজারপুর, বালিয়া, রায়পাড়া, চুমুরদী, সদরদীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে জড়ো হন। প্রতিদিন সূর্য উঠতে না উঠতে শত শত দিনমজুরের পদচারণায় মুখরিত হয় এ স্থান। যাদের প্রয়োজন, তারা এখান থেকে প্রতিদিন ভোরে দিনমজুর কিনতে চলে আসেন। দরদাম করে তারা এখান থেকে দিনমজুর কিনে নিয়ে যান। মঙ্গলবার ভাঙ্গায় দিনমজুরের হাট ঘুরে দেখা গেছে, দুই শতাধিক দিনমজুর কাজের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে বর্তমান বাজার দর খুব খারাপ। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দিনমজুরের মজুরি হার ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। পূর্বে এ হার ছিল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। যারা কাজ পাচ্ছেন, তারা হাসিমুখে গৃহকর্তার সঙ্গে চলে যাচ্ছেন গন্তব্যে। যারা কাজ পাননি তারা বিমর্ষ বদনে গৃহকর্তাদের খোঁজে অপেক্ষায় রয়েছেন। চান্দ্রা ইউনিয়নের মালিগ্রাম থেকে দিনমজুর নিতে এসেছেন গৃহস্থ আকবর মিয়া। তিনি বলেন, এখান থেকে বাছাই করে দিনমজুর নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই আমরা এখান থেকেই দিনমজুর নিয়ে থাকি। দিনমজুর ওহাব মোলস্না নগরকান্দা উপজেলার শংকরপাশা থেকে এসেছেন। তিনি বলেন, আমরা ভোর ৪টার দিকেই বাড়ি থেকে বের হন। এখানে অটো বা নসিমনে চলে আসেন। মাঝেমধ্যে প্রচন্ড কষ্ট হয়। কারণ তাদের মধ্যে বৃদ্ধ কিংবা কিশোররা অনেক দিন কাজ পায় না। তাদের পরিবার দিন শেষে তাদের খাবারের জন্য অপেক্ষা করে। বাজার করে নিয়ে যাওয়ার পরে তাদের ঘরে রান্না হয়। যেদিন কাজ থাকে না, সেদিন প্রচন্ড কষ্ট নিয়ে তাদের ঘরে ফিরতে হয়। বর্তমানে শ্রমের বাজার খুব খারাপ। প্রতিদিন ৩০০ কিংবা ৪০০ টাকার মধ্যে শ্রম বিক্রি হয়। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম খুব বেশি। এ টাকায় সংসার চালানো কষ্ট। দিনমজুর হাটে নগরকান্দার জয় বাংলা থেকে এসেছেন সিদ্দিক শেখ। তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের অনেককেই ফেরত যেতে হয়। কাজের চাপ কম। আশ্বিন মাস তাদের জন্য সমস্যা। এই মাসে কাজের চাপ খুব কম। জমিতে ধান লাগানো হয়ে গেছে। পাট কাটা শেষ। শুধু নিড়ানি ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। গৃহস্থদের বাড়িতে টুকিটাকি কাজ এ মাসে করার একমাত্র অবলম্বন। তাই আশ্বিন মাস তাদের কাছে বিপদের মাস। ভাঙ্গার দিনমজুরের হাট ৩০ থেকে ৪০ বছরের পুরনো। এই হাটে উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ছাড়াও পাশের মুকসুদপুর, রাজৈর এবং শিবচর এলাকার লোকজন দিনমজুর নিতে এ হাটে আসেন। এ হাটকে ঘিরে সকালে বসে বিভিন্ন দোকান। কেউবা খিচুড়ি বিক্রি করছে, কেউ রুটি তৈরি করছে, কেউ বা চা বিক্রি করছে। আবার কেউ বা কোদাল এবং ঝুড়ি ভাড়া দিচ্ছে। প্রতিদিন সকালে প্রচুর লোকের সমাগম ঘটায় এখানের ব্যবসায়ীরাও খুশি।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে