বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১

আশাশুনিতে ঝড়ে বিধ্বস্ত প্রাইমারি স্কুল ক্লাস চলছে মাঠে

আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
  ১৫ জুন ২০২৪, ০০:০০
আশাশুনিতে ঝড়ে বিধ্বস্ত প্রাইমারি স্কুল ক্লাস চলছে মাঠে

প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় রেমালের তান্ডবে আশাশুনির বৈকরঝুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ঘরের টিনশেড তছনছ হয়ে গেছে। কক্ষ সংকটে স্কুলের মাঠে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

এলাকার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের বৈকরঝুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৩৫০ জন। পড়ালেখার মানও যথেষ্ট উন্নত। নিয়মিত ক্লাস পরিচালনাসহ শিক্ষার মান উন্নয়নে পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকরা নানা ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় রেমালের তান্ডবে স্কুলের একটি ভবনের টিনশেড তছনছ হয়ে যাওয়ায় সেখানে ক্লাস পরিচালনা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। ভবনটিতে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস বসত। টিনশেড তছনছের পর থেকে বাধ্য হয়ে ওই শ্রেণির ৬১ জন ছাত্রছাত্রী ও প্রাক-প্রাথমিকের ৩০ ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে স্কুলের মাঠে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নিতে হচ্ছে- যা অতীব অমানবিক এবং বর্ষা মৌসুম আসলে ক্লাস বন্ধ হয়ে যাবে। কেননা স্কুলের মাঠ বর্ষার সময় নিমজ্জিত হয়ে যায়। তখন বর্ষা হলে যেমন ক্লাস করানো সম্ভব নয়, তেমনি নিমজ্জিত মাঠে খোলা আকাশের নিচেও ক্লাস করা যাবে না।

প্রধান শিক্ষক সাকিলা খাতুন জানান, স্কুলের পুরাতন ভবনটি নিলামে বিক্রির পর ২০২০ সালে সয়েল টেস্ট করা হয়েছিল। তখন একটি নতুন ভবন অনুমোদন হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও নতুন ভবন নির্মাণের কোনো লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। কবে নাগাদ নতুন ভবন হবে সেটি বলাও মুসকিল। তাই বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়টির ক্লাস পরিচালনা ভেস্তে যেতে বসেছে। এনিয়ে শিক্ষক, পরিচালনা কমিটি, অভিভাবকরা বেশ হতাশায় ভুগছেন। তাদের দাবি বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। সেই সঙ্গে শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের টিনশেড সংস্কারে জোর আবেদন জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন বর্মণ জানান, টিনশেড উড়ে যাওয়ায় মেরামতের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলে টিনশেড সংস্কার করে পাঠদানের উপযোগী করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে