তরুণীদের সঙ্গে আড্ডার লোভ কোটি টাকা হাতিয়েছে চক্রটি

তরুণীদের সঙ্গে আড্ডার লোভ কোটি টাকা হাতিয়েছে চক্রটি

লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপ 'স্ট্রিমকার'। দেশে অবৈধ হলেও নানা পন্থায় দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হয় অ্যাপসটি। এই অ্যাপসের মাধ্যমে সুন্দরী তরুণীদের সঙ্গে অনলাইনে আড্ডার লোভ দেখানো হতো যুবক এবং বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের। আর আড্ডায় অংশ নিতে উপহার দিতে হতো বিন্স ও জেমস নামের দুটি ডিজিটাল মুদ্রা। তবে নামে ডিজিটাল হলেও সেগুলো কিনতে হতো নগদ টাকায়। আর এভাবেই অনলাইনে মানুষকে ফাঁদে ফেলে গত এক বছরে ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক চক্র। এই চক্রের ২ সদস্যকে সিলেটের গোয়াইনঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নিধু রামদাস (২৭) ও মো. ফরিদ উদ্দিন (৪০)। এ সময় তাদের কাছ থেকে লেনদেনে ব্যবহার করা ব্যাংক চেক বই, ডেবিট কার্ড, বিকাশ একাউন্ট নম্বর এবং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে মালিবাগ সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির সাইবার ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কামরুল আহসান। তিনি বলেন, এই পস্ন্যাটফরমে বিভিন্ন অপরাধ পরিচালিত হওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে সাইবার পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিল। এই অনুসন্ধানে ১৫টি ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য পায় সাইবার পুলিশ। গত ১৯ মে এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে এদের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করা হয়। যা সাইবার পুলিশ সেন্টার তাদের অধীনে নেয়। এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও আগের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) বুধবার রাতে সিলেটের গোয়াইনঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিধু রাম দাস ও ফরিদ উদ্দিনকে আটক করে। অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কামরুল আহসান বলেন, ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে 'স্ট্রিমকার' নামের অ্যাপটিতে সংযুক্ত হতেন ব্যবহারকারীরা। এ অ্যাপে দু'ধরনের আইডি রয়েছে। ইউজার বা ব্যবহারকারীর আইডি ও হোস্ট আইডি। হোস্ট আইডি ব্যবহার করে বিশেষ কিছু চক্র এক ধরনের অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করে। সেখানে তরুণীদের হোস্টিং করিয়ে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ উপার্জন করা হয়। লাইভ স্ট্রিমিংয়ে তাদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার প্রলোভনে অ্যাপে প্রবেশ করেন সাধারণ ব্যবহারকারীরা। তার জন্য বিন্স ও জেমস নামে ভার্চুয়াল মুদ্রা কিনতে হয়। সেই মুদ্রা উপহার হিসেবে দিয়ে আড্ডায় যুক্ত হন ব্যবহারকারীরা। এক লাখ বিন্স এক হাজার ২০ টাকা ও এক লাখ জেমস ৬০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। আর এই টাকা সংগ্রহ করা হয় বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে। তিনি আরও বলেন, বিশেষ ওই অ্যাপটির অনেক এজেন্ট রয়েছে বাংলাদেশে। তারাই ডিজিটাল বা ভার্চুয়াল মুদ্রা কেনাবেচা করেন। এজেন্টরা তা কিনে নিত বিদেশি অ্যাপের অ্যাডমিনদের কাছ থেকে। এজেন্টদের থেকে লক্ষাধিক বাংলাদেশি ব্যবহারকারী অনলাইন ব্যাংকিং, হুন্ডি, নেটেলার স্ক্রিল ও বিদেশি একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ডিজিটাল মুদ্রা কিনছে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে। সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, স্ট্রিমকার পরিচালনায় জড়িত প্রত্যেকের একাধিক ব্যাংক ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট রয়েছে। গ্রেপ্তার নিধু রাম দাসের ব্যাংক ও বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গত এক বছরে ১০ কোটিরও বেশি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যজন ফরিদ উদ্দিনের ব্যাংক ও বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রায় তিন কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে এবং তাদের ব্যাংক ও বিকাশ অ্যাকাউন্টে গত এক বছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকারও বেশি লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন, বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর, বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আবুল কালাম আজাদ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে