দাকোপে বাঁশ ও বেত শিল্পের চরম দুর্দিন

দাকোপে বাঁশ ও বেত শিল্পের চরম দুর্দিন
দাকোপের পানখালীতে ঝুড়ি তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা -যাযাদি

খুলনার দাকোপে প্রায় বিলুপ্ত বাঁশ ও বেত শিল্পের কারিগরদের দুর্দিন এখন চরমে। মহামারি করোনার প্রভাবে হাট-বাজারে কেনাবেচা কম এবং পণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তারা পড়েছেন বিপাকে। এখন পর্যন্ত তারা পাননি কোনো সরকারি সহায়তা। ফলে পরিবার নিয়ে অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা। জানা গেছে, এক সময় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৩০০ পরিবার বাঁশ ও বেত শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নিজের তৈরি উন্নতমানের ধামা, কুলা, ঢোল, ডালা, চাঁটাই, খাড়ই, হাঁড়ি, চেয়ার, পলো, চালন, মোড়া, ঝুড়ি, খাদি, বুকসেলফ, কলমদানিসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা। তখন ঘরে ঘরে এই পণ্য সামগ্রীর কদরও ছিল বেশি। যে কারণে বাজারেও এসব পণ্যের চাহিদার পাশাপাশি অনেক মানুষ বাড়িতে গিয়ে অর্ডার দিতেন। এতে তাদের জীবন-যাপনও স্বাচ্ছন্দ্যময় ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে এখন আর এ পণ্যের ব্যবহার বিশেষ চোখে পড়ে না। তাই বাঁশ ও বেত শিল্পের কারিগররা তাদের পৈতৃক পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাস রোধে লকডাউনে বাজার বন্ধ থাকায় এসব পরিবারে নেমে এসেছে চরম অভাব অনাটন। উপজেলার পানখালী এলাকার পঞ্চানন দাস, পাগল দাস, নিতাই দাসসহ আরও অনেকে জানান, আগে এলাকায় প্রচুর বেত উৎপাদন হতো। যা কম দামে পাওয়া যেত। এখন বেত নেই বললেই চলে। দূরদূরান্ত থেকে অনেক চড়া দামে বেত কিনে আনতে হয়। বর্তমানে বেতের তৈরি মাঝারি ধরনের একটি ধামার দাম ১৫শ' থেকে ১৬শ' টাকা। প্রয়োজন থাকলেও এত বেশি দামে অনেকেই পণ্য কিনতে চান না। তারা আরও জানান, মাত্র কয়েক বছর আগেও এ অঞ্চলে বাঁশ সহজলভ্য ছিল। ৮০ থেকে ১২০ টাকায় একটি বাঁশ কেনা যেত। এখন একটি বাঁশের দাম ২শ' থেকে ৩শ' টাকা। কিন্তু সে অনুপাতে বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। পাশাপাশি পস্নাস্টিকের তৈরি পণ্যের কারণে এগুলোর চাহিদাও কমে গেছে। যে কারণে অনেকে পেশাও বদল করছেন। তাদের দাবি ব্যাংক ঋণ, আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি উপকরণ সরবরাহের ব্যবস্থা করলে এ শিল্পটাকে একমাত্র অবলম্বন করে টিকে থাকা এখনও সম্ভব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে