খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ

কাল বিএনপির কর্মসূচি
খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৭৮তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৫ সালের এ দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন বলে দাবি করা হয়। বর্তমানে তিনি অসুস্থ হয়ে গুলশানের বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত কয়েক বছরের মতো এবারও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়েই দলীয় প্রধানের জন্মদিন পালন করবে বিএনপি। রোববার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, 'দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার রোগমুক্তি ও সুস্থতা এবং দেশব্যাপী চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা নিহত হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত ও যারা আহত হয়েছেন তাদের সুস্থতা কামনায় ১৬ আগস্ট মঙ্গলবার দেশব্যাপী মহানগর-জেলা-উপজেলা ও থানা পর্যায়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন তিনি।

এদিকে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের দিনে জন্মদিন পালনের বিতর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে গত কয়েক বছরের মতো এবারেও জন্মদিনের কেক কাটার মতো কর্মসূচি পালন করবে না বিএনপি।

খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে বিতর্ক আছে। ২০১৬ সাল থেকে মূলত তার জন্মদিন পালনের নিয়মে পরিবর্তন আসে। ওই বছর থেকেই তিনি আর কেক কাটেন না কিংবা ঘটা করে দিবসটি পালনও করেন না। কেক কাটার পরিবর্তে মিলাদ মাহফিল ও জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। ২০১৮ সাল পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত ছিল। তবে ২০১৯ সাল থেকে ১৫ আগস্টের পরিবর্তে ১৬ আগস্ট মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ বছরও গত বছরের মতো কর্মসূচি পালন করা হবে।

খালেদা জিয়ার পৈতৃক বাড়ি ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। তার বাবা এস্কান্দার মজুমদার বড় চাকরিজীবী ছিলেন। মা তৈয়বা মজুমদার ছিলেন দিনাজপুরের চন্দনবাড়ির মেয়ে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে খালেদা জিয়া তৃতীয়। ১৯৬০ সালের আগস্টে বগুড়ার ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

খালেদা জিয়ার দুই সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে তারেক রহমান বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন এবং ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মারা গেছেন। তারেক রহমানের ঘরে তার এক নাতনি জাইমা ও আরাফাত রহমান কোকোর ঘরে জাফিয়া ও জাহিয়া নামে দুই নাতনি রয়েছেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে বিপথগামী সৈন্যদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন। এর পরপরই জিয়াউর রহমানের গড়া বিএনপির রাজনীতিতে আগমন ঘটে খালেদা জিয়ার। দলের নেতাকর্মীদের দাবির মুখে ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হন। '৮৩ সালের মার্চে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং '৮৪ সালের ১২ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের দায়িত্ব নেন। এরপর ১৯৮৪ সালের ১ মে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী দীর্ঘ আপসহীন আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এ পর্যন্ত তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন খালেদা জিয়া। ১৯৯৩ সালে তিনি সার্কের প্রথম মহিলা চেয়ারপারসন হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট নির্বাচনে জয়লাভের পর তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে। ওয়ান-ইলেভেনের পর মঈন-ফখরুদ্দিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে কারাবন্দি করে। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারাভোগ করেন তিনি। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার অনড় মনোভাবের কারণে 'মাইনাস টু ফর্মুলা' থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকার। পরে তারা নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেয়। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়। সেই থেকে সরকারি দলের দমনপীড়ন ও হামলা-মামলার বৃত্তে বন্দি দেশের অন্যতম বৃহৎ এই রাজনৈতিক দল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে দলটি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রম্নয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা হয় খালেদা জিয়ার।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে