শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

শোকর্ যালিতে ব্যাপক জনসমাগম

স্বৈরাচার পতনের মিছিলে মানুষ বাড়ছে -মির্জা ফখরুল
ম যাযাদি রিপোর্ট
  ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
সারা দেশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত শোকর্ যালিতে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা -যাযাদি
দলের পাঁচ নেতা হত্যার প্রতিবাদে শোকর্ যালিতে হাজার হাজার নেতাকর্মীর সমাগম ঘটিয়ে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির জানান দিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোকর্ যালির আয়োজন থাকলেও সকাল থেকে কালো পতাকা হাতে সেখানে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকে। দুপুরের পর নেতাকর্মীদের ভিড়ে বিজয়নগর নাইটেঙ্গল মোড় থেকে আরামবাগ পর্যন্তর্ যালির পরিধি ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিএনপি নেতারা শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে সরকারের পতন ঘটিয়ে বাড়ি ফেরার ঘোষণা দেন। আর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা বেড়েছে। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের মিছিলে মানুষও বাড়ছে। জ্বালানি তেল ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ভোলায় নুরে আলম, আব্দুর রহিম, নারায়ণগঞ্জের শাওন প্রধান, মুন্সীগঞ্জের শহীদুল ইসলাম শাওন ও যশোরের আব্দুল আলিম হত্যার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই শোকর্ যালির আয়োজন করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টন এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। এ সময়ে কালো পতাকা নেতাকর্মীরা সরকার বিরোধী বিভিন্ন স্স্নোগান দিতে থাকেন। শোকর্ যালিটি কাকরাইলের নাইটেঙ্গল রেস্তোরাঁর মোড় হয়ে নয়াপল্টনের সড়ক দিয়ে আরামবাগ মোড় ঘুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। শোকর্ যালির আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা চরমে। তাদেরকে আর সময় দেওয়া যায় না। তারা এখন জাতির জন্যে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, মানুষ জেগে উঠেছে, তরুণ-যুবকরা জেগে উঠেছে। প্রতিদিন এই স্বৈরাচারী সরকারের পতনের লক্ষ্যে মিছিলে মানুষ বাড়ছে। অনেক রক্ত দিয়েছি, আরও রক্ত দেব। সামনের দিকে এগিয়ে যাব, পেছনে ফিরব না। এই সরকারকে বাধ্য করব পদত্যাগ করতে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে। সংসদ বিলুপ্ত করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটে নতুন পার্লামেন্ট গঠন করে নতুন সরকার গঠন করা হবে, জনগণের সরকার গঠন করা হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার সঠিক তথ্য আড়াল করার উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ যাতে সঠিক তথ্য জানতে না পারে, গণমাধ্যম যেন এই সরকারের দুর্নীতি প্রকাশ করতে না পারে তার জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে ২৯টি বিভাগকে তথ্য প্রদানে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। রাজবাড়ীতে মহিলা দলের একজন নেত্রীকে মধ্যরাতে গ্রেপ্তারের ঘটনায় কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এদের অত্যাচারের মাত্রা কোন জায়গায় গেছে যে, তারা একজন নারীকে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে গভীর রাতে গিয়ে গ্রেপ্তার করে। ওই নেত্রীর দুইটা বাচ্চা আছে। তার অপরাধ হচ্ছে সে সামাজিকমাধ্যমে লিখেছে এই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। আপনি কি গড, বিধাতা যে আপনার বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না। গণতান্ত্রিক দেশে যে কারো সমালোচনা করার অধিকার আছে। সেই বোন সেই কাজটি করেছে। তিনি বলেন, আজকে দেশের অস্তিত্বের জন্যে, জনগণের বাঁচার জন্য, এই জাতিকে রক্ষা করার জন্য, এই ফ্যাসিবাদী সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার বিকল্প নেই। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, এই শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়ে ইনশালস্নাহ নেতাকর্মীরা ঘরে ফিরবে। এর আগে নয়। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু ও আমিনুল হকের সঞ্চালনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উলস্নাহ আমান ও দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম বক্তব্য রাখেন। র্ যালিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ, কামরুজ্জামান রতন, সরাফত আলী সপু, শামীমুর রহমান শামীম, মীর নেওয়াজ আলী, সাইফুল আলম নিরব, সেলিম রেজা হাবিব, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোনায়েম মুন্না, মামুন হাসান, ইসহাক সরকার, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানি, রাজীব আহসান, ইয়াসীন আলী, কৃষক দলের শহীদুল ইসলাম বাবুল, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিমসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে