বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯
walton1
অভিভাবক পরিচয়ে সম্পর্ক

গোপন সমস্যা সমাধানে অভিনব প্রতারণা

যাযাদি রিপোর্ট
  ০৩ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
প্রথমে অভিভাবক সেজে স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের অভিভাবকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। এরপর খাতির জমিয়ে মেয়েদের গোপন সমস্যা নিয়ে কথা বলতেন। পাশাপাশি গোপন সমস্যার সমাধানে কবিরাজি চিকিৎসা ও তাবিজ ধারণে প্রলুব্ধ করতেন এসব নারী। আগ্রহীদের সঙ্গে প্রতারণা করে তাদের কাছ থেকে কৌশলে হাসিতে নিতেন টাকা ও স্বর্ণালংকার। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাপড়ুয়া উঠতি বয়সি শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে এসব নারী কাজ করতেন। এই চক্রের মূল হোতা ভুয়া কবিরাজ ওয়াস কুরুনীকে গ্রেপ্তার করে এসব তথ্য জানতে পেরেছের্ যাব-৩। বুধবার সকালে রাজধানীর টিকাটুলীর্ যাব-৩-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের্ যাব অধিনায়ক আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকা থেকে ওয়াস কুরুনীকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে পাগড়ি, সোনার হার, সোনার চেইন, কানের দুল, মাথার টিকলি, মাথার চুল, ৫টি সাপ, মন্ত্র লেখা কাগজ, তাবিজের খোসা, বনাজি কাঠের লাঠি, ২টি হরিণের চামড়া, বিভিন্ন ধরনের বনজ গাছগাছালি উদ্ধার করা হয়। আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ?'ওই নারী এজেন্ট ছাড়াও তার আরও ২০ থেকে ২২ জন নির্বাচিত এজেন্টের খোঁজ পাওয়া গেছে। এসব এজেন্টের কাজ হলো এসব পোস্ট বারবার শেয়ারের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া। পরে আগ্রহীদের প্রতারণার শিকার বানিয়ে তাদের কাছ থেকে কৌশলে টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়া। চক্রটির মূল হোতা ওয়াস কুরুনীর বিকাশ নম্বরে অর্থের লেনদেন করে থাকে। এ ছাড়া কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়।' অধিনায়ক বলেন, 'ভন্ড কবিরাজ ওয়াস কুরুনীর তিনটি বেনামি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। কবিরাজ আলী আশরাফ, তান্ত্রিক কবিরাজ এবং হুমায়ুন আহমেদ নামে দিয়ে এসব পরিচালনা করতেন।' এরা ফেসবুকের অ্যাকাউন্টগুলোয় উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েদের গোপন রোগের চিকিৎসা, দাম্পত্য জীবনের সমস্যা, বিয়ে না হওয়া, প্রেমে ব্যর্থতা, চাকরি না পাওয়া, জমিজমার ঝামেলা, কাউকে বশ করার প্রবণতা, বাণ মারার শক্তিশালী মন্ত্র, মামলায় জয়ী হওয়ার মন্ত্র, বিবাহের প্রস্তাব আসার তাবিজ, প্রেম সফল করার তাবিজ, বিয়ে বন্ধ করার তাবিজ ইত্যাদি বিষয়ে পোস্ট করতেন প্রতারণার উদ্দেশ্যে। র্ যাব কর্মকর্তা বলেন, 'এজেন্টরা ভুক্তভোগীদের প্রলুব্ধ করার পর ওয়াস কুরুনীর কাজ ছিল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। কোনো ব্যক্তি প্রলুব্ধ হলেই ওয়াস কুরুনীর মোবাইল নম্বর দিত তার এজেন্টরা। তখন ভুক্তভোগীদের সঙ্গে তিনি ফোনে কথা বলতেন। এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অ্যাপসে চ্যাটিং ও ভয়েস কল করে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিতেন।' প্রাথমিকভাবে তিনি জিন চালানের মাধ্যমে ওষুধ প্রদান এবং গায়েবি চিকিৎসা শুরু করতে দুর্লভ উপাদান সংগ্রহের জন্য টাকা নিতেন। তখন ভুক্তভোগীরা তাকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিতেন। চিকিৎসায় কাজ না হওয়ার অভিযোগ এলে জিনের মাধ্যমে দ্রম্নত সঠিক চিকিৎসা হবে বলে জিনকে উপহার দেওয়ার কথা বলতেন। এভাবে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সম্পদ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে নিতেন তিনি। তিনি কখনো কোনো ভুক্তভোগীর সঙ্গে দেখা করতে চাইতেন না। নারী ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অধিক অর্থ আদায়ের জন্য আগে রেকর্ডকৃত অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখাতেন। তখন ভুক্তভোগীরা নিরুপায় হয়ে তার চাহিদামতো টাকা পাঠাতেন। র্ যাব কর্মকর্তা জানান, ওয়াস কুরুনী মাদ্রাসা থেকে হেফজখানা পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। তিনি ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়স থেকে কবিরাজি পেশা শুরু করেন। প্রথমে যাত্রীবাহী বাসে তাবিজ বিক্রি ও বশীকরণের বই বিক্রি করতেন। এরপর ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে ও বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে সহজ-সরল নারী-পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রতারণা করে অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ শুরু করেন। তিনি চার বছর আগে মুন্সীগঞ্জ লৌহজং এলাকায় বিয়ে করে সেখানেই বসবাস করছিলেন। প্রতারণার কাজে তার স্ত্রী তাকে সহায়তা করতেন। তার বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ লৌহজং থানায় প্রতারণার মামলা হয়েছে।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে