বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯
walton1

রাজশাহীতে ৮ শর্তে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি

রাজশাহী অফিস
  ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
আট শর্তে আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ ও মাইক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে অনুমোদন ও শর্তগুলোর বিষয়ে জানানো হয়েছে। সমাবেশের জন্য আবেদনকারী বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর নামে পুলিশের পক্ষ থেকে এই চিঠি ইসু্য করা হয়। তবে ১ ডিসেম্বর থেকেই মাদ্রাসা মাঠ ব্যবহারের অনুমতি পাওয়ার কথা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দলটিকে জানানো হয়েছে বলে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মামুন জানিয়েছেন। এদিকে, সমাবেশের আগেই দূর থেকে এসেছেন নেতাকর্মীরা। তাদের থাকার জন্য মাঠের পাশেই একটি জায়গায় প্যান্ডেল তৈরির চেষ্টা করা হয়। তবে মঙ্গলবার পুলিশ তা ভেঙে ফেলে। মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রফিকুল আলম বলেন, আট শর্তে গণসমাবেশ ও মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শর্তাবলি যথাযথভাবে পালন না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশের দেওয়া শর্তগুলো হলো ১। মাদ্রাসা ময়দান চত্বরের মধ্যে সমাবেশের যাবতীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। সমাবেশস্থলের আশপাশসহ রাস্তায় কোনো অবস্থাতেই সমাবেত হওয়া এবং যান ও জন চলাচলে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। নিরাপত্তার জন্য সমাবেশে আগতদের চেকিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে। ২। দেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব ও সামাজিক-ধর্মীয় মূল্যবোধ, রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়- এমন কোনো কার্যকলাপ এবং উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান ও প্রচারপত্র বিলি করা যাবে না। ৩। সমাবেশে আসা-যাওয়ার পথে শোভাযাত্রা ও মিছিল করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এরূপ কার্মকান্ড করা যাবে না। ব্যানার-ফেস্টুন ও পতাকাতে কোনো লাঠি-সোঠা ও রড ব্যবহার করা যাবে না। ব্যানার-ফেস্টুন ইত্যাদির ব্যবহার সীমিত করতে হবে। ৪। আজান, নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় সংবেদনশীল সময় মাইক/শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। ধর্মীয় অনুভূতির উপর আঘাত আসতে পারে- এমন কোনো বিষয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন, বক্তব্য প্রদান বা প্রচার করা যাবে না। ৫। আগামী ০৩/১২/২০২২ তারিখ সমাবেশ শুরুর পূর্বে সমাবেশস্থলে প্রবেশ কিংবা অবস্থান করতে পারবে না। সমাবেশের যাবতীয় কার্যক্রম ঐদিন ১৪.০০ ঘটিকায় শুরু করে ১৭.০০ ঘটিকায় শেষ করতে হবে। সমাগত নেতাকর্মীরা যাতে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে দায়িত্বশীল নেতা বা আয়োজকদের সেই দায়িত্ব নিতে হবে। ৬। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সমাবেশস্থলের অভ্যন্তরে ও বাইরে উন্নত রেজু্যলেশনযুক্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। সমাবেশস্থলের বাইরে বা সড়কের পাশে প্রজেক্টর/ মাইক/সাউন্ড বক্স ব্যবহার করা যাবে না। সমাবেশস্থলে ইন্টারনেট সংযোগ, ব্রডব্যান্ড ব্যবহার করা যাবে না। ৭। যানবাহনসমূহ শহরের ভেতরে প্রবেশ করানো যাবে না। রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশের কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকতে হবে। পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিং করতে হবে। মূল সড়কে কোনো পার্কিং করা যাবে না। ৮। এই অনুমতিপত্র স্থান ব্যবহারের অনুমতি নয়। স্থান ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অনুমোদন নিতে হবে। জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে অনুমতি আদেশ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে তাদের জানানো হয়েছে ১ ডিসেম্বর থেকে তারা গণসমাবেশের জন্য মাদ্রাসা মাঠ ব্যবহার করতে পারবে। এর আগে তারা ওই মাঠ বা তার আশপাশের এলাকায় কোনো কার্যক্রম চালাতে পারবেন না। মামুনুর রশিদ আরও জানান, গত অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি বিএনপির পক্ষ থেকে রাজশাহী বিভাগীয় গণসমাবেশের জন্য মাঠ চেয়ে আবেদন করা হয়। তারা রাজশাহী নগরের মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশের জন্য আবেদন করেন। মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসক ১ ডিসেম্বর থেকে তাদের মাঠ ব্যবহার অনুমতি দেন। তবে সমাবেশ ও মাইক ব্যবহারের জন্য রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের অনুমতি এখনো মেলেনি। রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, হাজী মুহম্মদ মহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এখনো পরীক্ষা চলছে। তিনি ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি। পরীক্ষা চলাকালে তিনি ওই মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারেন না। এ জন্য পরীক্ষা শেষ হলে ১ ডিসেম্বর থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া বিএনপি শুধু ৩ ডিসেম্বর মাঠ ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে। এদিকে, সমাবেশের আগেই দূর থেকে আসা নেতাকর্মীদের বিশ্রাম ও রাতযাপনের জন্য মাঠের পাশে একটি জায়গায় সোমবার থেকে প্যান্ডেল তৈরি করা হচ্ছিল। মঙ্গলবার পুলিশ তা ভেঙে দিয়েছে। বিএনপির গণসমাবেশের জন্য চাওয়া মাঠের পাশে নির্মাণাধীন এই প্যান্ডেলে চার-পাঁচ হাজার নেতা-কর্মীর থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। প্যান্ডেল তৈরির কাজে নিয়োজিত ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আবদুস সালাম বলেন, তাকে এই প্যান্ডেল করার জন্য রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেনের ব্যক্তিগত সহকারী বিপস্নব দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সোমবার সারা দিন এই জায়গাটায় মাটি ফেলে ঠিক করা হয়েছে। সারা দিন বাঁশ বাঁধার কাজ করেছি। কাজ করার সময় রাজপাড়া থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান এসে দেখেছেন। কিন্তু তাকে কিছুই বলা হয়নি। তখন নিষেধ করলে আমরা কাজ করতেন না। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওসি এসে প্যান্ডেলের বাঁশ খুলে ফেলতে বাধ্য করেন। রাজপাড়া থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তারা (বিএনপি) যে মাঠের অনুমতি নিয়েছে, তাদের যা করার সেখানেই করতে হবে। অনুমোদিত জায়গার বাইরে তারা কিছু করতে পারবে না। এদিকে, আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ উপলক্ষে বিভিন্ন জেলায় দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার করে পুলিশি হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে এ দাবি জানান তারা। মহানগরীর মালোপাড়ায় দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও গণসমাবেশ কমিটির সমন্বয়ক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া নতুন করে শতাধিক মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সমাবেশে যেন নেতাকর্মীরা আসতে না পারে সে জন্য ১ ডিসেম্বর থেকে রাজশাহী বিভাগে পরিবহণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ধর্মঘটের কারণে আগে থেকেই সমাবেশে আসতে চাইলে নেতকার্মীদের থাকার ব্যবস্থা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এর পরও যে কোনো মূল্যে এই সমাবেশ সফল করা হবে বলে জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত, বিএনপির নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও রাসিকের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিএনপি নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মামুন প্রমুখ।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে