এবার চিনির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের

এবার চিনির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের

ডলারের দাম বেড়ে আমদানি মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে চিনির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে আমদানি শুল্ক মওকুফ এবং ব্যাংক রেটে ডলার চেয়েছে সংগঠনটি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব গোলাম রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের বরাবর পাঠানো হয়েছে। তবে নতুন মূল্য কত হতে পারে সে ব্যাপারে কোনো সুপারিশ করা হয়নি।

চিনি রিফাইনার্স সমিতির চিঠিতে বলা হয়, চিনির রিফাইনারিগুলো বিলম্বে মূল্য পরিশোধের সুবিধা নিয়ে ঋণপত্র খোলার পর মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে ডলারের বিপরীতে অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে বিপুল লোকসান হচ্ছে কোম্পানিগুলোর। অপরিশোধিত চিনি আমদানির জন্য যখন ঋণপত্র খোলা হয়, তখন ডলারের দাম ছিল ৮৩-৮৫ টাকা। কিন্তু এখন ওইসব এলসির মূল্য পরিশোধের সময় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের কাছ থেকে প্রতি ডলার ১১৫ টাকা হারে বিনিময়মূল্য আদায় করছে। এতে চিনি আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে বাড়তি অর্থ।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আগে যেখানে প্রতি টন চিনি আমদানিতে শুল্ক ছিল ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা এখন দিতে হচ্ছে ২৮ থেকে ২৯ হাজার টাকা। এতে পরিশোধনের পর প্রতি টন চিনির মিলগেট দাম দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ থেকে ১ লাখ পাঁচ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতি টন চিনির মিলগেট মূল্য ৭৮ হাজার ৩০০ থেকে ৭৮ হাজার ৮৪০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। অন্যদিকে নতুন আমদানি শুল্ক অনুযায়ী প্রতি মণ চিনির মিলগেট মূল্য দাঁড়াচ্ছে ৩ হাজার ৭০৩ টাকা থেকে ৩ হাজার ৮৮৮ টাকা। অথচ বর্তমানে প্রতি মণ চিনি ২ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৯২০ টাকায় নির্ধারিত আছে। এই পরিস্থিতিতে খরচ অনুযায়ী দাম না বাড়ালে কারখানাগুলো 'দেউলিয়া' হয়ে যাবে বলে চিঠিতে উলেস্নখ করেছে সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

এছাড়া চিনির মূল্যবৃদ্ধি ছাড়াও ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে ডলারের মূল্য নির্ধারণ, পর্যাপ্ত ডলার সরবরাহ ও আমদানি শুল্ক মওকুফের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সবশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি চিনির খুচরা মূল্য ৭৪ টাকা থেকে ৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত দুই মাসে বাজারে একটু একটু করে চিনির দাম বাড়ছিল। টিসিবির শুক্রবারের তথ্য মতে, গত দুই দিনে বাজারে খোলা চিনির দাম কেজিতে ৩ টাকা করে বেড়েছে। গত সপ্তাহে চিনি প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে ৮২ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছিল, এখন সেটা ৮২ টাকা থেকে ৮৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য মতে, দেশে বছরে প্রায় ১৮ লাখ টন পরিশোধিত চিনির প্রয়োজন হয়। এর প্রায় ৯৮ শতাংশ করা হয় আমদানি। এসব চিনির বেশিরভাগই আসে ব্রাজিল থেকে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে