বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯
walton1

পর্যটক মুখর তেঁতুলিয়া

আবাসিকে মিলছে না রুম, তাবু টানিয়ে রাত যাপন
তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি
  ৩১ অক্টোবর ২০২২, ১৪:৪৯
আপডেট  : ৩১ অক্টোবর ২০২২, ১৪:৫১

বিনা পাসপোর্ট-ভিসায় দেশের মাটি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্যরূপ দেখতে পর্যটক মুখরিত হয়ে উঠেছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। ধর্মীয় উৎসবসহ সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় চলতি অক্টোবর থেকে পর্যটকদের ঢল নেমেছে এ এলাকায়। হেমন্ত ঋতুতে হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে প্রতিদিন তেঁতুলিয়ায় ছুটে আসছেন শতশত পর্যটক। এসব পর্যটকরা আবাসিকে রুম পাচ্ছেন না হতাশা প্রকাশ করেছেন। হোটেলগুলোতে কাংখিত রুম না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে তাবু গেড়ে রাত্রি যাপন করতে দেখা যায়।

 

রবিবারের মতো সোমবার সকাল থেকেও উত্তরের নীলাকাশ জুড়ে শুভ্রতার রূপ ছড়াচ্ছে পৃথিবীর সুউচ্চ তৃতীয় পর্বতশৃঙ্ঘ কাঞ্চনজঙ্ঘা। তা দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। তারা শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘাই দেখছেন না। তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান হিসেবে সমতলের চা বাগান, বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট, স্থলবন্দর-ইমিগ্রেশন, দু’দেশের সীমান্ত প্রবাহিত মহানন্দা নদীতে দলবাধা শ্রমিকদের পাথর উত্তোলন, পড়ন্ত বিকেলে সূর্যাস্ত উপভোগ, সন্ধ্যায় নদীর কিনারে ডাকবাংলোয় দাঁড়িয়ে বসে উত্তর প্রান্তের পাহাড়ের ঢালে ঘর-বাড়ি, সাপের মতো আকাবাকা সড়কে গাড়ি চলাচল, ইতিহাস-ঐতিহ্য, পুরার্কীতি দর্শনসহ নানান দর্শনীয় স্থান উপভোগ করছেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর আবাসিকে রুম না পাওয়ায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের।

উপজেলা শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ব্রহ্মতোল এলাকায় স্থানীয় মকসেদুল ইসলামের আম বাগানে তাবু টানিয়ে রাত্রি যাপন করেছেন ঢাকা ও চাঁদপুর থেকে আসা বেশ কয়েকজন পর্যটক। তারা জানান, কাঞ্চনজঙ্ঘাসহ এ অঞ্চলের দর্শনীয়স্থান সমূহ আমাদের খুব মুগ্ধ করেছে। তবে দু:খের বিষয় যে, গতকাল এসে এখানে আবাসিক হোটেলগুলোতে কোন রুম না পাওয়ায় গ্রামের এক নিবির নিরিবিলি স্থানে তাবু টাঙ্গিয়ে রাত্রি যাপন করেছেন।

 

জানা যায়, তেঁতুলিয়ায় বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। তাদের মধ্যে ইএসডিওর মহানন্দা কটেজ, দোয়েল আবাসিক, কাজী ব্রাদার্স, কাঞ্চনজঙ্ঘা, হোটেল সীমান্তের পাড়, স্বপ্ন গেস্ট হাউসহ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর বেরং কমপ্লেক্স, আরডিআরএস, জনস্বাস্থা ও অফিসার্স ক্লাবে পর্যটকদের আবাসন ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। তবে পর্যটন সময়ে এসব আবাসন অতুল হয়ে পড়ে। আবাসিক হোটেলে রুম না পেয়ে আশেপাশের বাসা বাড়িতে রাত্রিযাপন করতে হয়েছে আগত ভ্রমণ পিপাসুদের। আবাসিক হোটেলের সংখ্যা বৃদ্ধি তাগিদ পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের।

আবাসিক হোটেল মালিকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, চলতি অক্টোবর থেকেই আবাসিক হোটেলগুলোতে পর্যটকদের বুকিং অর্ডার পাচ্ছি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসার খবর দিয়ে ট্যুরিস্টরা হোটেল বুকিং দিয়ে রাখছেন। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে প্রচুর সমাগম হয়ে থাকে। যার কারণে কেউ কেউ বুকিং দিতে পারছেন না। তাদেরকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যারা হোটেল বুকিং ছাড়া আসছেন, তাদেরকে রাত্রি যাপনে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।

 

চাঁদপুর থেকে আসা বিসিএস শিক্ষা কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন সাগর, ব্যাংক কর্মী সুমন বিশ্বাস, সহকারি শিক্ষক কাদের খান বলেন, বাংলাদেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় এমন খবরে আমরা গতকাল ছুটে এসেছি। এসে আবাসিক হোটেলগুলোতে কোন রুম পাইনি। তবে দেশের উত্তরে এমন সুন্দর জেলা থাকতে পারে তা না আসলে হয়তো বুঝতেই পারতাম না। এখানে টি পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চা বাগান মালিকরা যদি এখানে চা বাগানেই পর্যটকদের থাকা থাকার পরিবেশ তৈরি করতে পারেন এ অঞ্চল আরও পর্যটনে সমৃদ্ধ হবে। আর আবাসন সংকট নিরসনে দৃষ্টি দিতে হবে।

 

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সেলিনা পারভীন, নারগিস জাহান, ইমরুল কাওসারসহ কয়েকজন পর্যটক বলেন, কাছ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় ফেসবুকে খবর শুনে তেঁতুলিয়ায় ছুটে এসেছি। এসে ভালো লাগছে। আনন্দ পেয়েছি। কিন্তু এখানে আবাসনের খুবই সংকট। রুমের রেটও খুব বেশি। আরও আবাসিক হোটেল বাড়ালে ভালো হতো। আগামীতে এ অঞ্চলটি পর্যটনে আরও সমৃদ্ধি ঘটবে।

 

পর্যটক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো জানান, প্রচুর পরিমাণে পর্যটক আসছে। যদিও আমাদের এখানে এখনো আবাসন সংকট রয়েছে। তবে করোনার দুই বছরে মধ্যে বেশ কয়েকটি উন্নতমানের আবাসিক হোটেল গড়ে উঠেছে। তবে পর্যটকের তুলনায় অতুল। পর্যটকরা যোগাযোগ করছেন, আমরা চেষ্টা করছি তাদের সেবা দিতে।

 

পঞ্চগড় ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম জানান, এ সময়টা পঞ্চগড়ে পর্যটনের সময়। হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটছে। আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছি। পর্যটন ষ্পটগুলোতে আমাদের টহল জোরদার করেছি।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, হেমন্ত ঋতুতে কাছ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোম্গ্ধুকর রূপ উপভোগ করতে পর্যটকের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে তেঁতুলিয়া। পর্যটকদের কথা চিন্তা করে আমরা ডাকবাংলোয় থাকার ব্যবস্থা করেছি, ওয়াচটাওয়ার, ওয়াকওয়েসহ বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দিত স্থাপনা নির্মাণ করেছি। আবাসন সংকট রয়েছে সত্য। তবে দিন দিন আবাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠছে। ইতোমধ্যে জেলা পরিষদ,  সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক নতুন দুইটি রেস্টহাউজ নির্মান করা হয়েছে। বেসরকারি উদ্যোগেও নতুন হোটেল ও রেস্ট হাউজ নির্মাণের কাজ চলমান আছে। আমরা পর্যটন শিল্প নিয়ে কাজ করছি। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

 

যাযাদি/সাইফুল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে