​ শায়েস্তাগঞ্জে কঠোর লকডাউনে মহাসড়ক ফাঁকা

​  শায়েস্তাগঞ্জে কঠোর লকডাউনে মহাসড়ক ফাঁকা

ঈদুল আজহার পরে ২৩ জুলাই থেকে সারাদেশে চলছে কঠোর লকডাউন। সোমবার (২৬ জুলাই) ছিল কঠোর লকডাউনের চতুর্থ দিন। কঠোর লকডাউন নিশ্চিত করতে শায়েস্তাগঞ্জে তৎপর ছিল প্রশাসন। পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী, র‌্যাব একযোগে কাজ করেছে। উপজেলাজুড়ে তাদের টহল জোরদার করার পাশাপাশি তারা মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেছেন। যদিও সাধারণ মানুষ অনেকটাই ছিল অসচেতন।

সরজমিনে দেখা যায়, কঠোর লকডাউনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছিল অনেকটাই ফাঁকা। স্বাভাবিক সময়ের ব্যস্ততম সড়কে কিছুক্ষণ পরপর শুধু পণ্যবাহী গাড়ি ও মালবাহী গাড়িগুলোকেই আসা যাওয়া করতে দেখা গেছে। তবে, বেলা বাড়ার সাথে সাথে মহাসড়কে সিএনজির চলাচল ছিল চোখে পড়ার মত। শায়েস্তাগঞ্জ এর অলিপুর শিল্পাঞ্চলে নানান অজুহাতে মানুষজন বের হয়েছেন। উপজেলার অলিপুর করোনার রেডজোন হলেও মানুষের মাঝে এখনো রয়ে গেছে সচেতনতার অভাব। অনেককেই মাস্ক না পরেই ঘুরতে দেখা গেছে।

মহাসড়কে সিএনজি চলাচল বন্ধ করতে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে, দেয়া হয়েছে মামলা। তবুও একটু সুযোগ পেলেই সড়কে প্রশাসন না থাকলেই দুই গুণ, তিন গুণ বেশি ভাড়া নিয়ে যাত্রী টেনেছেন তারা। শায়েস্তাগঞ্জে বেশিরভাগ দোকানপাটই বন্ধ ছিল। তবে, আধা সাটার খোলা রেখে ঝুঁকি নিয়েই অনেক দোকানি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুরের সেলুন ব্যবসায়ী দিপক পাল জানান, আমার ৪ জন কর্মচারি রয়েছে। এই লকডাউনে দুইজনকে ছুটি দিয়েছি। পুলিশের নিষেধের মুখে আমরা কাস্টমারদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছি।

অন্যদিকে, এখনো শায়েস্তাগঞ্জে কিছু কিছু শিল্পকারখানা অনেকাংশ খোলা থাকায় শতশত মানুষকে পায়ে হেটে কর্মস্থলে আসা যাওয়া করতে দেখা গেছে। প্রচুর মাইক্রো গাড়ি সারিবদ্ধভাবে মহাসড়কের কিছু দূরে দাঁড়িয়ে কোম্পানিগুলো প্রবেশের সময় ও ছুটির সময় এলজিইডি সড়কে যাত্রী টেনেছে। এসব গাড়ির সামনে লাগানো ছিল জরুরি যাত্রীসেবার স্টিকার। এছাড়াও অনেক মানুষকে বাইসাইকেল চালিয়ে তাদের কর্মস্থলে আসতে দেখা গেছে। তবে, যারা হেটে আসছেন তাদের অধিকাংশই ছিল মহিলা। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পায়ে হেঁটে নানান দুর্ভোগ সহ্য করেই কাজে এসেছেন তারা।

মো. লায়েক মিয়া অলিপুরে দাঁড়িয়ে আছেন হবিগঞ্জ যাওয়ার জন্য। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে গাড়ি না পেয়ে সিএনজিতে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়ায় হবিগঞ্জমুখী একটি সিএনজিতে উঠেছেন। স্বাভাবিক অবস্থায় হবিগঞ্জের সিএনজি ভাড়া ছিল জনপ্রতি ৪০ টাকা, এই লকডাউনে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছে সিএনজিগুলো।

অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে সিএনজি ড্রাইভার বাচ্চু মিয়া জানান, পুলিশ হবিগঞ্জে গাড়ি আটকিয়ে মামলা দিলেই জরিমানা গুনতে হবে ৭০০০ টাকা। এছাড়াও আমরা পুরাতন এলজিইডি সড়ক দিয়ে অনেক জায়গা ঘুরে হবিগঞ্জে যাব যাত্রী নিয়ে, তাই ভাড়া বেশি। এই কঠোর লকডাউনে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন কেন? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সরকার তো লকডাউনে আমাদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়নি। তাহলে গাড়ি না চালালে স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে নিয়ে খাব কি? তাই ঝুঁকি নিয়েই গাড়ি চালাতে হচ্ছে।

এছাড়াও জরুরি প্রয়োজনে কিংবা নানা অজুহাতে বের হওয়া মানুষদেরকে রিকশায় আসা-যাওয়া করতে দেখা গেছে।

এই বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাঈনুল হোসেন জানান, শতভাগ কঠোর লকডাউন কার্যকর করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে আছে। মহাসড়কে যাত্রীবাহী গাড়ি পেলে আমরা আইনগতভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি, মামলা দিয়েছি।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিনহাজুল ইসলাম জানান, সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে আনসার, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ সময় জনসাধারণকে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

যাযাদি/ এমডি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে