পূর্বধলার রাশিদের পরিবারের জন্য নির্মিত হচ্ছে নতুন ঘর

পূর্বধলার রাশিদের পরিবারের জন্য নির্মিত হচ্ছে নতুন ঘর

ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন যাপনকারী গরীব, অসহায় আব্দুর রাশিদের পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করা হছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাসের জন্য নতুন ঘরে উঠতে পারবেন। এমন খবরে খুশি রাশিদ পরিবার। তারা এখন দু চোখে স্বপ্ন দেখছেন নতুন ঘরে উঠবার। রাশিদের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা সদর ইউনিয়নের শীজকান্দি গ্রামে। এতদিন স্ত্রী জাহানারাসহ ও তিন সন্তান নিয়ে একটি ভাঙ্গা ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করতেন আব্দুর রাশিদ। ঘরটি ছিল একেবারেই বসবাসে অযোগ্য। ঘরে উপরের চাল ছিল প্রায় পুরোটাই ফুটো। চারদিকে বেড়া হিসেবে ছেড়া লুঙ্গি ও ছেড়া কাপড় দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছিল। বৃষ্টি হলে ঘরে থাকতে না পেরে আশ্রয় নিতেন পাশের দোকানের বারান্দায় বা স্কুলের বারান্দায়। বাড়ী ভিটা ৭ শতক জমি ছাড়া অন্য কোন আবাদী জামি না থাকায় অন্যের সাহায্য সহাযোগিতায় তারা দিন যাপন করতেন। তাদের এমন দুর্দশার কথা তুলে ধরে গত ২০ আগষ্ট দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচারিত হয়।

বিষয়টি নজরে আসলে এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। তিনি পূর্বধলা উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাসরীন বেগম সেতুকে ওই পরিবারের খোঁজ নিতে বলেন। তারই প্রেক্ষিতে সহকারি কমিশনার ভূমি নাসরিন বেগম সেতু, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ি গিয়ে তাদের সাথে কথা বলে দুর্দশার কথা জানতে পারেন ও জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করেন।

পরবর্তীতে ২২শে আগস্ট আব্দুর রাশিদের পরিবারের জন্য বসবাস উপযোগী একটি ঘর নির্মাণের সহযোগিতা স্বরুপ জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ নিজস্ব তহবিল থেকে ১১হাজার টাকা ও সরকারি বরাদ্দের ৩বান টিন এবং আরও ৯হাজার টাকার ব্যবস্থা করে দেন। সেই টাকায় একটি নতুন ঘর বানিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: মোস্তফা খান কে। ওই টাকায় সংকুলান না হওয়ায় তাদের জন্য আরও কয়েজন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমান বুলবুল ঘরের সমুদয় কাঠের ব্যবস্থা করেন। তাছাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম, যায়যায়দিন পত্রিকার পূর্বধলা উপজেলা প্রতিনিধি মো: জায়েজুল ইসলাম, সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন, স্থানীয় সমাজ সেবী মো: তুষার সহ কয়েকজন আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

গতকাল বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ইতি মধ্যে উপরের চাল নির্মাণ, ভিটিতে মাটি কাটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দু একদিনের মধ্যে বেড়া ও বারান্দার কাজ সম্পন্ন করা হবে। এ সময় আব্দুর রাশিদকে ঘরের টুকি টাকি কাজ করতে দেখা গেছে।

ইউপি সদস্য মো: মোস্তফা খান জানান, ঘর নির্মাণের কাজ দ্রত এগিয়ে চলছে। ইতি মধ্যে চাল নির্মাণ ও ঘরের ভিটিতে মাটি কাটার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে বেড়া ও বাকী কাজ অতি দ্রæত সম্পন্ন করা হবে।

উপকারভোগী আব্দুর রাশিদ বলেন এতদিন স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঝুপড়ি ঘরে কষ্ট করে থাকতেন। এখন ভাঙ্গা ঘরের জায়গায় জেলা প্রশাসক স্যার এর সহযোগিতায় নতুন ঘর পাইতেছি। এ জন্য আমরা খুব খুশি।

সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমান বুলবুল জানান, রাশিদ অত্যন্ত দরিদ্র একজন ব্যক্তি। তার ঘরটি বসবাসের অনুপযোগী ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসক মহোদয় তাকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছেন। পাশাপাশি আমরাও সহযোগিতার মাধ্যমে পাশে দাড়িয়েছি।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে