মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1

শ্রীমঙ্গল মুক্ত দিবস পালিত

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:২৯

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৬ ডিসেম্বর “শ্রীমঙ্গল মুক্ত দিবস” পালন করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের এ দিনে শ্রীমঙ্গল পাক-হানাদার মুক্ত হয়েছিল। তবে এর আগে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে শহীদ হয়েছিলেন অনেক মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রম হারান অনেক নারী। দিবসটি মঙ্গলবার শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও শ্রীমঙ্গল শিল্পী কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে শ্রীমঙ্গল কলেজ রোডস্থ ভাড়াউড়া বধ্যভুমিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অর্ধেন্দু কুমার দেব, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন কমান্ডার কুমুদ রঞ্জন দেব, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোয়াজ্জেম হোসেন ছমরু, শ্রীমঙ্গল সহকারী কমিশনার ভূমি সন্দীপ তালুকদার, ধ্রæব জ্যোতি ধর শুভ্র, এনাম হোসেন চৌধুরী মামুন।

দুপুরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা কনফারেন্স হল রুমে আয়োজন করা হয় স্মৃতিচারণ মুলক আলোচনাসভা। বিকালে শ্রীমঙ্গল শিল্পী কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে গণসংগীত ও মুক্ত বক্তৃতার আসর। সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা মাঠে উড়ানো হয় ৭১টি ফানুস। পরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও শ্রীমঙ্গলের মুক্তিযুদ্ধের “ইতিহাস জানো শীর্ষক” আলোচনাসভা। 

এ সময় বক্তারা বলেন, শ্রীমঙ্গলে মুক্তিযুদ্ধের অনেক ইতিহাস রয়েছে যা সংরক্ষনের অভাবে হারিয়ে যাওয়ার পথে। 
৭১ সালের যুদ্ধের শেষের দিকে মুক্তিযোদ্ধাদের একের পর এক গেরিলা ও সম্মুখ যুদ্ধে ভীত হয়ে পড়ে পাক বাহিনী। গেরিলা থেকে সম্মুখ যুদ্ধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক অনন্য দলিল।  ক্রমশ পিছু হঠতে থাকে। পাক বাহিনীর কাছে খবর আসে বিশাল বহরে বিভিন্ন দিক থেকে শ্রীমঙ্গল আক্রমন করবে মুক্তিসেনা। এতে অনেকটা সংকিত হয়ে ৫ডিসেম্বর রাতেই পাক বাহিনী শ্রীমঙ্গল ওয়াপদা ক্যাম্পে বন্দীদের হত্যা করে মৌলভীবাজার অভিমূখে চলে যায়। ৬ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এসে পৌছায় মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি গেরিলা টিম। প্রথম যে টিম আসে এই টিমের নেতৃত্বে ছিলেন শ্রীমঙ্গল সাতগাঁও এলাকার মাধব পাশা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ হোসেন মোল্লা।

 তিনি জানান, তাদের কমান্ডার এন.কে এনাম এর নির্দেশে ১২জনের একটি টিম নিয়ে ৬ডিসেম্বর সকালে শ্রীমঙ্গল এসে উপস্থিত হন। তিনি জানান, তাদের সাথে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে আসলেও তারা আসার আগেই বিজয়ের পতাকা উড়োনো হয় শ্রীমঙ্গলে। বিজয়ের উল্লাসে শ্রীমঙ্গলের সাধারণ জনতা, পরে তারা পাক বাহিনীর ওয়াপদা ক্যাম্পে যান। পাশাপাশি ক্যাম্পে ৬জন নারী দেখতে পান। প্রত্যেকেই শাররীক ভাবে অসুস্থ ছিলেন। তিনি জানান, এরই মধ্যে আরো অনেক গুলো টিম এসে তাদের সাথে যোগ দেয়। আর পাক-হানাদার মুক্ত হয় শ্রীমঙ্গল। রাতে আসেন তাদের কমান্ডার এন.কে এনাম। 

যাযাদি/সাইফুল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে