শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১

মিরসরাইয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ৫৩ বছর চলাচল

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
  ১৫ জুন ২০২৪, ২০:২৬
ছবি যাযাদি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে স্বাধীনতার পর থেকে দুইটি সেতু নির্মাণ হয়নি। সাধারণ মানুষ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে ৫৩ বছর ধরে। সাঁকো গুলা হলো একটি উপজেলার মায়ানী ও সাহেরখালী ইউনিয়ন ঘেঁসে যাওয়া সাহেরখালী খালের উপর। অন্যটি মিঠানালা ইউনিয়নের পশ্চিম মলিয়াইশ গ্রামে বামনসুন্দর খালে। এই দুই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বসবাস। সেতু গুলা নির্মাণ হলে বদলে যাবে এই এলাকার মানুষের ভাগ্য। পাল্টে যাবে অর্থনৈতিক চিত্র।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নড়বড়ে ভাবে রয়েছে বাঁশের সাঁকো গুলা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। জেলেরা মাছের খাঁচা নিয়ে ভয়ে ভয়ে পার হচ্ছে সাঁকো। যে কোন সময় গঠতে পারে বড় দূর্ঘটনা। ইলিশ মৌসুমে মাছ আহরণ করে স্থানীয় জেলেরা এই সাঁকো দিয়ে মাছ নিয়ে যায়। সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সময়মত মাছ বাজারে বিক্রি করা যায়না। বৃষ্টি হলে অবহেলত এই মানুষদের দুর্ভোগ হয় দ্বিগুন।

স্থানীয় পশুরাম নামের এক জলদাস জানান, সাহেরখালী কাচতালুক জলদাসপাড়া, মায়ানী জয়নগর জলদাসপাড়া, মায়ানী মির্জানগর জলদাসপাড়ার মানুষের একমাত্র যোগাযোগের সাঁকো এটি। এই সাঁকোর উপর দিয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে এইখান মানুষের কষ্ট লাগব হবে।

বাহার মিয়া জানান, সরকার আসে সরকার যায় কিন্ত প্রতিশ্রæতি রয়ে যায় মুখে মুখেই। জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের আগে সেতু করার ওয়াদা দিলেও নির্বাচনের পরে আর খবর থাকেনা। তৎকালীন বিএনপি সরকার আমলে কয়েকবার প্রতিশ্রæতি দিয়েও রাখতে পারেননি স্থানীয় সাবেক সাংসদ। এখন ভোট এলে কেবল জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেয়। পরে আর খোঁজ থাকে না।

আলতাফ হোসেন পলাশ নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, বর্ষাকালে খালের পানি বেড়ে গেলে মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। তখন পানির ¯্রােতে বাঁশের সাঁকো ভেঙে যায়। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গ্রামের ছোট ছেলেমেয়েরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। এক রকম বন্দি জীবনযাপন করে।

এ বিষয়ে উপজেলার মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামী বলেন, সাহেরখালী খালের উপর দুই বছর আগে ব্রিজ নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া গিয়েছিলে। পরবর্তিতে আর্থিক সঙ্কট দেখিয়ে এই ব্রিজের বরাদ্দ এবং অনুমোদন বাতিল করা হয়। ইতোমধ্যে পুনরায় প্রস্তাব করা হয়েছে। আশা করছি চলতি অর্থ বছরে অনুমোদন হয়ে টেন্ডার পক্রিয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।

মিঠানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, পশ্চিম মলিয়াইশ গ্রামের বামনসুন্দর খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ খুবই প্রয়োজন। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শীঘ্রই সেতু নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি।

যাযাদি/এসএস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে