শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১

নবজাতকের পেট কেটে ফেলার অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে

ফরিদপুর প্রতিনিধি
  ২৩ জুন ২০২৪, ২০:২২
ছবি-যায়যায়দিন

ফরিদপুরের সৌদি বাংলা বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন করার সময় নবজাতকের পেট কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক গাইনী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ওই শিশুটিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক।

জানা যায়, শহরের চর কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা নায়েব আলীর অন্ত:স্বত্তা স্ত্রী মুরশিদা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে শনিবার (২২ জুন) বিকালে বেসরকারি হাসপাতাল সৌদি বাংলায় ভর্তি করেন। সেখানকার গাইনী চিকিৎসক ডা. শিরীন আক্তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন। কন্যা সন্তানের জন্ম দেন মুরশিদা বেগম।

নবজাতককে তুলে দেওয়া হয় বাবা সহ পরিবারের সদস্যদের হাতে। কিছু সময় পর দেখতে পান নবজাতকের নাভির পাশ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে তারা প্রথমে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। পরে রক্ত বেশি বের হলে ওই চিকিৎসককে খবর দেওয়া হয়ে তিনি এসে নাভির পাশে কেটে ফেলা অংশে দুইটি সেলাই করে দেন।

এরপর ওই শিশুটিকে রাতেই ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে রোববার (২৩ জুন) সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে ওই শিশুটি হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নবজাতকের পিতা নায়েব আলী বলেন, আমার হাতে আমার সন্তানকে তুলে দেয়। কিছু সময় পর দেখতে পাই নাভির পাশ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। নাভির পাশে বেশ খানিকটা কাটা। শরীর নীল হয়ে যাচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে তারা প্রথমে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। পরে রক্ত বেশি বের হলে ওই চিকিৎসককে খবর দেওয়া হয়ে তিনি এসে নাভির পাশে কেটে ফেলা অংশে দুইটি সেলাই করে দেন।

তিনি আরো বলেন, রাতেই শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাই, সেখানকার চিকিৎসকরা ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন। আমার আর্থিক অবস্থা ভালো না। তাই ঢাকায় না নিয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছি। আমার প্রথম সন্তান, কোনোভাবেই এটা মেনে নিতে পারছিনা।

সৌদি বাংলা হাসপাতালের গাইনী চিকিৎসক ডা. শিরীন আক্তার জানান, অনাকাঙ্খিত ঘটনা। অপারেশন করার সময় দেখতে পাই নবজাতকের অবস্থান ঠিক জায়গায় ছিলনা। এছাড়া নারীতেও জরিয়ে ছিল। কিছুটা অংশ ফেটে যায়। পরে সেলাই করে দেওয়া হয়।

সৌদি বাংলা হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো: শহিদুল ইসলাম লিখন বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে শিশুটির খোঁজখবর নিয়েছি। ওই শিশুটিকে সুস্থ্য করতে যাবতীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার এস আই শামীম হাসান বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম, শিশুটির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। তদন্ত পূর্বক ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা.পারভেজ জানান, শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে ৭২ ঘন্টার আগে কিছু বলা যাবেনা।

যাযাদি/ এম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে