logo
বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০  

তুর্কি-মার্কিন সমঝোতা

এরদোয়ানের দাবি মেনে সিরিয়ার সীমান্ত শহর ছাড়ল কুর্দিরা

আঙ্কারার পক্ষ থেকেও এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে সিরিয়া থেকে ইরাকে প্রবেশ করেছে মার্কিন বাহিনী

এরদোয়ানের দাবি মেনে সিরিয়ার সীমান্ত শহর ছাড়ল কুর্দিরা
রিসেপ তাইয়ে্যপ এরদোয়ান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়ে্যপ এরদোয়ানের দাবি মেনে তুর্কি-মার্কিন সমঝোতায় করা যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী সিরিয়ার সীমান্ত শহর রাস আল-আইন থেকে যোদ্ধাদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)। তারা জানিয়েছে, তুর্কি বাহিনী ও এর মিত্রদের কাছে শহরটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অঞ্চলটি থেকে নিজ দেশের সেনাদের সরিয়ে নেয়ার পর থেকেই শহরটিতে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। সংবাদসূত্র : রয়টার্স, বিবিসি

আঙ্কারার পক্ষ থেকেও কুর্দি বিদ্রোহীদের শহরটি ছেড়ে যাওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার বিকালে ৮৬টি গাড়ির একটি বহর নিয়ে কুর্দি এসডিএফ বিদ্রোহীরা শহরটি ছেড়ে গেছে। তবে তুর্কি সমর্থিত সিরীয় বাহিনীর এক মুখপাত্রের মতে, 'এখনো সম্পূর্ণ প্রত্যাহার হয়নি।'

তুর্কি-সিরিয়া সীমান্তের ২০ মাইল এলাকা নিয়ে একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরিতে আগ্রহী তুরস্ক। ফলে দেশটি চাইছে, রাস আল-আইনের মতো সীমান্তবর্তী অন্য শহরগুলোও ছেড়ে যাক বিদ্রোহীরা। তবে কোবানে ও আল-দারবাসিয়াহসহ তুরস্কের প্রত্যাশিত নিরাপদ অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে এখনো রয়ে গেছে কুর্দি বিদ্রোহীরা।

কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফের মুখপাত্র কিনো গ্যাব্রিয়েল বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তুরস্কের সঙ্গে পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে তাদের যোদ্ধারা রাস আল-আইন ছেড়েছে। শহরটিতে আমাদের আর কোনো যোদ্ধা নেই।' রাস আল-আইন ছাড়া তুর্কি সীমান্তবর্তী অন্য শহরগুলোতে অবশ্য নিজেদের উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করেছেন কুর্দি অ্যাক্টিভিস্টরা।

অন্যদিকে, ২০ মাইল এলাকাজুড়ে তুরস্কের প্রস্তাবিত নিরাপদ অঞ্চল থেকে বিদ্রোহীদের সরে যাওয়া নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়ে্যপ এরদোয়ান। তিনি বলেন, 'আঙ্কারার প্রত্যাশা, উত্তর সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র ওয়াইপিজি/পিকেকে সন্ত্রাসীদের সরিয়ে নেবে। আশা করি, আমাদের মিত্ররা এবার তাদের প্রতিশ্রম্নতি রক্ষা করবে।'

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়ে্যপ এরদোয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের বৈঠকের পর সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় তুরস্ক। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর শুরু হয়েছে। কয়েক বছর ধরে মার্কিন সেনাদের পাশাপাশি থেকে কুর্দি যোদ্ধারা ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। এসডিএফের প্রধান অংশীদার কুর্দি ওয়াইপিজি বাহিনী সিরিয়ার মার্কিন বাহিনীর প্রধান মিত্র ছিল।

হঠাৎ করে এই মিত্রদের ছেড়ে আসার সিদ্ধান্তের কারণে ট্রাম্প দেশে ও বিদেশে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে পূর্ব সিরিয়ার ইরাক সীমান্তে প্রায় ২০০ মার্কিন সেনা রেখে দেয়ার একটি পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধে করা হলে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কুর্দি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ওয়াইপিজির সম্পর্ক থাকায় গোষ্ঠীটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে তুরস্ক। নিজ দেশের কুর্দি বিদ্রোহীদের থেকে ওয়াইপিজিকে দূরে রাখতেই আঙ্কারা সিরিয়ার উত্তর সীমান্ত অঞ্চলে কথিত 'সেইফ জোন' প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

সিরিয়া থেকে ইরাকে প্রবেশ করেছে মার্কিন বাহিনী

এদিকে, সিরিয়ায় থাকা মার্কিন সেনারা সীমান্ত পার হয়ে ইরাকে প্রবেশ করেছে। সিরিয়া-ইরাক সীমান্তের সাহেলা ক্রসিং দিয়ে তারা ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ দোহুকে প্রবেশ করেছে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা সোমবার জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মার্কিন পতাকাবাহী সাঁজোয়া যানকে সেনাদের নিয়ে ইরাকে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। এরা সিরিয়া থেকে প্রত্যাহার করা মার্কিন সেনাদের অংশ বলে তারা জানিয়েছে। এক আলোকচিত্র সাংবাদিক ওই সীমান্ত দিয়ে শতাধিক গাড়ি পার হতে দেখেছেন। মার্কিন সেনারা সীমান্ত পার হয়ে ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে প্রবেশ করেছে বলে এক ইরাকি কুর্দি নিরাপত্তা সূত্রও জানিয়েছে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে