logo
সোমবার ১৪ অক্টোবর, ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০  

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

কিসের ছাত্রলীগ, আবরার হত্যার বিচার হবেই

ত্রিপুরাকে সামান্য পানি দিয়েছি এতে হইচই করার কী আছে ভারতে এলপিজি যাবে প্রাকৃতিক গ্যাস নয় ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের বিপক্ষে শেখ হাসিনা

কিসের ছাত্রলীগ, আবরার হত্যার বিচার হবেই
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন -বাসস
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের বিচারে নিজের অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'কিসের ছাত্রলীগ, সে বিবেচনা করব না। এই হত্যাকান্ডের বিচার হবেই। অপরাধী অপরাধীই।'

তিনি বলেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, নিশ্চিত করা হবে সর্বোচ্চ শাস্তি।

বুধবার নিজের যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সফর নিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। বেলা সাড়ে তিনটায় গণভবনে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই তাঁর দুই সফরের বিষয়ে কথা বলেন। এরপর শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব।

সংবাদ সম্মেলনের দ্বিতীয় প্রশ্নটিই ছিল আবরার হত্যা নিয়ে। গত রোববার রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার কয়েকজন নেতাকর্মী। এই হত্যা নিয়ে বুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে বিক্ষোভ।

সংবাদ সম্মেলনে আবরার হত্যা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, 'কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, তা কোন দলের কে করে, সেটা দেখি না। অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করি।'

আবরার হত্যাকে 'অমানবিক' উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'একটা বাচ্চা ছেলে, ২১ বছর বয়স। তাকে কী অমানবিকভাবে হত্যা করেছে। পিটিয়ে পিটিয়ে মেরেছে।'

শেখ হাসিনা বলেন, 'এ ঘটনার পরই ছাত্রলীগকে বলেছি অভিযুক্তদের বহিষ্কার করতে। তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। পুলিশকে বলেছি অপরাধীদের ধরতে। অনেকেই ধরা পড়েছে। ছাত্ররা নামার আগেই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।'

শেখ হাসিনা বলেন, 'আববার সাধারণ পরিবারের একটি ছেলে, এত ব্রিলিয়ান্ট একটা ছেলে। তার মায়ের কষ্ট আমি বুঝি। বাবার কষ্ট বুঝি। কারণ, আমিও হত্যার বিচার চেয়ে পাইনি। মা-বাবার হত্যার পর ৩৮ বছর আমাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কে ছাত্রদল কে ছাত্রলীগ- এ বিবেচনা করব না। বুয়েটে যে ঘটনা ঘটেছে, সকালে জানার পরই পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু শুনলাম, পুলিশকে ফুটেজ নিয়ে আসতে দেওয়া হবে না। তখন প্রশ্ন হলো, ব্যাপারটি কী? পুলিশের আইজিপিও বললেন, পুলিশকে ফুটেজ আনতে দিচ্ছে না। ঘিরে রেখেছে।'

শেখ হাসিনা বলেন, ফুটেজটা হাতে পাওয়ার জন্য তিনটি ঘণ্টা সময় নষ্ট করল কেন?

আবরার হত্যার পর আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আবার কিসের আন্দোলন। কোনো দাবি তো সঙ্গে সঙ্গে পূরণ করা যায় না। অপরাধীদের ধরছে।

বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, 'বুয়েট চাইলে নিষিদ্ধ করতে পারে। তাদের সিনেট আছে, এটা করতে পারে। তবে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে দিতে হবে, এটা স্বৈরাচারদের কথা। আমি নিজে ছাত্ররাজনীতি করে উঠে এসেছি।'

শেখ হাসিনা বলেন, 'বুয়েটে আমাদের একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে, নিহত হয়েছে। কয়টার বিচার হয়েছে।'

ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের

বিপক্ষে শেখ হাসিনা

আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের পর বুয়েট শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের যে দাবি উঠেছে, তা নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তবে তিনি বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বুয়েট তাদের ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারে।

ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মীর নির্যাতনে আবরারের মৃতু্যর পর বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিও উঠেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, 'আর একটা ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি উঠাবে যে ছাত্ররাজনীতি ব্যান। আমি নিজেই যেহেতু ছাত্ররাজনীতি করে এসেছি। সেখানে আমি ছাত্ররাজনীতি ব্যান বলব কেন?]

বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের উজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরে তা কলুষিত করার জন্য সামরিক শাসকদের দায়ী করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

তিনি বলেন, 'নষ্ট রাজনীতি যেটা, সেটা তো আইয়ুব খান শুরু করে দিয়েছিল, আবার জিয়াউর রহমান এসে শুরু করল একইভাবে এবং দুইজনের ক্ষমতা দখলের চরিত্র একই রকম।'

শেখ হাসিনা বলেন, আর ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা বলেন। আসলে এই দেশের প্রতিটি সংগ্রামের অগ্রণী ভূমিকা কিন্তু ছাত্ররাই নিয়েছেন।

এই যে একটা সন্ত্রাসী ঘটনা বা এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই তো সংগঠন করা নিষিদ্ধ আছে। বুয়েট যদি মনে করে তারা সেটা নিষিদ্ধ করে দিতে পারে। এটা তাদের ব্যাপার।

কিন্তু একবারে ছাত্ররাজনীতি ব্যান করে দিতে হবে, এটা তো মিলিটারি ডিক্টেটরদের কথা। আসলে তারা এসে তো সবসময় স্টুডেন্ট পলিটিক্স ব্যান করে গেছে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাত্র রাজনীতি থেকেই উঠে এসেছে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, 'আমি ছাত্ররাজনীতি করেই কিন্তু এখানে এসেছি।'

সরকারপ্রধান বলেন, 'আমাদের দেশের অসুবিধাটা হল বারবার মিলিটারি রুলাররা এসেছে। আর এসে এসে মানুষের চরিত্র হরণ করে গেছে।'

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হলে

তলস্নাশি করা হবে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হলগুলোতে উচ্ছৃঙ্খলতা, অনিয়ম বের করতে তলস্নাশি (সার্চ) চালানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের প্রসঙ্গে উঠে। আর তখন এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচ তলায় ২০১১ নম্বর কক্ষে গত রোববার রাতে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। শেরেবাংলা হলের ওই কক্ষে আরও অনেক শিক্ষার্থীকে নিয়ে মারধর করার অভিযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলব, যখন এই ঘটনা একটা জায়গায় ঘটেছে সেখানে এক রুম নিয়ে বসে জমিদারি চাল চালানো, তাহলে প্রত্যেকটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি হল সব জায়গায় সার্চ করা দরকার। কোথায় কি আছে না আছে খুঁজে বের করা দরকার এবং এ ধরনের কারা মাস্তানি করে বেড়ায়, কারা এই ধরনের কান্ড ঘটায় সেটা দেখা।' প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামান্য টাকায় সিট ভাড়ায় একেকজন রুমে থাকবে আর তারপর সেখানে বসে এই ধরনের মাস্তানি করবে আর সমস্ত খরচ বহন করতে হবে জনগণের ট্যাক্সের পয়সা দিয়ে। সেটা কখনো গ্রহণযোগ্য না। সারা দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিটি হল সব জায়গায় সার্চ করা হবে এবং দেখা হবে সেই নির্দেশ দিয়ে দেব।'

তলস্নাশি চালানোর ব্যাপারে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, 'কোথায় অনিয়ম, উচ্ছৃঙ্খলতার মতো কর্মকান্ড কারা করছে। কোনো দল-টল আমি বুঝি না।'

ভারতে এলপিজি যাবে

ভারতের সঙ্গে গ্যাস নিয়ে চুক্তির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করে দেবে এটা কখনও হতে পারে না।

তিনি বলেন, 'আমরা বিদেশ থেকে এলপিজি গ্যাস এনে প্রক্রিয়াজাত করে ভারতে রপ্তানি করব। এটা প্রাকৃতিক গ্যাস নয়। অন্য পণ্য যেমন আমরা রপ্তানি করি ঠিক তেমন। এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কিছু নেই।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এলপিজি গ্যাস আমাদের দেশে উৎপন্ন হয় না। এখন এই গ্যাস আমরা আমদানি করছি। রান্নায় সিলিন্ডারে সরবরাহ করছি। আগে স্বল্প পরিমাণে আমাদের এলপিজি উৎপাদন হতো। আমদানি করা গ্যাস গ্রামে বিভিন্ন কোম্পানি সরবরাহ করছে। আগে ১০ কেজির সিলিন্ডার ১৬শ টাকা দাম পড়ত। বাজার উন্মুক্ত করে দেওয়ায় এখন ৯শ টাকা। এখন অনুমোদিত ২৬টি কোম্পানি কাজ করছে।'

শেখ হাসিনা আরও বলেন, 'আমরা ত্রিপুরায় যে গ্যাস দিচ্ছি সেটি এলপিজি। আমাদের দেশে যেমন সরবরাহ করছি সেটিই ত্রিপুরায় দিচ্ছি। যারা এর বিরোধিতায় সোচ্চার মানে বিএনপি ২০০১ সালের কথা মনে করিয়ে দিতে চাই। আমেরিকা গ্যাস বিক্রির জন্য বলেছিল, আমি বলেছিলাম দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমরা তারপর বিক্রি করব। যে কারণে ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি। আর যারা গ্যাস বিক্রি করে দিচ্ছে বলেছে তারাই গ্যাস দেবে বলে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন।'

ত্রিপুরাকে সামান্য পানি দিয়েছি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'ফেনী নদীর উৎপত্তি বাংলাদেশের খাগড়াছড়িতে হলেও এ নদীর বেশিরভাগ ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এটি একটি আন্তর্জাতিক নদী। আমরা সামান্য ১ দশমিক ১২ কিউসিক পানি দিচ্ছি ত্রিপুরাকে। এ নিয়ে হইচই করার কী আছে?'

তিনি বলেন, 'ত্রিপুরায় যে পানি দেয়া হচ্ছে, তা হচ্ছে খাবার পানি। কেউ খাবার পানি চাইলে, তা যদি না দিই, তাহলে কেমন হয়!'

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ত্রিপুরা আমাদের ঐতিহাসিক বন্ধু। মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার মানুষ আমাদের আগলে রেখেছে। মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছে। সেই ত্রিপুরায় সামান্য খাবার পানি দেয়ার জন্য আপত্তি থাকতে পারে না।'

জুয়াড়িদের ভাসানচরে

পাঠানোর প্রস্তাব

ক্যাসিনো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'যারা এখন ক্যাসিনো খেলায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে বা এ ধরনের জুয়া খেলায় অভ্যস্ত, কেউ হয়তো দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, কেউ হয়তো নানা ফন্দি আঁটছে তাদের বলছি, একটা দ্বীপ খুঁজে বের করেন, সেই দ্বীপে আমরা সব ব্যবস্থা করে দেব। ভাসানচর বিশাল দ্বীপ। এক পাশে রোহিঙ্গা আরেক পাশে আপনাদের ব্যবস্থা করে দেব। সবাই ওখানে চলে যান।'

বুধবার বিকালে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চলমান ক্যাসিনো অভিযান প্রসঙ্গে জনৈক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে হাসোজ্জ্বলভাবে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা। নিউইয়র্ক ও ভারত সফর নিয়ে বিভিন্ন সফলতা এবং অভিজ্ঞতা জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি বাস্তবতা বলছি, অভ্যাস যখন বদভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়, এ বদভ্যাস তো যাবে না। বার বার খোঁচাখুঁচি করতে হবে। তাই বার বার খোঁচাখুঁচি না করে একটা জায়গাই দিয়ে দেব।'

তিনি বলেন, 'ভাসানচরে এক সাইডে যদি ব্যবস্থা করে দেই, ওটা খুব বড় চর, অসুবিধা নাই। ১০ লাখ লোককে বসতি দেয়া যাবে। কারা কারা করতে চান তারা যান, নীতিনালা তৈরি করেন, লাইসেন্স নিতে হবে, ট্যাক্স দিতে হবে, তারপর যে ইচ্ছা খেলুক আমার কোনো আপত্তি নাই। এতে সরকারের আয় বাড়বে, দেশের উন্নয়নে কাজে লাগবে।'

শেখ হাসিনা আরও বলেন, 'যেখানে যেখানে অনিয়ম আছে সেখানেই আমরা ধরব। কতদূর যাবে আর কতদূর যাবে না সেটা কোনো কথা নয়। এটা বহুদিন ধরে ছিল, কেউ কখনও বলেনি, খেয়ালও করেনি। আমি যদি বলি আপনারা সাংবাদিকরা কোনো দিন বলেননি যে এ রকম একটা অনিয়ম হচ্ছে। এত খবর আপনারা রাখেন, আপনাদের ক্যামেরা এত জায়গায় ঘুরে। তো কই এই জায়গায় কেন পৌঁছায় নাই? সে প্রশ্নের জবাব কি দিতে পারবেন? পারবেন না। বাস্তবতা হলো আমি যখনই এ খবর পেয়েছি তখনই ব্যবস্থা নিয়েছি এবং এ রকম ব্যবস্থা নিতেই থাকব।'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে