logo
মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

তুরিন আফরোজকে অবশেষে অপসারণ

তুরিন আফরোজকে অবশেষে অপসারণ
তুরিন আফরোজ
যুদ্ধাপরাধ মামলার এক আসামির সঙ্গে গোপন বৈঠকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের প্রসিকিউটর পদ থেকে আইনজীবী তুরিন আফরোজকে অপসারণ করেছে সরকার।

সোমবার আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, 'শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ ভঙ্গ এবং গুরুতর অসদাচরণের দায়ে' তুরিনের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

ওই অভিযোগে গত বছর মে মাসেই তুরিন আফরোজকে ট্রাইবু্যনালের সব মামলা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ মামলা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ।

গত বছর এপ্রিলে অভিযোগ ওঠে, মামলা পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর ২০১৭ সালের নভেম্বরে ওয়াহিদুল হককে ফোন করে কথা বলেন তুরিন। পরে পরিচয় গোপন করে ঢাকার একটি হোটেলে তার সঙ্গে দেখাও করেন।

ওই অভিযোগ ওঠার পর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ওয়াহিদুল ও তুরিনের কথোপকথনের রেকর্ড ও বৈঠকের অডিওরেকর্ডসহ যাবতীয় 'তথ্য-প্রমাণ' আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ট্রাইবু্যনালের সব মামলা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় তুরিনকে।

তুরিন সে সময় অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো জবাব দেননি। এক ফেসবুক পোস্টে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও ওই গোপন বৈঠকের কথা তিনি অস্বীকার করেননি।

যুদ্ধাপরাধের বিচারে ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল গঠনের তিন বছরের মাথায় প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তুরিন আফরোজ। জামায়াতে ইসলামীর আমির গোলাম আযমের মামলাসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি মামলা পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন তিনি। তাকে ওয়াহিদুল হকের মামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ২০১৭ সালের নভেম্বরে।

পরের বছর মে মাসে তুরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর ট্রাইবু্যনালের তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক বলেছিলেন, ওয়াহিদুল হককে গ্রেপ্তার করার সময় গুলশান থানার ওসি তার মোবাইল ফোন জব্দ করেছিলেন। ওই মোবাইলে কথোপকথনের দুটি রেকর্ড ছিল। একটি কথোপকথন হয়েছে টেলিফোনে। সেখানে তুরিন আফরোজ আসামি মোহাম্মদ ওয়াহিদুল হককে দাওয়াত দিয়েছেন দেখা করার অনুমতি চেয়ে। ফোনটা তুরিনই করেছিলেন।

'অন্য রেকর্ডটি ছিল দুই ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের। এই কথোপকথনে মামলা সংক্রান্ত অনেক কথা রয়েছে এবং মামলার ডকুমেন্ট হস্তান্তরের কথোপকথন রয়েছে। ওসি এটা পাওয়ার পর সে মনে করল যে, আমাদের জানানো দরকার। আমরা এটা হাতে পাওয়ার পর প্রসিকিউশনকে দিয়েছি।'

তদন্তাধীন মামলার আসামির সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের কোনো আইনজীবীর গোপনে দেখা বা সাক্ষাৎ নৈতিকতাবিরোধী মন্তব্য করে সানাউল সে সময় বলেন, 'প্রথমত কথা হচ্ছে উনি এ মামলা তদন্ত করেন না। তদন্ত করেন তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান। ফেসবুকে দেখলাম উনি (তুরিন আফরোজ) গোপনে তদন্ত করতে চেয়েছিলেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। কিন্তু এ রকম কোনো নিয়ম নেই আমাদের তদন্তে।'

অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায়

অপসারণ : আইনমন্ত্রী

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগ তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আইনমন্ত্রী বলেন, 'অপরাধীর সঙ্গে তিনি যে কথা বলেছেন তার রেকর্ড আমাদের কাছে আছে। সেখানে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তার (তুরিন আফরোজ) গলা প্রমাণিত হওয়ায় আমরা তাকে অপসারণ করেছি।'

সোমবার সচিবালয়ে আইনমন্ত্রীর নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা এটা জানেন যে, তার (তুরিন আফরোজ) বিরুদ্ধে অভিযোগের নিউজ অনেক হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে, তিনি একজন আসামির সঙ্গে (যেই মামলা তিনি নিজেই করছিলেন) আলাপ-আলোচনা করতে গিয়েছিলেন। একই সঙ্গে আলাপ-আলোচনার সময় তিনি এও বলেছিলেন যে এ মামলার কোনো সারবর্তা (ম্যারিট) নেই।'

তিনি বলেন, 'সেই কথোপকথনের টেপ রেকর্ড করা হয়। কথোপকথনের টেপ রেকর্ড এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমাদের কাছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের চিফ প্রসিকিউশন পাঠান। আমরা এটা নিয়ে যথেষ্ট সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেছি। একইসঙ্গে উনার (তুরিন আফরোজ) যতটুকু কথা বলা প্রয়োজন মনে করেছি, কথা হয়েছিল। কিন্তু যে সাক্ষ্য-প্রমাণ আছে সেগুলো- অল আর ডকুমেন্ট্রি।'

আইনমন্ত্রী বলেন, 'সেই জন্য আমরা এই সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে অব্যাহতি দিয়েছি। তবে তিনি আগে যে মামলা পরিচালনা করেছেন, তাতে আমরা যথেষ্ট সন্তুষ্ট। যে কারণে তাকে অব্যাহতি দেয়া হলো, তার আগ পর্যন্ত তিনি কিন্তু নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন। কিন্তু এই ব্যাপারে আমি জানি না তার সেন্স অব জাজমেন্ট কেন কাজ করে নাই!'

আইনমন্ত্রী বলেন, 'রেকর্ডকৃত কথোপকথনে তার (তুরিন আফরোজ) দিক থেকে যেসব কথা বলা হয়েছে এবং যেটা তার গলা বলে প্রমাণিত হয়েছে, এটা ঊনি কেন করলেন সেটা আমরা বুঝতে পারছি না। তবে এইটুকু বলব এটা দুঃখজনক। কাজেই আমি যে খুব খুশি হয়ে করেছি (অপসারণ) তা না।'

তিনি আরও বলেন, 'তাকে অব্যাহতি দেওয়াটা আরও জরুরি হয়ে পড়ে, কারণ যে মামলাটা নিয়ে কথা হয়েছে, সেই মামলায় কিন্তু এখন চার্জ গঠন হয়ে গেছে। সে জন্যই এ ব্যাপারটার একটা নিষ্পত্তি দরকার ছিল। সেজন্যই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে