​১০ দিনেই ১০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

​১০ দিনেই ১০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ঢল নেমেছে। তারা ১০ দিনেই পাঠিয়েছেন ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি।

এর আগে কখনোই এত কম সময়ে এত বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসেনি।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন অব্যাহত ছিল। রোজার ঈদের আগে তা আরও বাড়ল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, চলতি মে মাসের ৯ দিনে (১-৯ মে) ৯১ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪২ শতাংশ বেশি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ১০ মে সোমবারের রেমিট্যান্সের প্রাথমিক তথ্যও পাওয়া গেছে। তাতে দেখা যায়, একদিনেই (১০ মে) ১০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

সব মিলিয়ে ১-১০ মে এই ১০ দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে ওই কর্মকর্তা হিসাব দেন।

গত মাসে ২০৬ কোটি ৭০ লাখ (২.০৬ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ৮৯ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে এতো বেশি প্রবৃদ্ধি আগে কখনোই হয়নি।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দুই হাজার ৬৭ কোটি ২০ লাখ (২০.৬৭ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অংক গত অর্থবছরের পুরো সময়ের (জুলাই-জুন) চেয়ে ১২ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি। আর গত অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ের চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি।

২০১৯-২০ অর্থবছরে এক হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ (১৮.২০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এই মহামারির মধ্যেও বেশি বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়ে আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন প্রবাসীরা। ঈদ সামনে রেখে আরও বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন তারা। সেজন্য আমি আবারও আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

‘সব মিলিয়ে আমাদের প্রত্যাশা অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে’, বলেন অর্থমন্ত্রী।

গত বছরের মার্চে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোভিড-১৯ এর পাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটা পড়ে। ওই মাসে ১০৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।

এই মার্চ মাসে ১৯১ কোটি ৬৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত বছরের মার্চের চেয়ে ৫০ দমিক ১৭ শতাংশ বেশি। ২০২০ সালের মার্চে ১২৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার এসেছিল।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই অর্থবছরের প্রথম মাস গত বছরের জুলাইয়ে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল, যা এক মাসের হিসাবে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

মহামারির কারণে রেমিট্যান্স কমার আশঙ্কা করা হলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। মহামারির আঁচ বিশ্বের অর্থনীতিতে লাগার পর গত বছরের এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স কমলেও এরপর আবার বেড়েছে।

গত আগস্টে এসেছিল ১৯৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বরে আসে ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। অক্টোবরে এসেছিল ২১১ কোটি ২৪ লাখ ডলার। নভেম্বরে আসে ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। ডিসেম্বরে আসে ২০৫ কোটি ডলার।

এ বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ১৯৬ কোটি ২৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে তা কমে ১৭৮ কোটি ডলারে নেমে আসে।

বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছিল, কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কায় ২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার রেমিট্যান্স ২২ শতাংশ কমবে। বাংলাদেশে কমবে ২০ শতাংশ। তবে দেখা গেছে, পাশের দেশ ভারতে ৩২ শতাংশ হ্রাস পেলেও বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা এক কোটির বেশি বাংলাদেশির পাঠানো এই অর্থ। দেশের জিডিপিতে সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে গত অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসী আয়ের এ ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার বিদেশ থেকে অর্থ পাঠানোর নিয়াম-কানুন সহজ করেছে। ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সংস্কারমুখী পদক্ষেপের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।’

যাযাদি/এসআই

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে