বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১

সারিয়াকান্দিতে বাঁশের খাচি বানিয়ে স্বাবলম্বী নারীরা

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি
  ৩১ মার্চ ২০২৪, ১০:১৬
ছবি-যায়যায়দিন

গ্রামীণ নারী মানেই গৃহস্থালি কাজ, চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ থাকা। বর্তমানে গ্রামীণ নারীদের কাজকর্মে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। পুরুষের পাশাপাশি তারা সংসারে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করছেন, করছেন আয়ও।

একজন পুরুষ যেমন উপার্জন করে সংসার চালাচ্ছেন, তেমনি একজন কর্মঠ নারীর উপার্জনে চলছে সংসার। বগুড়ার সারিয়াকান্দির হিন্দুকান্দী গ্রামর শিল্পপাড়া সহ পুরো উপজেলায় এমনই ১ হাজারের মত নারী পুরুষের পাশাপাশি বাঁশের পণ্য তৈরী করে সংসারে বাড়তি আয়ের পথ বেছে নিয়েছে।

আগের দিনের মতো বাশের জিনিস পএ প্লাস্টিকের পন্যর ভিড়ে আর তেমন একটা বিক্রি হয়না। কিন্তু সেমাই পরিবহনের জন্য বাঁশের খাচির চাহিদা আছে ব্যাপক। ঈদের আগেতো এ চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুন। সারা বছর কিছু কিছু খাচি বানায় ও পাশাপাশি অল্প কিছু নিত্যদিনের ব্যবহার্য সামগ্রী বানিয়ে সংসারে সচ্ছলতা আনলেও।কিন্তু ঈদের আগে তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় বহুগুন আর অন্য কোন পন্য বানানোর সময় পাননা।

ঈদের আগের এই সময়টায় লাচ্ছা সেমাই সাদা সেমাই পরিবহনের জন্য প্রয়োজন হয় বাঁশের খাচির। ওজন ভেদে এই খাচির দাম প্রতিটি ৩৫ থেকে ৫০ টাকা। একটি বাঁশ কিনে নেন ১৫০ টাকায় সেই বাশ থেকে ১০ থেকে ১৫ টির মত খাচি তৈরী হয়৷ একজন ভালো কারিগর দিনে ১০ থেকে ১৫ টি খাচি তৈরী করতে পারে। এসব খাচি বাড়িতে এসে পাইকারী কিনে নিয়ে যান ব্যাবসায়ীরা। তারা বগুড়া জেলা শহর সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করেন।

খাচির কারিগর বলেন,বাপ দাদারা বাশ বেতের কাজ কাম করছে সেখান থেকেই এগুলো কাজ শিখছি।এখন তো আর বাঁশের অন্য জিনিসের চাহিদা নাই তবে এ খাচির ব্যাপক চাহিদা তাই এখন এগুলো বানায় বিক্রি করে সংসার চালাই। আল্লাহ আমাকে ভালোই রাখছে।

আরেক কারিগর আমেনা বেগম বলেন,আগের এ কাজ শিখিনী বিয়ে হয়ে যখন এখানে আসি তখন শশুর বাড়ির লোকজনের কাছে থেকে শেখা।এখন আমি এ কাজ করে ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার চালাতে পারছি দুটো ভালো মন্দ খাবার পাচ্ছি।

বাশের খাচির ব্যাবসার সাথে জড়িতরা বলেন,সরকারী সুযোগ সুবিধা বা সহজ শর্তে ঋণ পেলে আরও বেশি খাচি তৈরী করতে পারতো এই নারীরা। সংশ্লিষ্ট সবার সুনজরে এলে আর কর্মসংস্থানের ব্যবস্হা হতো।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে