বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1

নিয়ামতপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে রোগীরা খুশি 

শাহজাহান শাজু, নিয়ামতপুর নওগাঁ প্রতিনিধি
  ২২ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪:১২

নওগাঁ জেলার ঠাঁঠাঁ বরেন্দ্র এলাকা নিয়ামতপুর উপজেলা। এই উপজেলায় স্বস্থ্যের মান নিশ্চিত করতে সরকারীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

১৯৬৯ সালে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট ভবন হিসেবে নির্মিত হয়। পরে বর্তমান খাদ্য মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি প্রচেষ্টায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট শিশুবান্ধব হাসপাতাল নামে পরিচিতি অর্জন করে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন উন্নয়নের মাঝে স্থান পেয়েছে হাসপাতালের চারিপাশে মিনি পার্কের আদলে গঠিত ফুল বাগিচা। যা সাধারণ রোগী সহ পর্যটকদেরও মন কাড়ে!

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে পরিস্কার তকতকে রাস্তা। রাস্তার দু’পাশে নানা ধরণের ফুল গাছ। একটু ভিতরে প্রবেশ করলে চোখে পড়বে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে মিনি পার্কের আদলে গঠিত সুসজ্জিত ফুল বাগিচা। হরেক রকম বাহারী ফুলের গাছ। ফুটে আছে লাল, নীল, হলুদ সহ নানান রঙ-বেরঙের ফুল।

চারদিকে ফুলের মৌ মৌ গন্ধ । এ যেন মুগ্ধতার এক অপরূপ দৃশ্য যা সত্যিই যেন মন কাড়ার মতো! একদিকে টবে সাজানো নানারকম পাতা বাহারের গাছ। একই টবে বপন করা হয়েছে নানা রকম শাক পাতার গাছ। একদিকে যেমন সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে অপরদিকে স্বাস্থ্যসম্মত শাক পাতাও পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। এযেন এক ব্যতিক্রমী উদ্যেগ।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয়তলায় রোগীর ওয়াডের আগেই রয়েছে শিশু কর্ণার। বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর বাচ্চাদের বিনোদনের জন্য নানাবিধ খেলনা দিয়ে সাজানো হয়েছে এই শিশু কর্ণার।

এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসেন রোগীরা। মনমতো চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পরে অনেকে ফুলগাছের সাথে মেতে উঠেন ছবি উঠানোর জন্য। শুধু তাই নয় নেট দুনিয়ায় এই হাসপাতালের মিনি পার্কের ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরাও আসেন প্রশান্তির ছোঁয়া নিতে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এধরণের ব্যতিক্রমী উদ্যেগ গ্রহন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুব উল আলম ও তার টিম। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল আজকের এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।


হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী রহিমা খাতুন বলেন, এই হাসপাতালে প্রবেশ করলেই রোগ ৫০শতাংশ সেরে যায়। ডাক্টারের ব্যবহার আর কমল আচরনে আমাকে মুগ্ধ করেছে এবং আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাও আছে। হাসপাতালের পরিবেশ ও ফুল-ফলের গাছ দেখে সত্যিই খুব মুগ্ধ হয়েছি।এরকম পরিবেশ দেশের প্রতিটি হাসপাতালে থাকা দরকার।

ছেলের চিকিৎসা নিতে আসা আনিবর বলেন, মফস্বল এলাকায় হাসপাতালের দৃশ্য যে এতো সুন্দর হতে পারে তা অকল্পনীয়। আমি আমার ছেলের চিকিৎসা নেওয়ার পরে তাকে পুরো হাসপাতাল ঘুরে দেখালাম। সুন্দর পরিবেশে ঘোরার পর তার অসুস্থতা অনেকটাই কমে গেছে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুব উল আলম প্রতিবেদককে জানান, হাসপাতালে আসার পর থেকে দেখি নানান রকম জিনিস পত্রাদির অভাব রয়েছে। গত মার্চ মাস থেকে মেজর সকল সার্জারী, সেপ্টেম্বর থেকে  আল্ট্রাসনো, ডিজিটাল এক্সে মেশিন, রোগীর  ফি ১লক্ষর বেশিআদায় হচ্ছে যা আগে ২০/২৫ হাজার টাকা হতো। গড়ে প্রতি মাসে  ৮/১০ হাজার রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নেয় এবং প্রতিদিন ৩০/৪০ প্রকার ঔষধ রোগীরা পায়।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে কিছু জায়গা অব্যাবহৃত হয়ে পড়ে আছে। আমি সেসব জায়গাগুলো অবসর সময়ে নিজে ও লোক লাগিয়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে ফুলের গাছ লাগানো সহ একটা সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্ঠা করেছি।

বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা থেকে শুরু করে বাইরের সব দৃশ্যগুলো সর্বস্তরের মানুষের নজর কাড়ে। বর্তমানে একটি পরিত্যক্ত জায়গা পরিস্কার করে নানা রকম ফলের বাগান করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি এব্যাপারে তার টিমকেও ধন্যবাদ জানান।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে