খুলেছে পোশাক কারখানা, কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা

খুলেছে পোশাক কারখানা, কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা

দেশের পোশাক কারখানাগুলো চলমান বিধিনিষেধের মধ্যে আজ রবিবার (১ আগস্ট) থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে। কারখানাগুলোতে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকদের প্রবেশ করানো হলেও কিছু কিছু কারখানায় ঢিলেঢালাভাব দেখা গেছে। এছাড়া মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হলেও অধিকাংশ কারখানায় তাপমাত্রা মাপা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

আল মুসলিম গার্মেন্টসে কর্মরত কয়েকজন জানালেন, গার্মেন্টস খোলার নোটিশ মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে সব শ্রমিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই প্রায় অধিকাংশ শ্রমিকই কাজে যোগদান করেছে। সকালে রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট, রামপুরা, বাড্ডা, কমলাপুর এলাকায় মারিয়া ফ্যাশন, আরিফ ডিজাইন, নিউ ফয়সাল, রাবেয়া ফ্যাশন, আল মুসলিম গ্রুপ, ড্রেস এন্ভ ডিসমেটিক প্রাইভেট লিমিটেড, হার্টি এপ্যারেলস, এ কে এম রহমতুল্লাহ গার্মেন্টস, আর টেক্স ফ্যাশন, জান কম্পোজিট ইউনিট লিমিটেড (ইউনিট-২), ড্রেস ফাই নেটওয়ার্ক, ইনজেক্ট ফ্যাশন,ওলি্যও ফ্যশন, সরদার গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল ৮টার আগেই দলে দলে কাজে যোগ দিচ্ছেন শ্রমিকরা। এদের বেশিরভাগই নারী শ্রমিক। অনেকে আবার নতুন কাজের জন্য ভিড় করেছেন। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হঠাৎ গার্মেন্টস খোলার ঘোষণায় অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকে অনেক কষ্ট করে এসেছেন। অনেকে আবার ঢাকাতেই ছিলেন বলে জানান।

মালিবাগে আল মুসলিম কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকদের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা আছে। প্রত্যেক শ্রমিক সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে, তাপমাত্রা মেপে, স্যাভলন যুক্ত পানিতে পা ভিজিয়ে কারখানায় প্রবেশ করছে। সেখানের গেটে থাকা নিরাপত্তা কর্মী জানান কিছুক্ষণ পরপরই তারা জীবাণুনাশক পানি ছিটিয়ে দিচ্ছেন কারখানার আশেপাশে এবং প্রত্যেক শ্রমিক যেন নিয়ম মেনে কারখানায় ঢুকে সেদিকে বিশেষ নজর রাখছেন।

হাজীপাড়া অবস্থিত নিউ ফয়সাল নামের এক পোশাক কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, সামনে অনেক নারী-পুরুষের ভিড়। তবে তাদের কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। সেখানকার একজন পাপিয়া বেগম বলেন, ‘আমার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। হঠাৎ করে কারখানা খোলার ঘোষণায় অনেক কষ্ট করে ঢাকায় আসতে হয়েছে।’ গতকাল রাতে রওনা দিয়ে আসার সময় কাভার্ডভ্যানের ভিতরে বসে দমবন্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আসতে হয়েছে। ঢাকার বাইরে থেকে শ্রমিকদের আসতে নিষেধ করেছে এর পরেও কেন আসলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে মোবাইলে মেসেজ পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আজকে কাজে জয়েন না করলে বেতন কাটা যেতে পারে।’

একই কথা জানালেন সরদার গার্মেন্টস এর কর্মী হাজেরা। তিনি বলেন, ‘বরিশালের মুলাদি থেকে ভেঙে ভেঙে কয়েকভাবে রিক্সা-ভ্যান কাভার্ড ভ্যান , মিনি ট্রাক এর মধ্যে গাদাগাদি করে আসতে হয়েছে। ফেরি পারাপারের সময় মনে হয়েছিল দমটা বন্ধ হয়ে যাবে। আর মনে হয় ফিরতে পারব না। অন্যদিকে আরিফ নামে এক যুবক বলেন, আমি ঢাকাতেই ছিলাম।’

প্রসঙ্গত, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে আজ থেকে রফতানিমুখী শিল্পকারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এজন্য করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চলমান বিধিনিষেধে গ্রামে থাকা শ্রমিকদের কাজে না ফিরতে অনুরোধ জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।

শ্রমিকদের অভয় দিয়ে সংগঠনটি বলছে, বিধিনিষেধ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে যোগ না দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কিন্তু শ্রমিকদের দাবি তাদের ফোন করে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, কাজে যোগ না দিলে চাকরি থাকবে না। এমনকি তাদের বেতন কাটা যাবে। এজন্য শনিবার বিধিনিষেধের মধ্যে রাজধানীতে ফিরেছে তারা। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যদিয়ে কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়ায় তাদের ফিরতে হয়েছে। সাইকেল, রিকশা, অটোরিকশা, ভ্যান, হিউম্যান হলার, ট্রাক ও মোটরসাইকেলে করে তারা বাড়ি থেকে আসেন। কিন্তু ঢাকার প্রবেশমুখে পুলিশের বাধায় অনেকে পায়ে হেঁটে ঢাকায় ঢোকেন। ফেরিগুলোতেও ছিল জনস্রোত।

যাযাদি/এসএইচ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে