শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১

‘দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সরকারের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ’

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া
  ২৪ জুন ২০২৪, ১৩:২১
-ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে বিশে^র সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনার পথে। নিম্ন আয়ের দেশের গ্লানি থেকে মুক্তি পেয়ে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে চলমান অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়নের পথে দুর্নীতি একটি অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গিয়েছে।

দূর্নীতির প্রভাবে বাংলাদেশ যে গতিতে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা সেইভাবে হচ্ছে না। বাংলাদেশের অনেক আর্থ-সামাজিক সমস্যার জন্য দুর্নীতিই দায়ী। দুর্নীতির কারণেই কিছুক্ষেত্রে সমাজের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, ধনী-গরিবের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে এবং সাধারণ নাগরিকদের দেশপ্রেম হ্রাস পাচ্ছে। দুর্নীতি একটি বৈশি^ক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত, যা থেকে পৃথিবীর কোনো দেশই মুক্ত নয়। বৈশি^ক প্রেক্ষাপটের বাস্তবতায় বাংলাদেশও কোনো ব্যতিক্রম নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের কঠোর পরিশ্রম সত্ত্বেও বাংলাদেশে অভাব-অনটন, নৈতিক অবক্ষয়, সুশিক্ষার অভাব, অস্বচ্ছতা, দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো এসবই দুর্নীতির ফলাফল।

এমতাবস্থায়, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বাঁধা সৃষ্টিকারী এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আপোষহীন মনোভাব পোষণ করছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একমাত্র অভিশাপ এই দুর্নীতিকে দেশ থেকে চিরতরে নির্মূলের লক্ষ্যে শেখ হাসিনার সরকার প্রতিনিয়ত কঠোর অভিযান পরিচালনা করছে । দুর্নীতি বিরোধী এসব কঠোর অভিযান নিঃসন্দেহে সরকারের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ।

দুর্নীতি প্রতিরোধ ও রাষ্ট্রপরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান অনন্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ সংগ্রামের চালিকাশক্তি ছিল একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ সমাজের স্বপ্ন। কিন্তু রাষ্ট্রের ৫৪ বছরের ইতিহাসে সেই স্বপ্ন বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে, পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং মুখ থুবড়ে পড়েছে দুর্নীতি নামক অভিশাপের ফলে। জাতির পিতার শাহাদাত, সামরিক শাসন এবং স্বৈরাচারী, গণবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ক্ষমতা দখল এবং তাদের চরম দূর্নীতি জনগণের সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নকে বারবার দূরে সরিয়ে দিয়েছে। জনগণের জীবনে এ ধরনের শাসনের কুফল প্রতিফলিত হয়েছিল অনুন্নয়নে, বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্যে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের অবদমনে, রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনায়, দুর্নীতিতে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শুদ্ধাচারের অভাবে।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ সরকার এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে, অব্যবস্থার বিরুদ্ধে এবং রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল। এই যুদ্ধকে শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও তাঁর শাসনামলে একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন। দূর্নীতিমুক্ত এবং অসাম্প্রদায়িক সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে দূর্নীতি সমূলে উৎখাত করতে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার এই যুদ্ধ এখনো চলমান রয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার বিগত কয়েকটি বছর জুড়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সাধারণ জনগণকে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আশান্বিত করে তুলেছে। ক্যাসিনো কিংবা জুয়ার বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং যুবলীগে শুদ্ধি অভিযান এখনও সকলের কাছে প্রশংসনীয় কাজ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

এমনি বিগত বছরে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষুব্ধ হওয়ার মূল কারণও ছিল দুর্নীতিসহ নানান অনিয়মের সঙ্গে ওই নেতারা জড়িত হয়ে পড়েছিল। এজন্য তাদের পদত্যাগও করতে হয়েছে। কারণ এবারের ন্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের কার্যালয়ে প্রথম কার্যদিবসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি বলেছেন, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত এবং এর অর্জনসমূহ সমুন্নত রাখতে সরকার দুর্নীতিবিরোধী লড়াই অব্যাহত রাখবে। দূর্নীতির ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য হলো, ‘ঘুষ যে নেবে ও দেবে দুজনই সমান অপরাধী; বরং যে দেবে সে বেশি অপরাধী। এটা মাথায় রেখেই কাজ করতে হবে।’ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দূর্নীতির ব্যাপারে কতটা কঠোর অবস্থানে রয়েছে তা তাঁর এমন সব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং বক্তব্যের মধ্যে খুব চমৎকারভাবে ওঠে এসেছে।

এছাড়াও চলতি মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাস-মাদক-জঙ্গিবাদের মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধেও আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের এই নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতিমুক্ত সুশাসনের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের অন্তর্ভুক্তি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার দৃঢ় রাজনৈতিক সংকল্পেরই প্রতিফলন। সে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তিনি সচেষ্ট থাকবেন- এই বিষয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই । দুর্নীতির বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের এই কঠোর অবস্থান সুধী সমাজসহ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থানে আগে থেকেই ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত মেয়াদে তার নির্দেশনায় দেশজুড়ে চলেছে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান। ছাড় দেয়া হয়নি প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতাকে। দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়েছিল কঠোর ব্যবস্থা।

বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি বিরোধী কঠোর অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূলের লক্ষ্যে শেখ হাসিনার সরকার দুর্নীতি দমনের জন্যে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছেন যা চারিত্রিক সাধুতা বা শুদ্ধতা অর্জন ও দুর্নীতি দমনের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জাতীয় একটি কৌশল-দলিল হিসেবে কাজ করছে। এই কৌশল বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক আইনকানুন ও বিধি-বিধানের সুষ্ঠু প্রয়োগ, পদ্ধতিগত সংস্কার ও উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সবার চরিত্র নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গৃহীতব্য কার্যক্রমও চিহ্নিত করা হয়েছে। তাছাড়া সব স্তরে দুর্নীতি প্রতিরোধে ফৌজদারি আইন, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, তথ্যের অধিকার নিশ্চিতে তথ্য কমিশন, মানী লন্ডারিং আইন, সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধ, সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে পারস্পরিক আইনি সহায়তা, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম প্রতিরোধসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি দুর্নীতি রোধে মনিটরিং, ব্যাংক হিসাব জব্দ, বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও সামাজিক অপরাধ রোধে সরকার কাজ করছে। বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, উন্নত নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ও তদারকি ব্যবস্থা, বিভিন্ন স্তরে জাতীয় দুর্নীতি প্রতিরোধ কাঠামো, উন্নত শাসন ব্যবস্থা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা তৈরির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক এবং কমিউনিটি পর্যায়ে বিভিন্ন পদ্ধতি গৃহীত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও সুশাসন খুবই জরুরী। তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে যেমন কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, তেমনি ৭ম জাতীয় বেতন স্কেলের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাড়িয়েছেন। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার জন্য গণশুনানির ব্যবস্থাও করেছেন। এই সকল উদ্যোগ মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতি দমনে সাহায্য করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পরিশেষে, ঘুষ ও দুর্নীতি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের মতো যেকোনো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির সবচেয়ে বড় শত্রু। বাংলাদেশের দুর্নীতির আওতা ও পরিধি অনেক ক্ষেত্রে এতটাই ব্যাপক যে, একে কয়েক লাইনের একটি প্রবন্ধে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। ঘুষ ও দুর্নীতি হলো নীতিবিরুদ্ধ একটি ঘৃণিত অপরাধমূলক কাজ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঘুষ ও দুর্নীতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। যদিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য দূরীকরণসহ সর্বোপরি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে কঠিনতম অন্তরায় দুর্নীতি, তথাপি দেশের আপামর জনগণ দুর্নীতিগ্রস্ত নয়। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়া কিছু দূর্নীতিবাজের দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগী মাত্র। এমন কিছু ক্ষমতাবান ব্যক্তির দূর্নীতির কারণে এদেশের জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত। যার ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে চারদিকে এতো এতো উন্নয়নের সুফল এখনো জনগণ সঠিকভাবে ভোগ করতে পারছেনা। এমনকি তাদের কাছে এই উন্নয়নের সুফল পৌঁছাতেই পারছেনা যা কোনো দেশের সরকারের পক্ষে কখনোই কাম্য হতে পারেনা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের এতো এতো উন্নয়ন কিছু স্বার্থেন্বেসী দূর্নীতিবাজ মানুষের অপকর্মের ফলে ম্লান হয়ে যাবে তা কখনোই আওয়ামী লীগ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মেনে নিবেনা। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দূর্নীতির ব্যাপারে জোরালোভাবে যে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে তাতে সফল না হওয়া পর্যন্ত তিনি হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো নন। আমাদের বিশ^স মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বাঁধা সৃষ্টিকারী এই দুর্নীতিকে বাংলাদেশ থেকে চিরতরে নির্মূল করার মাধ্যমে অচিরেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণ করবে। আর তা কেবল সরকারের সদিচ্ছার মাধ্যমেই সম্ভব হতে যাচ্ছে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

লেখক : উপাচার্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

সাবেক চেয়ারম্যান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে