বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনেও পুলিশকে প্রস্তুত হতে হবে

যাযাদি রিপোর্ট
  ০১ মার্চ ২০২৪, ০০:০০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বৃহস্পতিবার ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান আইজিপি চৌধুরী আবদুলস্নাহ আল মামুন -স্টার মেইল

প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনেও পুলিশকে প্রস্তুত হতে নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে নতুন নতুন অপরাধ দেখা দিচ্ছে। যথাযথভাবে সেগুলো দমনে পুলিশকে প্রস্তুত থাকতে হবে।'

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ের (পিএমও) শাপলা হলে 'পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪' উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভায় দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন।

'প্রযুক্তির উৎকর্ষতা যত বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরাধও ভিন্ন ভিন্নভাবে হচ্ছে' উলেস্নখ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'নতুন নতুন মাত্রায় অপরাধ দেখা দিচ্ছে। সেগুলো যথাযথভাবে মোকাবিলা করার জন্য আমাদের পুলিশ বাহিনী যেন প্রস্তুত থাকে। এ বিষয়ে আমরা যথেষ্ট যত্নবান এবং নজর দিচ্ছি। কারণ, ক্রাইমের সঙ্গে সঙ্গে সেটাকে মোকাবিলা করার সিস্টেমটা যদি না চলে তাহলে কিন্তু যথাযথভাবে সেটা (মোকাবিলা) করা যায় না। যে কোনো কর্মস্থলে নারী-পুরুষ-শিশু যারাই থাকুক তাদের আপনজন বিবেচনা করে তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের সেবা করবেন, এটাই সবাই চাই।'

'পুলিশ বাহিনী এখন মানুষের বন্ধু হিসেবে কাজ করছে' উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আজকাল মানুষ আর আগের মতো পুলিশকে ভয় পায় না। এখন তারা আস্থা ফিরে পেয়েছে। পুলিশকে নিজের বন্ধু এবং আস্থার জায়গা হিসেবে সাধারণ মানুষ বিবেচনা করে। মানুষের এই বিশ্বাস এবং আস্থা অর্জন করতে হবে।'

আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা, পুলিশকে মারা, পুলিশ হত্যাসহ সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের যে মামলাগুলো রয়েছে এর দীর্ঘসূত্রিতা থাকার প্রসঙ্গ উলেস্নখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই মামলাগুলো কিন্তু যথাযথভাবে চলে না। আমি মনে করি যারা এই ধরনের অপরাধ করে তাদের মামলাগুলো যদি যথাযথভাবে চলে এবং যদি দ্রম্নত সাজা হয়ে যায়, তাহলে আর অপরাধ করার সাহস পাবে না। সেই লক্ষে আগামীতে যেন আর কেউ এভাবে পুলিশের ওপর আক্রমণ করতে না পারে সেভাবে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, 'রাজনীতির নামে হোক আর সন্ত্রাসের নামে হোক আইনকে যাতে নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে এবং আইন শৃঙ্খলা ও মানুষের জানমাল এবং জাতীয় সম্পদের ক্ষতি করতে না পারে এ ব্যাপারে পুলিশকে অবিচল থাকতে হবে। যখনই যেটা দরকার যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি আপনাদের কাছে সেটাই কামনা করি। কেউ যেন আইনকে নিজের হাতে তুলে নিতে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে।'

আওয়ামী লীগ সরকার এসে জনগণের ক্ষমতা আবার জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কাজেই জনগণের শান্তি শৃঙ্খলা জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাই ও প্রতি মেয়াদে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা দেই এবং তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করি।'

তিনি বলেন, 'যেহেতু ২০০৯ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় থাকার ফলে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা বিরাজমান। পাশাপাশি পরিস্থিতিও সেভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। কাজেই আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। আমরা এখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'একটানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকায় আজকে বাংলাদেশকে কেউ আর তুচ্ছতাচ্ছিল্যের চোখে দেখতে পারে না। বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বে নিজের একটা স্থান করে নিতে পেরেছে। এখন বাংলাদেশকে বিশ্বে উন্নয়নের মডেল হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু সেই ভাবমূর্তি ধরে রেখে আমাদের সামনের দিকে এগোতে হবে। সেই জন্য আমাদের যেকোনো কাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে জানমালের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে যেকোনো অপরাধ সেটা মোকাবিলা এবং সাজার ব্যবস্থাকরণে যথাযথ দায়িত্ব পালন করা সকলের কর্তব্য। সেভাবেই আপনারা কাজ করে যাবেন।'

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে