বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

উত্তাল ও গৌরবের সেই মাসের সূচনা আজ

যাযাদি রিপোর্ট
  ০১ মার্চ ২০২৪, ০০:০০

বছর ঘুরে আবার এসেছে আগুনঝরা, উত্তাল মার্চ। বাঙালি জাতির গৌরব ও অহঙ্কারের এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মাস। আজ ১ মার্চ, সেই গৌরবের মাসের সূচনা। ৫৩ বছর আগে ১৯৭১ সালের এ মার্চেই ডাক এসেছিল বাঙালির স্বাধীনতার। তারা শুরু করেছিল পরাধীনতার গস্নানি থেকে নিজেকে মুক্ত করার সশস্ত্র সংগ্রাম। প্রায় দুই যুগের ধারাবাহিক আন্দোলনের পথ ধরে এ মার্চেই অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রাম।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ ছিল সোমবার। এদিনই জাতীয় পরিষদের পূর্ব নির্ধারিত অধিবেশন বাতিলের আকস্মিক ঘোষণা আসে। আর ইয়াহিয়া খানের এ ধরনের ঘোষণায় ফুঁসে ওঠে সমগ্র জাতি।

স্মৃতি পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকা স্বাধীনতার মাস মার্চের প্রথম দিন আজ। ১৯৭১ এর এ মাসে স্বাধীনতাকামী জনতার আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ। তবে এ আন্দোলন আকস্মিক নয়। মুক্তিযুদ্ধ অনেক আগে থেকেই বাঙালির মনে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। আর মার্চে সে ক্ষোভ রূপ নেয় স্বাধীনতা যুদ্ধে।

'তুমি যে সুরের আগুন ছড়িয়ে দিলে, মোর প্রাণে সেই আগুন ছড়িয়ে গেলো সবখানে, সবখানে'- কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এ কবিতার মতো বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণে 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' স্বাধীনতার অমর কাব্যের এই পঙ্‌ক্তিটি বাঙালি জাতিকে ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তায় বলীয়ান করে তোলে।

এর চার মাস আগে অর্থাৎ ১৯৭০ সালে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় পরিষদের নির্বাচন। সে নির্বাচনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর

রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আওয়ামী লীগের এ বড় জয়ে সমগ্র বাঙালি জাতি যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে, ঠিক তখনই জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বাতিল করেন সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান। পূর্বনির্ধারিত ৩ মার্চের এ অধিবেশন শুরুর মাত্র দুদিন আগে নেওয়া পাক শাসকের এ ধরনের আকস্মিক সিদ্ধান্তে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলার জনপদ।

অধিবেশন বাতিলের ঘোষণার পরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে মুক্তিকামী জনগণ। সেদিন দুপুর থেকেই পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে অসহযোগ শুরু হয়। বেতার যন্ত্রে অধিবেশন বাতিলের খবর আসার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাংলায়। এই আন্দোলন দমানোর জন্য ২৫ মার্চ কালরাতে হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আটক করে নিয়ে যায় পশ্চিম পাকিস্তানে। আকস্মিকভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরীহ মানুষের ওপর।

তবে পাকবাহিনীর এসব হটকারী আর একতরফা সিদ্ধান্ত নীরবে মেনে নিতে পারেনি সংগ্রামী চেতনায় বাঙালি জাতি। বরং শোষক গোষ্ঠীর বিষদাঁত ভেঙে দিতে বেছে নিয়েছে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ। এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ মার্চ শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস অবিরাম যুদ্ধের পর ওঠে স্বাধীনতার সূর্য। ১৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় বাংলাদেশ। বাংলার আকাশে ওড়ার স্বাধীনতা পায় লাল-সবুজের পতাকা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে