/assets/news_photos/2021/05/07/image-165732-1620315151.jpg সিনোফার্মের টিকা নিয়ে জানার আছে অনেক কিছু

করোনা :বিশেষজ্ঞ মত

সিনোফার্মের টিকা নিয়ে জানার আছে অনেক কিছু

সিনোফার্মের টিকা নিয়ে জানার আছে অনেক কিছু
ডা. আয়শা আখতার

ফাইজার ও মডার্নার তুলনায় চীনের সিনোফার্ম টিকা সংরক্ষণের জন্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি (কোল্ড চেইন সিস্টেম) অপেক্ষাকৃত সহজ। ফলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এই টিকাটির সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং বিপণন প্রক্রিয়া অধিকতর উপযোগী বলে মনে করেন সরকারের জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের ব্যাক্টেরিওলজিস্ট (জীবাণুবিশারদ) ও সেন্টার ফর রিসার্চ, ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাকশন'র (কানাডা) রিসার্চ ট্রেইনি ডা. আয়শা আকতার।

তিনি যায়যায়দিনকে বলেন, দেশে করোনা মহামারি মোকাবিলায় ভারতের সেরাইন্সটিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চলমান টিকাদান কার্যক্রগতিশীল রাখতে সম্প্রতি সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর দ্রম্নততসময়ে রাশিয়ার গামালিয়া ইন্সটিটিউট উদ্ভাবিত স্পুটনিক-ভি এবং চীনের সিনোফার্ম টিকার জরুরি অনুমোদন দিয়েছে।

ডা. আয়শা আকতার জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, একাধিক দেশে চালানো তৃতীয় ট্রায়ালে দুই ডোজ দেওয়ার পর ৭৮ দশমিক ১ শতাংশ কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। যা ইতোপূর্বে চীনা সংস্থাটির দাবিকৃত ৭৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ কার্যকারিতা হারের চেয়ে কিছুটা কম। সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিচালিত পৃথক এক গবেষণায় ভ্যাকসিনটি শতকরা ৮৬ শতাংশ কার্যকর বলে দাবি করা হয়েছে, যদিও সম্পর্কিত ফলাফল এখনো কোনো গবেষণাপত্র বা রিপোর্টে প্রকাশ হয়নি। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বর হতে আজ পর্যন্ত ৩১ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক (১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সি) সিনোফার্মের টিকাটি গ্রহণ করেছেন এবং ৯৯ ভাগ গ্রহীতার শরীরে টিকাটি কার্যকরী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়তে সক্ষহয়েছে।

এক্ষেত্রে উক্ত রোগীদের কারও ক্ষেত্রেই মারাত্মক কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার ঝুঁকি আছে কিনা সে বিষয়ে তারা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সিনোফার্মের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের জরুরি অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

উলেস্নখ্য যে, সিনোফার্ম উদ্ভাবিত বিবিআইবিপি- সিওআরভি (ইইওইচ-ঈড়ৎঠ) মূলত একটি নিষ্ক্রিয় বা ইনেক্টিভেটেড টিকা যা ইনফ্লুয়েঞ্জা, ইনেক্টিভেটেড পোলিও বা র?্যাবিস ভ্যাকসিনের মতো বহুল প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণে তৈরি। চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সিনোফার্ম নামক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের একদল গবেষক বিভিন্ন ধাপে প্রয়োগ ও পরীক্ষার মাধ্যিেটকাটি উদ্ভাবন করে। যেহেতু টিকাটি নিষ্ক্রিয় বা ইনেক্টিভেটেড ভাইরাস থেকে তৈরি তাই মানব দেহে আশানুরূপ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২৮ দিন ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা গ্রহণ আবশ্যক। টিকাটি সাধারণত বাহুর মাংসপেশিতে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

ইতোমধ্যে ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশসহ বিশ্বের কমপক্ষে ৩৫টি দেশ সিনোফার্ম ভ্যাকসিন ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। শ্রীলংকা, ফিলিস্তিন, মালদ্বীপ, নেপাল ও পাকিস্তান সম্প্রতি ভ্যাকসিন অনুমোদন চূড়ান্ত করেছে। এছারাও বিশ্বের ৭টি দেশে ভ্যাকসিনটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ অব্যাহত আছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে