বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
walton
সিরিজ ককটেল হামলা ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগকারী চারজন গ্রেপ্তার

রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে তারা পেশাদার নাশকতাকারী

যাযাদি রিপোর্ট
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০০:০০

সিরিজ ককটেল হামলা ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগকারী চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। তারা ধারাবাহিকভাবে ২১টি নাশকতার ঘটনা ঘটিয়েছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ে আড়ালে তারা মূলত পেশাদার নাশকতাকারী। তাদের হামলার টার্গেট থেকে বাদ যায়নি ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ও। এ ছাড়া যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা ছিল তাদের নিয়মিত কাজের অংশ।

বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ডক্টর খন্দকার মহিদ উদ্দিন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে ঢাকার পল্টন ও মুগদা এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে রমনা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হচ্ছেন, পল্টন থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম ও একই দলের সদস্য আশিকুর রহমান পান্না, সুমন হোসেন ওরফে রনি ও বিলস্নাল হোসেন।

গ্রেপ্তারদের বরাত দিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর ডিএমপির রমনা থানা এলাকায় অবস্থিত ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়। ফুটেজ মোতাবেক আশিকুর রহমান পান্না ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের পূর্বে পাশে অবস্থিত জাতীয় রাজস্ব ভবনের ছাদ থেকে ককটেল নিক্ষেপ করে। এর আগে তিনি রাজস্ব ভবনের সিঁড়ি দিয়ে একটি লাল-সাদা রঙের শপিং ব্যাগে করে ককটেল নিয়ে ওই ছাদে ওঠেন। ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর পর খালি হাতে ভবন থেকে বেরিয়ে যান। পান্নাকে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আশিকুর ঢাকার রমনা ও মতিঝিল এলাকায় আরও ৪টি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার তথ্যমতে ডিএমপির পল্টন থানার চামেলীবাগ থেকে শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গত ২৮ অক্টোবর ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রমনা ও মতিঝিল এলাকায় দুষ্কৃতিকারীরা নাশকতা চালিয়ে জনমনে ভীতির সঞ্চার করে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩ ডিসেম্বর সুমন হোসেন রনি ও বিলস্নাল হোসেন টার্গেটকৃত একটি জায়গায় হামলা করতে ককটেলসহ মোটর সাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। পল্টন থানার জোনাকি সিনেমা হলের গলিতে রিকশায় যাওয়ার পর রিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই ৩২টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় দু'জনই আহত হন। তারা সবুজবাগ থানাধীন হেলথ কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এরপর তারা উত্তর মুগদার একটি বাড়িতে আত্মগোপন করেন। মঙ্গলবার রাতে মুগদার ওই বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা মূলত রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে পেশাদার নাশকতাকারী।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে