জিম্বাবুয়ের চার সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের শূন্য

জিম্বাবুয়ের চার সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের শূন্য

২০১৩ সালের পর জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারের লজ্জা পেয়েছে বাংলাদেশ। এক ম্যাচ বাকি থাকতে এই সিরিজ পরাজয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচের মতো সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও ৫ উইকেটে হারে টাইগাররা। এমনকি প্রথম ওয়ানডের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও দুটি সেঞ্চুরি আসে জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের কাছ থেকে। দুই ম্যাচে চার সেঞ্চুরি করে মনে রাখার মতো দুটি ম্যাচ জিতে নিয়েছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। বুধবার (১০ আগস্ট) শেষ ম্যাচটি জিততেই হবে বাংলাদেশকে। তা না হলে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরতে হবে তামিমদের। দুই ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের যেখানে চারটি সেঞ্চুরি সেখানে বাংলাদেশের নেই কোনো সেঞ্চুরি। প্রথম ম্যাচে চারটির পর দ্বিতীয় ম্যাচেও বাংলাদেশ পেয়েছে দুটি ফিফটি কিন্তু হয়নি কোনো সেঞ্চুরি। এমন বড় পার্থক্যই সিরিজ হারের কারণ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

অবশ্য বহুবচনে না বলে বলা যায় দুই ম্যাচেই বাংলাদেশ হেরেছে চারটা সেঞ্চুরি ইনিংসের কাছে। যেখানে নিঃসন্দেহে নায়ক বলা যায় ৩৬ বছর বয়সি সিকান্দার রাজাকে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ হার এই দলের অনেকের জন্যই নতুন এক অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশ ক্রিকেটের উত্থান যুগে জয়ের অভ্যাসটা তো এই দলটার বিপক্ষেই গড়ে উঠেছিল। তাদের বিপক্ষেই টি২০র পর ওয়ানডে সিরিজেও পেরে উঠল না টাইগাররা। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিয়েছে বিশ্বক্রিকেটের এক সময়ের ডার্কহর্সরা। বাংলাদেশ অধিনায়ক এমন হারের জন্য দুষছেন ব্যাটিংকেই। সিরিজে দু'দলের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে ব্যাটিংই।

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে প্রথম ওয়ানডেতে ২ উইকেটে ৩০৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। টাইগারদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮১ রান করেছিলেন ওপেনার লিটন দাস। জবাবে ১০ বল বাকি রেখে ৩০৪ রানের টার্গেট স্পর্শ করে ফেলে জিম্বাবুয়ে। ঐ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের পক্ষে জোড়া সেঞ্চুরি করেছিলেন ইনোসেন্ট কায়া ও সিকান্দার রাজা। কাইয়া ১১০ ও রাজা অপরাজিত ১৩৫ রান করেন।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটারদের হাত ধরে বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ৯ উইকেটে ২৯০ রান তুলেছিল টাইগাররা। সর্বোচ্চ ৮০ রান আসে মাহমুদউলস্নাহ রিয়াদের কাছ থেকে।

জবাবে অধিনায়ক রেগিস চাকাভা ও রাজার জোড়া সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ২৯১ রানের টার্গেট স্পর্শ করে ফেলে জিম্বাবুয়ে। চাকাভা ১০২ ও রাজা অপরাজিত ১১৭ রান করেন। দুই ওয়ানডেতে চারটি সেঞ্চুরি করে জিম্বাবুয়ে। সেখানে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটাররা সেঞ্চুরির ধারে কাছেও যেতে পারেননি। সিরিজে এই চার সেঞ্চুরিতেই বাংলাদেশের বিপক্ষে দাপটের সঙ্গে প্রথম দুই ওয়ানডে জিতে সিরিজ পকেটে ভরে নেয় জিম্বাবুয়ে। সেঞ্চুরি না থাকলেও ছয়টি হাফসেঞ্চুরি আছে বাংলাদেশের।

তবে জিম্বাবুয়ের চারটি সেঞ্চুরির বিপরীতে বাংলাদেশের সেঞ্চুরির ভান্ডার শূন্য হওয়ায় সিরিজ হারের পেছনে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে বলে মনে করেন তামিম। ম্যাচ শেষে তামিম বলেন, 'সিরিজ হারের পার্থক্য হচ্ছে তারা চারটি সেঞ্চুরি পেয়েছে এবং আমরা একটিও পাইনি। এ কারণেই আমরা ভালো সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারি। ভালো শুরু পেয়েছি, কিন্তু ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারিনি।'

উইকেট ভালো থাকলেও নিজেদের সেরাটা খেলতে পারেননি বলে জানান তামিম। জিম্বাবুয়ে ভালো খেলে সিরিজ জিতেছে এমনটা স্বীকার করলেন তামিম, 'শুরু থেকেই উইকেট ভালো ছিল। স্পিনারদের বিপক্ষে খেলা সহজ ছিল না। জিম্বাবুয়েকে কৃতিত্ব দিতে হবে। এই সিরিজে সেরা দল ছিল তারা। আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আমরা সেরা ক্রিকেট খেলতে পারিনি এবং এজন্য আমরা এই অবস্থানে।'

বাংলাদেশ অধিনায়ক ব্যাটিংকে দুষলেও কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ভুল ধরছেন বোলারদের। চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে বাজে বোলিং আর বাজে ফিল্ডিংয়ে লড়াইটা জমাতে পারেনি টাইগার বোলাররা, এমনটাই মত তার।

তিনি বলেন, 'দুটি ম্যাচেই ৬০/৩, ৪০/৪ ছিল। ছেলেরা চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনি। বেশি আলগা বল করে ফেলেছে, ভুল ফিল্ডিংয়ে বল করেছে। ভুল অপশন বেছে নিয়েছে। তারা চেষ্টা করছে অনেক, তবে ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারছে না। এটিই সবচেয়ে হতাশাজনক। ভালো দল আপনাকে শাস্তি দেবেই।'

সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই হেরে যাওয়ায় শেষ ম্যাচটা পরিণত হয়েছে নিছক নিয়মরক্ষার। তবে জিম্বাবুয়ের জন্য এটা হতে পারে দারুণ উপলক্ষ। এ ম্যাচ জিতলেই তারা বাংলাদেশকে দিতে পারবে হোয়াইটওয়াশের স্বাদ। সাম্প্রতিক সময়ে যা হতে পারে তাদের জন্য দারুণ অর্জন। তবে তামিম বলছেন, নিজেদের সেরা খেলাটা এখনো খেলা বাকি। শেষ ম্যাচে স্বরূপে ফিরবে টাইগাররা, এমনটাই বিশ্বাস তার।

অন্যদিকে কোচ ডমিঙ্গো এই সিরিজের ফলকে দেখছেন সতর্কবার্তা হিসেবে। ওয়ানডে সুপার লিগের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এই হারে খুব একটা ক্ষতি হচ্ছে না টাইগারদের কিন্তু কমতিগুলো চোখে আঙুল দিয়ে ধরিয়ে দিল জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের কোচ বলেন, গত দুই দিনের পারফরম্যান্সে ওয়ানডে দলকে সমালোচনা করা ঠিক হবে। তবে অনেক কাজ করার বাকি। তারা ৪টি শতক করেছে, আমরা একটিও করিনি। কোচিং স্টাফের সদস্য এবং দলের সবাই বড় শিক্ষা পেয়েছে। বিশ্বকাপ আসছে। ভাগ্যক্রমে এসব ম্যাচে পয়েন্ট নেই।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে