বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

সিরিজ হারের কোনো অজুহাত দেখাতে চান না শান্ত

ক্রীড়া ডেস্ক
  ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০০:০০
নাজমুল হোসেন শান্ত

টি২০ ও ওয়ানডে সিরিজে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেলেও টেস্ট সিরিজে শ্রীলঙ্কার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টেস্টেও ১৯২ রানের হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ফলে ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজ হারের পেছনে টাইগারদের ব্যাটিং ব্যর্থতা ও একের পর এক ক্যাচ মিসকেই দায়ী করা হচ্ছে।

সিলেটে ৩২৮ রানের হারের পর চট্টগ্রামে হারের ব্যবধান ১৯২ রান। বুঝাই যাচ্ছে দুই টেস্টের সিরিজে লড়াই তো দূরের কথা দাঁড়াতেই পারেনি টাইগাররা। হারের পেছনে বড় দায় ব্যাটারদেরইও দেওয়া হচ্ছে। চার ইনিংসে মাত্র একবারই দুইশ'র বেশি রান করতে পেরেছে টাইগাররা। চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে অলআউট হওয়ার আগে ৩১৮ রান করে টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকা মেহেদী হাসান মিরাজ করেন ৮১ রান।

ব্যাটিং ব্যর্থতার দায় মাথা পেতে নিচ্ছেন টাইগারদের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার দাবি, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারেনি বাংলাদেশ দল। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, 'পুরো সিরিজে আমরা ভালো ব্যাটিং করিনি। অজুহাত দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অনেক কথা বলা যেতে পারে। কিন্তু দল হিসেবে আমরা দুই ম্যাচের চার ইনিংসে ভালো ব্যাটিং করিনি।'

চট্টগ্রাম টেস্টে ফিল্ডিংয়ের কারণেও সমালোচিত হয়েছে টাইগাররা। স্স্নিপে সহজ ক্যাচ ফেলেছে। টাইগারদের বাজে ফিল্ডিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলও করা হচ্ছে। ফিল্ডিংয়ের ব্যাপারে নাজমুল বলেন, 'ফিল্ডিংয়ের বিষয়ে যেটা বলব যে, সবাই যথেষ্ট অনুশীলন করেছে। অনুশীলনে সবাই প্রত্যেকটা ক্যাচও নেয়। কেন হয়েছে তার উত্তর নেই। তবে ফিল্ডিংয়ের প্রস্তুতির কথা যদি বলি, তাহলে বলব সবাই প্রস্তুত ছিল। কিন্তু ক্যাচগুলো আমরা নিতে পারিনি।'

টেস্ট সিরিজজুড়েই বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা উইকেট বিলিয়েছেন দৃষ্টিকটু শট খেলে। শান্তর দাবি, অনভিজ্ঞতার কারণেই এমনটা হয়েছে, 'একদমই তরুণ দল, বেশ কিছু তরুণ খেলোয়াড় খেলছে এই দলে। খুব বেশি অভিজ্ঞ না। খেলতে খেলতে হয়তো ওই অভ্যাসটা চলে আসবে। এখানে যারা আছে প্রত্যেকের ওই ইচ্ছাটা আছে, আগ্রহ আছে কীভাবে আরও বেটার ক্রিকেটটা খেলতে পারে। আমার মনে হয় আরও সময় গেলে এই দলটা আস্তে আস্তে ভালোভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।'

এই টেস্টের আগে টাইগাররা টানা সাদা বলের ক্রিকেটে খেলেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটেও ছিল সাদা বলের খেলা। বিপিএলের পর ডিপিএল, সাদা বলের ব্যস্তসূচিতে লাল বলের জন্য প্রস্তুতিটা ঠিকঠাক হয়নি। তবে আধুনিক ক্রিকেটের বাস্তবতায় একে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে নারাজ শান্ত, 'এটা একটা কারণ হতে পারে। কিন্তু এই কথাটা আমি বলতে চাই না। কারণ বর্তমান সময়ে যেরকম খেলা চলছে আমাদের এগুলো মানিয়েই খেলতে হবে। হঁ্যা, যারা তিন ফরম্যাট খেলে না তাদের হয়তো প্রস্তুতি একটু নেওয়ার সুযোগ থাকে। এখন সামনে যত খেলাই আছে আমাদের এভাবেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। এভাবেই আমরা তিন সংস্করণে কিভাবে মানিয়ে নিয়ে খেলতে পারি সেই চিন্তা করে অনুশীলন, প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।'

টেস্ট সিরিজে এমন বাজে পারফরম্যান্সের জন্য দল অনুশোচনায় ভুগছে বলেও জানান শান্ত, 'দল খারাপ করার পরে খারাপ লাগাটা কাজ করে এবং কীভাবে এটা আরও ভালো করতে পারে দলের জন্য সেটা সবসময় প্রত্যেকটা পেস্নয়ারের মধ্যে থাকে।'

অথচ প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি দেখছেন না অধিনায়ক, 'ফিল্ডিংয়ের ব্যাপারে বলব যে সবাই যথেষ্ট অনুশীলন করে সবাই অনুশীলনে প্রত্যেকটা ক্যাচও ধরে। কেন হয়েছে এটার অ্যান্সার নেই কিন্তু প্রস্তুতি যদি বলেন ফিল্ডিংয়ে সবাই ভালোমতো প্রস্তুত ছিল। কিন্তু ক্যাচগুলো আমরা ধরতে পারিনি।'

তবে ফলাফল যা হয়েছে কিংবা যেমন ব্যাটিং করেছেন টাইগাররা, তার চেয়ে নিজেদের আরও ভালো বলেই দাবি করলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে উন্নতির জায়গায় দেখছেন তিনি, 'আমি বলব যে, দুইটা ম্যাচে ওরা (বাংলাদেশের ব্যাটার) যেরকমভাবে ব্যাটিং করেছে আমরা এত খারাপ ব্যাটার না। আমাদের সামর্থ্য এর থেকে আরও বেটার আমার কাছে মনে হয়। এর সঙ্গে যোগ করতে চাই টেকনিক্যালি, মেন্টালি আরও বেশি উন্নতির জায়গা আছে।'

টেস্ট ক্রিকেট যে ধৈর্যের খেলা তা ভুলেই যান বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। মনোযোগের ঘাটতিও স্পষ্ট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট না খেলার ঘাটতিকেই এর কারণে বলে উলেস্নখ করছেন অনেকে। টানা সাদা বল খেলে হুট করে লাল বলে চলে আসায় মানিয়ে নিতে পারছেন না বলেও মনে করছেন অনেকে। শান্তও বলেছেন একই সুরে কথা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে