logo
মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০  

দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর সোয়া দুই কিলোমিটার

দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর সোয়া দুই কিলোমিটার
মঙ্গলবার দুপুরে জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর ১৫তম স্প্যান বসানো হয় -যাযাদি
যাযাদি ডেস্ক

চার মাস পর পদ্মা সেতুর ১৫তম স্প্যান বসানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টায় জাজিরা প্রান্তে ২৩ ও ২৪ নম্বর পিয়ারের ওপর স্প্যানটি বসানো হয়। এর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর ২২৫০ মিটার (২ দশমিক ২৫ কিলোমিটার) অংশ দৃশ্যমান হয়েছে। সব শেষ নদীর মাওয়া প্রান্তে গত ২৯ জুন ১৪তম স্প্যান বসানো হয়। এরপর পদ্মায় তীব্র স্রোত ও নাব্য সংকটের কারণে কোনো স্প্যান বসানো সম্ভব হয়নি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, আগে বসানো স্প্যানগুলোর মতো ১৫তম স্প্যানটির দৈর্ঘ্য দেড়শ মিটার এবং ওজন ৩ হাজার ১৪০ টন। স্প্যানটিকে মাওয়া কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে বহন করে নিয়ে যায় ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার 'তিয়ান ই' ক্রেন। এরপর স্প্যানটি বেশ কয়েক দিন ধরে বসানোর জন্য জাজিরায় ২৩ ও ২৪ নম্বর পিয়ারের কাছে অবস্থান করছিল। কিন্তু নাব্য সংকটের কারণে এতদিন স্প্যানটি বসানো সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় ড্রেজিং করে পানির গভীরতা বাড়ানো হয়। পরে ক্রেন দিয়ে গতকাল দুপুরে স্প্যান বসানো হয়।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, চীন থেকে এ পর্যন্ত ৩১টি স্প্যান দেশে চলে এসেছে। এর মধ্যে ১৫টি স্প্যান নদীর ওপর বসানো হয়েছে। পাঁচটি স্প্যান সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে আছে। এ পাঁচ স্প্যানের মধ্যে চারটি স্প্যান মাওয়ায় কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে আছে। বাকি একটি চর এলাকায় ২৮ নম্বর পিয়ারের কাছে রাখা হয়েছে। এ পাঁচটি স্প্যান খুব দ্রম্নত বসানো হবে। এছাড়া আরও দুটি স্প্যান চলতি মাসে প্রস্তুত হয়ে যাবে। বর্ষাকালে স্প্যান বসানোর কাজ বন্ধ থাকলেও পিয়ারসহ অন্যান্য কাজ চলছে। ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ৩২টি পিয়ার নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

দ্বিতল পদ্মা সেতু হচ্ছে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য (পানির অংশের) ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। ডাঙার অংশ ধরলে সেতুটি প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। খুঁটির ওপর ইস্পাতের যে স্প্যান বসানো হবে, এর ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন। আর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন।

জানা গেছে, রেলওয়ে স্স্ন্যাবের জন্য ২ হাজার ৯৫৯টি প্রি-কাস্ট স্স্ন্যাব প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে দুই হাজার ৮৯১টি স্স্ন্যাব তৈরির কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি স্স্ন্যাব আগামী নভেম্বরে তৈরি শেষ হবে। রেলওয়ে স্স্ন্যাব স্থাপন করা হয়েছে ৩৬১টি। অন্যদিকে ২৯১৭টি প্রি-কাস্ট রোডওয়ে ডেক স্স্ন্যাবের মধ্যে ১ হাজার ৫৫৩টির কাজ শেষ হয়েছে এবং ৫৪টি স্থাপন করা হয়েছে।

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ওই বছরের ২৮ আগস্ট ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছিল। পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে। বর্তমান ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। মূল সেতু নির্মাণে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। আর নদী শাসনের কাজ করছে চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন। দুই প্রান্তে টোল পস্নাজা, সংযোগ সড়ক, অবকাঠামো নির্মাণ করছে দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিয়ারে প্রথম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিয়ারে বসানো হয় দ্বিতীয় স্প্যান। গত বছরের ১১ মার্চ ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিয়ারের ওপর বসে তৃতীয় স্প্যান। ১৩ মে ৪০ ও ৪১ নম্বর পিয়ারের ওপর চতুর্থ স্প্যান বসানো হয়। ২৯ জুন সেতুর পঞ্চম স্প্যান বসানো হয়েছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকায়। এ বছরের জানুয়ারি মাসে জাজিরা প্রান্তের তীরের দিকের ষষ্ঠ শেষ স্প্যান বসে। এর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর ৯০০ মিটার দৃশ্যমান হয়। আর গত বছরের শেষদিকে মাওয়া প্রান্তে ৪ ও ৫ নম্বর পিয়ারের ওপর একমাত্র স্প্যানটি বসানো হয়। এটি ছিল সপ্তম স্প্যান। চলতি বছরের ২০ ফেব্রম্নয়ারি জাজিরা প্রান্তে ৩৬ ও ৩৫ নম্বর পিয়ারের ওপর অষ্টম স্প্যান বসানো হয়। সেতুর ৩৫ ও ৩৪ নম্বর পিয়ারের ওপর গত ২২ মার্চ বসে নবম স্প্যানটি। ১০ এপ্রিল মাওয়া প্রান্তে ১৩ ও ১৪ নম্বর পিয়ারের ওপর দশম স্প্যান, ২৩ এপ্রিল শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ৩৩ ও ৩৪ নম্বর পিয়ারের ওপর ১১তম স্প্যান বসে। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের মাঝামাঝি স্থানে ২০ ও ২১ নম্বর পিয়ারের ওপর ১২তম স্প্যান বসানো হয়েছিল। ১৩তম স্প্যানটি বসানো হয় গত ২৫ মে।

১৭ অক্টোবর পদ্মা সেতু প্রকল্প কাজ পরিদর্শনের পর সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, ২০২১ সালের জুনের মধ্যে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে। পদ্মা সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৮৪ শতাংশ। সেতুর আর্থিক অগ্রগতি ৭৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭৪ শতাংশ।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে