বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

বিল্ডিং করাকে কেন্দ্র করে ইবি শিক্ষককে মারধর ব্যাংক কর্মকর্তার

ইবি প্রতিনিধি
  ০৮ জুন ২০২৩, ১১:২১
বিল্ডিং করাকে কেন্দ্র করে ইবি শিক্ষককে মারধর ব্যাংক কর্মকর্তার

বিল্ডিং করাকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এসময় তার হাতের আঙুল ভেঙে দিয়ে শরীরে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বুধবার (৭ জুন) সকাল পৌঁনে ছয়টায় কুষ্টিয়ার হাউজিং ডি ব্লক আবাসিক এলাকায় প্রাতঃভ্রমণে বের হলে তার উপর হামলা করেন প্রতিবেশি ব্যাংক কর্মকর্তা সোহেল মাহমুদ। তিনি অগ্রণী ব্যাংক, কুষ্টিয়া চৌড়হাস ব্রাঞ্চের প্রিন্সিপাল অফিসার বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বিল্ডিং করাকে কেন্দ্র করে প্রতিহিংসার জেরে প্রতিবেশি ব্যাংক কর্মকর্তা সোহেল মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছে। এর আগেও বিভিন্নভাবে তাকে হেনস্তার চেষ্টা করেছেন ওই ব্যাংক কর্মকর্তা। বিষয়টি ভুক্তভোগী শিক্ষক অগ্রণী ব্যাংক চৌড়হাস ব্রাঞ্চের ম্যানেজারকে জানান। ম্যানেজার ব্যাংক কর্মকর্তা সোহেল মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এতে তিনি আরো বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষকের পিছু লাগেন এবং তাকে আক্রমণ করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। হঠাৎ আজ সকালে হাঁটতে বের হলে পৌঁনে ছয়টায় তাকে একা পেয়ে হাউজিং ডি ব্লক আবাসিক এলাকায় তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা সোহেল। এসময় আশেপাশে কেউ না থাকায় পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করেন তার সহকর্মী ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল বারী। পরে তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. আব্দুল বারী বলেন, আমরা ছয়জন মিলে একটা বিল্ডিং তৈরি করছি। তার পাশেই উনার বাসা। সমস্যার মূল কারণ হলো, আমরা কেন তার বাসার পাশে ছয়তলা/সাততলা বিল্ডিং করছি? আগে থেকেই তিনি হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। আজকে স্যারকে (মোস্তাফিজুর রহমান) একা পেয়ে তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করেছেন।

হামলার শিকার অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদককে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।

হামলাকারী ব্যাংক কর্মকর্তা সোহেল মাহমুদ বলেন, উনার (মোস্তাফিজুর রহমান) সাথে আমার সর্বশেষ দেখা হয়েছে দশদিন আগে। উনার অভিযোগটা ভিত্তিহীন। এর কোনো অস্তিত্বই নেই।

ইবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোদ্দার বলেন, আগেও এটা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। তখন আমাদের শিক্ষকরা মিলে এর একটা মিমাংসা করা হয়েছিল। তারপর আজ আবার এ ধরনের একটা ঘটনা ঘটেছে। আমরা আবারো বিষয়টি নিয়ে বসে নিজেদের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করবো।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে