সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯
walton1

শীতের শুরু থেকেই যত্ন নিন শিশুর

নতুনধারা
  ০৯ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। গ্রামাঞ্চলে ইতোমধ্যে শীত জেঁকে বসতে শুরু করেছে। আর শীতে আমাদের ত্বক সবচেয়ে বেশি নাজুক হয়ে পড়ে। তাই শিশুসহ সবার জন্য প্রয়োজন ত্বকের ব্যাপারে সচেতন হওয়া। এ সময় শিশুদের বিশেষ পরিচর্যা ও একটু বাড়তি যত্ন নিলে সোনামণিরা ভালো থাকবে। শীতকালে শিশুরা ত্বকসহ সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, জ্বর, নিউমোনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হয়ে পড়ে। শীতের আবহাওয়া শুষ্ক। সঙ্গে ওড়ে ধুলাবালি। ফলে শিশুরা এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। সচেতন হন এখনই : এ সময় শিশুকে ঠান্ডা বাতাস ও ধুলাবালি থেকে দূরে রাখতে হবে। যেহেতু শীতে এ রোগগুলোর প্রকোপ বেড়ে যায়, তাই যতটা সম্ভব শিশুকে জনসমাগমপূর্ণ জায়গায় কম নিতে হবে। শিশুর গামছা, রুমাল, তোয়ালে প্রভৃতি আলাদা হওয়া ভালো। কেউ আক্রান্ত হলে তার হাঁচি-কাশির সময় শিশুকে দূরে রাখতে হবে। স্কুল বা বাইরে নিয়ে গেলে শিশুর মুখে মাস্ক পরিয়ে দিতে হবে। শিশুর এ ধরনের সমস্যায় আদা, লেবু চা, গরম পানিতে গড়গড়া, মধু, তুলসীপাতার রস খাওয়ালে উপকার পাবেন। তবে সমস্যা বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। পানির ব্যবহার : শিশুকে হালকা কুসুম গরম পানি পান ও ব্যবহার করানোর অভ্যাস করাতে পারলে ভালো। গোসলে হালকা কুসুম গরম পানির সঙ্গে নিমপাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দাঁত ব্রাশ করা, হাত-মুখ ধোয়া, খাওয়াসহ নানা কাজে হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করানো গেলে শিশুরা ঠান্ডাজনিত সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকবে। শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে। তবে গোসলের সময় হালকা তাপমাত্রার গরম পানি ব্যবহার করা ভালো। নবজাতকের ঠান্ডার সমস্যা থাকলে- এমন শিশুর ক্ষেত্রে গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে পুরো শরীর মুছে দিতে পারেন। অনেকেই শিশুকে জবজবে করে সরিষার তেল মাখিয়ে গোসল করিয়ে দেন। এতে গোসল শেষেও শিশুর চুল ভেজা থাকে এবং ঠান্ডা লাগে। পোশাক : শিশুকে অবশ্যই উলের পোশাক পরিয়ে রাখা উচিত। তবে সরাসরি উলের পোশাক পরানো ঠিক নয়। উলের লোমে শিশুর অ্যালার্জি হতে পারে। সুতি কাপড় পরিয়ে তার ওপর উলের পোশাক পরানো ভালো। পোশাকটি হতে হবে নরম কাপড়ের। খসখসে বা শক্ত কাপড়ের পোশাক শিশুর নরম ত্বকের সমস্যার কারণ হতে পারে। তবে হালকা শীতে শিশুর গরম পোশাকটি খুব বেশি গরম কাপড়ের হওয়া উচিত নয়। কারণ খুব বেশি গরম কাপড় পরালে গরমে ঘেমে শিশুর ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। শিশুর রাতে ঘুমানোর আগে হালকা ফুল হাতা গেঞ্জি পরিয়ে রাখুন এবং সকালে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ও বিকালের দিকে হালকা শীতের পোশাক পরিয়ে রাখুন। খাবার-দাবার : শীতকালে শিশুদের খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। তাতে শরীর খারাপ হয়ে যায়। তাই শিশুদের ঘনঘন পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। ত্বকের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে ডিমের কুসুম, সবজির সু্যপ এবং ফলের রস খাওয়ানো উচিত। বিশেষ করে গাজর, বিট, টমেটো শিশুদের ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের শীতের সবজি দিয়ে খিঁচুড়ি রান্না করে খাওয়াতে পারেন। শিশুরা এ সময় যেন কোনো ধরনের ঠান্ডা খাবার না খায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। অ্যালার্জি জাতীয় খাবার পরিহার করাও ভালো। ত্বকের যত্ন : শিশুর ত্বক খুব সংবেদনশীল। অনেক বেশি রুক্ষ হয়ে পড়ে। তাই শিশুর মুখ ও সারা শরীরে বেবি লোশন, বেবি অয়েল, গিস্নসারিন ইত্যাদি ব্যবহার করুন। সমস্যা হলে অবহেলা না করে দ্রম্নত শিশুরোগ ও ত্বকের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তাতে সোনামণি ভালো থাকবে। য় সুস্বাস্থ্য ডেস্ক
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে