চল্লিশের পর সতেজ থাকার উপায়

চল্লিশের পর সতেজ থাকার উপায়

বর্তমান প্রজন্মে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমান তালে এগিয়ে চলছে। সংসারে অর্থনৈতিকভাবে অবদান রেখেও মাতৃত্বের দায়িত্ব ও গৃহস্থালির সকল কাজে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম ও খাবারের ডায়েট মেনে চললে ত্বক ও শরীরে সতেজতা ধরে রাখা যায়। তাই নারীদের পারিপার্শ্বিক কর্তব্য পালন করেও নিজের প্রতি যত্নবান হওয়ার দিকে নজর দেওয়া উচিত। মেনোপজের পর নিজের শরীরের প্রতি গাফিলতিতে ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে যায়। শরীরের পর্যাপ্ত যত্ন নিতে পারলে যৌবন ধরে রাখা সম্ভব।

স্বাস্থ্য ও জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের প্রতিবেদনে কিছু খাবার গ্রহণের চির তারুণ্য ধরে রাখার ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ব্লুবেরিতে রয়েছে বেশি পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেসকে শরীর থেকে দূর করে। কাজের চাপ থেকে শরীরে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে ফ্রি রেডিক্যালস (radicals), যা বলিরেখা থেকে শুরু করে বার্ধক্যের অন্য সব নমুনাই ত্বকে ফুটিয়ে তোলে। এটি রোদ ও স্ট্রেসের কারণে ক্ষতি হওয়া কোষগুলোকে সারিয়ে তোলে। ব্লুবেরিতে রয়েছে প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি। ভিটামিন সি ত্বকের রিঙ্কলসকে দূরে রাখে।

বেদানা শরীরে উৎপন্ন ফ্রি রেডিক্যালস ঠিক করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'ত্বকে কোলাজেন নামে একটি পদার্থ থাকে যা ত্বককে টানটান রাখে। এ কারণেই ত্বককে যৌবনের মতো সুন্দর দেখায়। ফ্রি রেডিক্যালস ত্বকের এই কোলাজেনকে নষ্ট করে দেয়। ফলে ত্বকে রিঙ্কলস, ফাইনলাইনস ইত্যাদি দেখা দেয়। বেদানা তাই শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বেদানার রস শরীরে ফ্রি রেডিক্যাল ও কোলাজেনকেও নষ্ট করে দেয়।

চল্লিশ এ শিরদাঁড়াতে ব্যথা শুরু হয়, হাঁটুতে পানি জমে। মাশরুম ত্বক, কোমর ব্যথা, হাড়ের জয়েন্টের ব্যথায় কার্যকর। ডাক্তাররা বলছেন, 'ক্যালসিয়ামের অভাব হাড়ের দুর্বলতার একটি মূল কারণ। হাড়ের দুর্বলতা থেকেই এসব রোগের উপক্রম। মাশরুম ভিটামিন ডি-র সম্ভার। ভিটামিন ডি ছাড়া হাড় ক্যালসিয়াম শোষণ করতে পারে না। তাই শরীরে ভিটামিন ডি-র পরিমাণ স্বাভাবিক রাখতে মাশরুম খেতে পারেন।

চল্লিশে মেনোপজের পর শুধু ক্যালসিয়াম নয়, প্রোটিন, ফাইবার ও মাইক্রোনিউট্র্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলোর ঘাটতিও যথেষ্ট দেখা যায়। এরই সঙ্গে শরীরে বাড়তে থাকে কোলেস্টেরলের পরিমাণ। কাঠ বাদামের মধ্যে আখরোট আর আমন্ড কোলেস্টেরল কমানোর জন্য সবচেয়ে উপকারী। একই সঙ্গে শরীরে ঘাটতি হওয়া প্রোটিন ফাইবার ও অন্যান্য উপকরণও সরবরাহ করে এই বাদামগুলো।

আনারস ত্বকের মধ্যে থাকা কোলাজেন পদার্থটি তৈরি হতে লাগে কয়েকটি অ্যামিনো অ্যাসিড। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'চল্লিশের পর থেকে শরীরে এই অ্যামিনো অ্যাসিডের মাত্রা কমে যেতে থাকে। ফলে তৈরি হতে পারে না পর্যাপ্ত কোলাজেন। আনারস রয়েছে ম্যাঙ্গানিজের মতো ধাতু, যা এই অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রাখে।'

যাযাদি/ এমডি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে