১০০ জনপ্রতিনিধি সাময়িক বরখাস্ত শাস্তিও নিশ্চিত করা জরুরি

১০০ জনপ্রতিনিধি সাময়িক বরখাস্ত শাস্তিও নিশ্চিত করা জরুরি

কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নগদ অর্থ সহায়তা ও ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে  করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১০০ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এদের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, জেলা পরিষদ সদস্য, পৌর কাউন্সিলর এবং উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যানও রয়েছেন। জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করার মধ্য দিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট হলো- ত্রাণের সুষ্ঠু বণ্টন হয়নি। ত্রাণের চাল ও তেল আত্মসাৎ করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে হাজার হাজার বস্তা চাল এবং শত শত বোতল ভোজ্যতেল উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা আগেও বলেছি, ত্রাণের সুষ্ঠু বণ্টন হওয়া জরুরি। এটা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই। মনে রাখতে হবে, দুর্যোগকালে কর্মহীন গরিব মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা একটি গণতান্ত্রিক সরকারের অবশ্য কর্তব্য। করোনাভাইরাসের মতো দুর্যোগে সারাদেশের সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে ত্রাণ সহায়তা সরকার অব্যাহত রেখেছে। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ।

এ পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় দেড় কোটি পরিবারের সাড়ে ৬ কোটি মানুষকে ত্রাণের চাল দেওয়া হয়েছে। ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৮ জুন পর্যন্ত সারাদেশে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দুই লাখ ১ হাজার ৪১৭ টন এবং বিতরণ করা হয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৭৯৫ টন। এতে উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা এক কোটি ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৫৩২টি এবং উপকারভোগী লোকের সংখ্যা ছয় কোটি ৫২ লাখ ৯৩ হাজার ৭২০ জন। নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১১৬ কোটিরও বেশি টাকা। এর মধ্যে সাধারণ ত্রাণ বাবদ নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯১ কোটি ১৩ লাখ ৭২ হাজার ২৬৪ টাকা এবং বিতরণ করা হয়েছে ৭৮ কোটি ১ লাখ ৫২ হাজার ৬৬১ টাকা। এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ৯৪ লাখ ৪৪ হাজার ৬৮৯টি এবং উপকারভোগী লোকসংখ্যা ৪ কোটি ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৪০ জন। শিশুখাদ্য সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ২০ কোটি ৯৮ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৪ টাকা। এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৮১৩টি এবং লোকসংখ্যা ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৪ জন।

এটা সত্য, টানা ৬৬ দিন দেশ লকডাউনে থাকার কারণে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছিল। দৈনিক রোজগার করতে না পেরে থমকে গিয়েছিল তাদের জীবনযাত্রা। এমন পরিস্থিতিতে সরকার তাদের পাশে দাঁড়ায়। তবে দরিদ্রদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের তালিকা প্রণয়নে দলীয়করণের অভিযোগ তোলা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। এসব মানুষের মধ্যে ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করতে সরকার সারাদেশে যেসব চাল বরাদ্দ করেছে ইতিমধ্যে এসব চাল বিতরণের জন্য তৈরি করা তালিকা নিয়ে দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ গরিবের ত্রাণ মেরে খাওয়া বড় অপরাধ।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাণঘাতী থাবায় আতঙ্কিত মানুষ। দেশে প্রতিদিন বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আর এ সংকটের সময়ে ত্রাণের সুষ্ঠু এবং সমন্বিত বণ্টন প্রয়োজন। সরকার কর্তৃক হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ যারা আত্মসাৎ করছেন তাদের কেবল বরখাস্ত নয়, কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কারণ গরিবের ত্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার তাদের নেই। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে অন্যদিকে দেশের হতদরিদ্ররা বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পিত ও কার্যকর উদ্যোগই কেবল পারে এই ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে