logo
রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১২ আশ্বিন ১৪২৭

  অনলাইন ডেস্ক    ০৮ আগস্ট ২০২০, ০০:০০  

পাঠক মত

অনলাইন ব্যবসায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন

প্রযুক্তির উন্নতি সাধনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রাও সহজ হচ্ছে দিন দিন। এখন চাইলে ঘরে বসেই বিশ্বকে হাতের মুঠোই পাওয়া যায়। খাদ্যদ্রব্য, পোশাক, প্রসাধনী, স্পোর্টস, ওষুধ, সার্জিক্যাল আইটেমসহ এমন কিছু নেই, যা অনলাইনের মাধ্যমে কেনা যায় না। সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তরুণ-তরুণীসহ প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোও অনলাইন বিজনেস খুলে বসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেশব্যাপী সহজলভ্য হওয়ার পর থেকে বাড়ছে অনলাইন বিজনেস। সেই সঙ্গে বাড়ছে ক্রেতাও। কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে সব ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনলাইন ব্যবসা বেশ চাঙ্গা হয়েছে। ঘরে বসেই কাঙ্ক্ষিত পণ্য কিনছে গ্রাহকরা। অনলাইন বিজনেস করতে গেলে ব্যবসায়ীকে বড় শো রুম, গোডাউন এবং একাধিক বেতনভুক্ত কর্মচারী রাখার প্রয়োজন হয় না। পণ্য, কম্পিউটার বা স্মার্ট ফোন থাকলেই হয়। সেই সঙ্গে একটি ওয়েবসাইট করতে হয়। অনেকে আবার শুধু ফেসবুকে পেজ খুলেই ব্যবসা পরিচালনা করেন। ওয়েবসাইটে বা ফেসবুক পেজে পণ্যের ছবি ও পরিচিতি দেওয়ার পাশাপাশি ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে পণ্যের প্রচারণা চালান। যারা স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে নেট ব্যবহার করেন তারাই নিজেদের চাহিদা ও পছন্দ অনুয়ায়ী সব পণ্য অর্ডার করে থাকেন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে মূল্য পরিশোধ করতে হয় অর্ডারের সঙ্গে সঙ্গেই। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্য হাতে পেয়ে সেলসম্যান বা কুরিয়ার সার্ভিসের কাছে পেমেন্ট করতে হয়। ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও সঙ্গে অ্যাপস এবং নিজস্ব অফিসসহ ব্যবসা পরিচালনা করেন অর্থাৎ বড় পরিসরে ব্যবসা পরিচালনা করেন, এমন অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কমই আছে। ইভ্যালি, দারাজ, আজকেরডিল, পিকাব, স্বপ্ন, ফুডপান্ডাসহ আরও কিছু জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও সবমিলিয়ে লাখ লাখ অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঠিক কয়টি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক লাইসেন্স আছে কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান আদৌ লাইসেন্স করে ব্যবসা পরিচালনা করছে কিনা তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। সরকারকে কর পরিশোধ করা প্রতিষ্ঠান আছে কিনা, তারও কোনো হিসাব নেই। অনলাইনভিত্তিক জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেই সাধারণত গ্রাহকরা পছন্দের পণ্য অর্ডার করেন। এর বাইরে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা যারা শুধু ফেসবুক পেজ খুলে দেশব্যাপী বা পরিচিত মাধ্যমে ব্যবসা করছেন। পর্যাপ্ত কর্মক্ষেত্র না থাকা, কর্মক্ষেত্রের নানা প্রতিবন্ধকতা, ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন থাকা এবং স্বল্প মূলধনে ব্যবসা পরিচালনা করার সুযোগ থাকাসহ দেশব্যাপী পণ্য বিক্রি করার সুবিধা থাকায় ডিজিটাল পস্নাটফর্মে ঝুঁকছে তরুণ-তরুণীরা। ঘরে বসেই পছন্দ ও কাঙ্ক্ষিত পণ্য পাওয়ার সুবিধা নিচ্ছে গ্রাহকরা। তবে প্রতারণার ঘটনাও অহরহ ঘটছে। অর্ডারকৃত পণ্য না পাওয়া, পেলেও হুবহু না হওয়া, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডেলিভারি না পাওয়া, পণ্যের মান ভালো না হওয়া, পরিবর্তন করতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হওয়াসহ নানামুখী অভিযোগ শোনা যায় গ্রাহকদের কাছ থেকে। প্রতিষ্ঠানগুলোর ফেসবুক পেজে ঠিকানা থাকলেও আসলেই সঠিক ঠিকানা কিনা তা বোঝার উপায় নেই। ফোন নাম্বার থাকলেও প্রতারণার ঘটনা ঘটলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আবার অনেক সময় গ্রাহকের নিকট পণ্য কুরিয়ার করা হলেও গ্রাহক ডেলিভারি না নেওয়ার ফলে প্রতিষ্ঠানকেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনেকেই বিশাল ডিসকাউন্ট এবং ক্যাশব্যাকের অফার দিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করেন। গ্রাহকরাও সরল বিশ্বাসে কিংবা ডিসকাউন্ট/ক্যাশব্যাক পাওয়ার নেশায় ভালোমন্দ না বুঝে প্রতারিত হন। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে দৈনন্দিন এমন বহু ঘটনা জানা যায়। যেখানে ডিসকাউন্ট/ক্যাশব্যাকের অফারে আকৃষ্ট হয়ে প্রতারিত হতে হয়। এছাড়া বহু প্রতিষ্ঠান ফেসবুক পেজে নানা অফার ও কম মূল্যে বহু দামি পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহককে আকৃষ্ট করে তাদের পেজ বা সাইট ভিজিটে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে অফার ও কম মূল্যের আড়ালে শর্ত দেওয়া থাকে যা, পূরণ করতে গেলে গ্রাহকের জন্য লাভজনক কিছু থাকে না। আবার গ্রাহক পেজে বা সাইটে ঢুকে দেখেন কোনো অফার নেই। পণ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ছাড়াও শুধু অনলাইনভিত্তিক তথা কম্পিউটার ও মোবাইলে কাজ করা যায়, কাজ শেখা যায় এমন বহু প্রতিষ্ঠান ও ট্রেনিং সেন্টার আছে। আছে ডিজিটাল মার্কেটিংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। যারা কাজ করছে তারাও লাভবান হচ্ছে। কিন্তু তাদের ব্যবসায়িক লাইসেন্স না থাকায় প্রতারণার ঘটনায় ভুক্তভোগী কেউ প্রতিকার পাওয়া দুষ্কর, সরকারও পাচ্ছে না কোনো রাজস্ব। দিন দিন বাড়ছেই অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণ না থাকা এবং অনলাইন ব্যবসা পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো কিরূপে ব্যবসা পরিচালনা করবে তার কোনো রূপরেখা নেই, গ্রাহক কর্তৃক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর পূর্ণ ভরসা রাখার মতোও কোনো ভিত্তি নেই। শুধু পছন্দের পণ্য সহজে পাওয়ার হেতু বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে অর্ডার করা হচ্ছে। বহু প্রতারণার ঘটনা ঘটলেও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকার কারণে বিদ্যমান আইনে প্রতিকার পাওয়া কঠিন হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক লাইসেন্স না থাকার কারণে তাদের দ্বারা কেউ প্রতারিত হলেও তাদের ধৃত করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। এই অবস্থায় অনলাইনভিত্তিক সব প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করবে এবং গ্রাহকরা কীভাবে উত্তম সেবা পাবে, এসবের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা দরকার। ট্রেডলাইসেন্স করা বাধ্যতামূলক করা দরকার। এর মাধ্যমে অনলাইন ব্যবসায়ীরাও মূলধারার ব্যবসায়ীদের মতো সরকার ও ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো থেকে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাবে, নিজেরা সংগঠন তৈরির মাধ্যমে সংগঠিত হতে পারবে, গ্রাহকরাও নির্ভয়ে কাঙ্ক্ষিত পণ্য অর্ডার করতে পারবে, প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা কমবে, দ্রম্নততম সময়ে পণ্য হাতে পাবে। নতুন করে অনেক তরুণ-তরুণী অনলাইন বিজনেসে আগ্রহী হবে। সর্বোপরি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল করতে পারবে। অনলাইন বিজনেসের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

জুবায়ের আহমেদ

শিক্ষার্থী

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম)

ঢাকা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে