শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
walton1

প্রান্তিক কৃষককে কৃষি প্রণোদনা

উদ্যোগ প্রশংসনীয়
  ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খাদ্যশস্যের অফুরন্ত ভান্ডারখ্যাত হাওড় জেলা কিশোরগঞ্জ। এ বছর জেলার এক লাখ প্রান্তিক কৃষককে সরকারিভাবে প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ। বর্তমানে জেলার হাওড় এলাকায় পুরোদমে বোরো ধানের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আবহাওয়া বীজ বপনের অনুকূলে থাকায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ততা বেড়েছে কৃষকদের। তবে আগাম বন্যা, ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, কৃষি যন্ত্রপাতি, সার কীটনাশক ও ডিজেলের দাম বাড়ায় শঙ্কায় রয়েছেন তারা। এ কারণে ধান চাষে আগ্রহ কমেছে কৃষকদের। কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি উপজেলার ৫টি আংশিক ও তিনটি সম্পূর্ণ হাওড় অধু্যষিত। এর মধ্যে তিন হাওড় উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি বোরো ধানের আবাদ হয়ে থাকে। এবার জেলায় ১ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। এবার জেলার এক লাখ প্রান্তিক কৃষককে কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এ প্রণোদনায় ৫০ হাজার কৃষককে হাইব্রিড বীজ দেওয়া হচ্ছে, আর ৫০ হাজার কৃষক উফশী বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি সার ও ১০ কেজি করে এমওপি সার পাবে। সরকারের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এটা অব্যাহত রাখতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, করোনাকালে সরকার কৃষির ওপর বেশ গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ করোনা মহামারি আকারে বিস্তার লাভ করায় বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। বাংলাদেশ যেহেতু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার চেষ্টায় রয়েছে, সেহেতু আমরা আশাবাদী হতে পারি। তা ছাড়া এবার দেশে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশ খাদ্যসংকটে পড়বে না। তবে দেশের যেসব কৃষক বিপদে পড়েছেন তাদের কথা চিন্তা করেই সরকার এই বিশেষ সহায়তা দিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে কৃষকদের বাঁচানোর জন্য পরীক্ষামূলকভাবে শস্যবীমা চালুর কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের গবাদিপশু বীমা চালু করারও পরিকল্পনা আছে। অন্যদিকে বিভিন্ন ধরনের কৃষিযন্ত্রে স্থানীয় ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া এবং ফসল মাড়াই যন্ত্রের কর কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকার প্রতিবছর কৃষি খাতে সার, সেচ ও বিদু্যতে ভর্তুকি, নগদ সহায়তা ও প্রণোদনা হিসেবে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। ব্যয়িত অর্থের সিংহভাগই খরচ হয় প্রভাবশালী ও রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বড় কৃষকদের পেছনে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সব সময় সরকারের এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। থাকেন উপেক্ষিত। দেখা গেছে, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরাই পারিবারিক শ্রম ও নিজস্ব মেধা দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কৃষিকে। এসব ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনার সুযোগ-সুবিধা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগই কেবল পারে কৃষকস্বার্থ সংরক্ষণ করতে।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে