মহাসড়ক ও সেতুতে যানবাহনের গতিসীমা মানা বাধ্যতামূলক হচ্ছে

মানবিক কারণে ঈদ উপলক্ষে পদ্মা সেতুতে মোটরবাইক চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে
মহাসড়ক ও সেতুতে যানবাহনের গতিসীমা মানা বাধ্যতামূলক হচ্ছে

ঈদ উপলক্ষে মানুষের কষ্ট লাঘবে এবং মানবিক কারণে কঠোরভাবে বিধিনিষেধ মানার শর্তে পদ্মা সেতুতে মোটরবাইক চলার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে পদ্মা সেতুর গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ করতে সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হলেই মোটরবাইক চলার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। হাইওয়ে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যায়যায়দিনকে বলেন, পদ্মা সেতুতে দুর্ঘটনায় দুই মোটরবাইক আরোহীর মৃতু্য হয়। এ ঘটনার দায়েরকৃত মামলাটি পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থা তদন্ত করছে। এমন ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে পদ্মা সেতুতে বাইক চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। দুর্ঘটনার পর সব সেতু ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে গতিসীমাসহ অন্যান্য বিধিনিষেধ মেনে চলার নির্দেশনা আসে। নির্দেশনায় বিধিনিষেধ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের কথা বলা হয়েছে। এই কর্মকর্তা আরো জানান, কড়া নির্দেশনায় ঈদে যানজট ও দুর্ঘটনারোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এজন্য মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় গতিসীমা লেখা সাইনবোর্ড ধুয়েমুছে চকচকে করছে সড়ক-মহাসড়ক বিভাগ। যাতে সহজেই তা চালকদের চোখে পড়ে। ইতোমধ্যেই মহাসড়কের দুর্ঘটনা প্রবণ স্থানগুলোর মেরামত কাজ প্রায় শেষ করা হয়েছে। দুর্ঘটনা ও যানজট এড়াতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক মহাসড়কের পাশের প্রায় সব স্থাপনা সরানোর কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই ৭০ শতাংশ অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বরত (অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) আলী আহমদ খান যায়যায়দিনকে বলেন, পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচলের গতিসীমা ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার নির্ধারিত রয়েছে। ইতোমধ্যেই যানবাহনের গতিসীমা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে। পোস্তগোলা ব্রিজ থেকে যেসব যানবাহন পদ্মা সেতু পার হয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছে, সেইসব যানবাহনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, যানবাহনগুলো গতিসীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ মানছে কিনা তা স্পিডগান দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। গাজীপুর হাইওয়ে বিভাগের কর্মক্ষেত্র পদ্মা সেতুর উত্তরপ্রান্ত পর্যন্ত। সেই পর্যন্ত প্রতিটি যানবাহনের গতিসীমা মাপা হচ্ছে। সেতুর ওপর যানবাহন গতিসীমা মানছে কিনা তা নিশ্চিত হতে সেতুতে স্থায়ীভাবে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ চলছে। এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত যানবাহন চলাচলের বিষয়টি মনিটরিং করছে। এই কর্মকর্তা বলছেন, স্বল্পসময়ের মধ্যেই সিসি ক্যামেরা লাগানো শেষ হচ্ছে। এরপর সিসি ক্যামেরা দিয়ে গাড়ির গতিসীমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানা যাবে। কোন যানবাহন গতিসীমা অমান্য করলে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ওই গাড়ির নম্বর পেস্নটের ছবি চলে আসবে মনিটরিং স্ক্রিনে। এমন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিধিনিষেধ অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক আলী আহমদ খান বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। স্বাভাবিক কারণেই পদ্মা সেতু দিয়ে যাওয়া ২১ জেলার মানুষ নাড়ির টানে বাড়ি ফিরবেন। সেই দিক বিবেচনা করে মানুষের কষ্ট লাঘবে এবং মানবিক কারণে পদ্মা সেতুতে ঈদের আগে মোটরবাইক চলাচল করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে নানাভাবে আলোচনা চলছে। সিসি ক্যামেরা লাগানো শেষ হলে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে বাইকচালক ও আরোহীকে অবশ্যই কঠোর বিধিনিষেধ মেনে পদ্মা সেতুতে চলাচল করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে টহল বাড়ানো হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে মাদকাসক্ত চালকদের অ্যালকোহল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক্সিডেন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হিসাব মতে, মহাসড়কের দুর্ঘটনা প্রবণ স্থানগুলোর মেরামত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এজন্য আসছে ঈদে দুর্ঘটনা তুলনামূলক কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক সময় ঢাকার মহাখালী, আব্দুলস্নাহপুর, সায়েদাবাদ, গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, কদমতলী, শনিরআখড়া, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর ব্রিজ, চট্টগ্রামের মিরসরাই, ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি, ফতুলস্না, শ্যামপুর, কুমিলস্নার দাউদকান্দি ব্রিজ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়, এলেঙ্গা, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, ঢাকা-মাওনা ফেরিঘাটসহ অন্তত ৩০টি স্পটকে যানজট প্রবণ হিসেবে দেখা হতো। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার কারণে এসব স্পটে এবারের ঈদে যানজট অনেক কম হবে। হাইওয়ে পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস) মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার যায়যায়দিনকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে মহাসড়ক প্রায় শতভাগ প্রস্তুত। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত আছে। দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহন সরাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে রেকার।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে