শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০
walton

অস্ত্র ও মাদকসহ সাত জেলায় গ্রেপ্তার ১১

স্বদেশ ডেস্ক
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০০:০০

সাত জেলায় অস্ত্র ও মাদকসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পাবনা, বাগেরহাট, কক্সবাজারের উখিয়া, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও শেরপুরের নকলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত-

পাবনা প্রতিনিধি জানান, এক তরুণীর করা ধর্ষণ মামলায় পাবনায় কামরুজ্জামান নয়ন নামের এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার আটকের পর তাকে ওইদিন বিকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার ডা. নয়ন পাবনা জেনারেল হাসপাতালের নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ (জুনিয়র কনসালটেন্ট)। তিনি পাবনা সদর উপজেলার ক্যালিকো রাজাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে।

মামলার এজাহারে জানা গেছে, ওই তরুণী পাবনার একটি বেসরকারি ফ্যামিলি হিয়ারিং সেন্টারে চাকরি করেন। ডা. কামরুজ্জামান নয়ন রোগীদের পরীক্ষার জন্য তার কাছে পাঠাতেন। রোগীর আসা-যাওয়ার মাধ্যমে ডা. নয়নের সঙ্গে তরুণীর ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত সেপ্টেম্বরে ডা. কামরুজ্জামান তার স্ত্রী অসুস্থ বলে ওই তরুণীকে রান্নার জন্য বাসায় ডাকেন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন ডা. নয়ন। সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে গোপনে ধারণ করেন। এরপর থেকে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বাসায় নিয়ে মেয়েটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। সর্বশেষ গত ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় তার বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন চিকিৎসক কামরুজ্জামান। এ অবস্থায় মামলার সিদ্ধান্ত নেন তরুণী।

পাবনা থানার ওসি রওশন আলী বলেন, তরুণী মঙ্গলবার সকালে নিজে বাদী হয়ে পাবনা থানায় মামলা করেছেন এবং তার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটের মোলস্নাহাটে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরিফ পোড়ানোর ঘটনায় মাহমুদ শেখ (২০) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোলস্নাহাট উপজেলার কাহালপুর এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মাহমুদ কাহালপুর গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে গত জুলাই মাসে সে একই কাজ করে আটক হয়েছিল। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ওই তরুণ কাহালপুর গ্রামের একটি বাগানের ভেতরে কোরআন শরিফ পোড়ানোর চেষ্টা করছিল। তখন পাশের বাড়ির এক তরুণ দেখে তাকে আটকাতে গেলে মাহমুদ পালিয়ে যায়।

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানাধীন ৮ এপিবিএন কর্তৃক একটি ওয়ান শুটারগান, ৯ রাউন্ড গুলি এবং তিনটি তরবারিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।

গত সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তলস্নাশি চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন- পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মনসুর আলীর ছেলে মো. শাহজাহান (৩৩) ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জাফরের ছেলে মো. রশিদ (২০)।

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে রেহানউদ্দীন (৪০) এবং ফয়সাল (২৬) নামে দুই শীর্ষ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার রেহানউদ্দীন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বগাদী এলাকার ইউছুফের ছেলে এবং ফয়সাল একই গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে।

আড়াইহাজার থানার এসআই নাহিদ মাসুম জানান, গত মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নরসিংদীর মাধবদীতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে রেহানউদ্দীন ও ফয়সালকে সোনারগাঁয়ের একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বিয়ের ১৬ বছর পর স্ত্রীর যৌতুকের করা মামলায় স্বামী ফরিদ আহমেদকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফরিদ পৌর শহরের বালস্নারোডস্থ মৃত আনোয়ার আলীর ছেলে। মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চুনারুঘাট থানার ওসি রাশেদুল হক জানান, স্ত্রী তানজিনা বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফরিদ আহমেদ, তার মা মোমেনা খাতুন ও ভাই মাসুদ আহমেদের নামে মামলা করেন। এ মামলায় তার মায়ের সমন জারি করলেও স্বামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনার দুর্গাপুরে প্রায় ২০ লাখ ভারতীয় রুপিসহ জসিম রুরাম (২৫) নামে এক আদিবাসী যুবককে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার কুলস্নাগড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বিজয়পুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওইদিন রাতে দুর্গাপুর থানায় সোপর্দ করা হয়। মামলার পর বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। জসিম রুরাম দুর্গাপুর উপজেলার কুলস্নাগড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বিজয়পুর গ্রামের লেলিন হাজংয়ের ছেলে।

দুর্গাপুর থানার ওসি উত্তম চন্দ্র দেব জানান, ওই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করে থানায় হস্তান্তর করেছে বিজিবি। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি জানান, শেরপুরের নকলায় স্বামী-স্ত্রীসহ গরু চোর চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোর রাতে উপজেলার দক্ষিণ নকলা এলাকা থেকে চোরাই গরুসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নকলা থানার ওসি আব্দুল কাদের মিয়া। গ্রেপ্তাররা হলেন, নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার পাবই গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৫), নকলা উপজেলার শিববাড়ী এলাকার মৃত বদিউজ্জামানের ছেলে কবির হোসেন (৩৫) ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগম (৩০)।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে