ক্ষমতায় গেলে কুইক রেন্টাল আইন বাতিল করা হবে

গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব
ক্ষমতায় গেলে কুইক রেন্টাল আইন বাতিল করা হবে

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে কুইক রেন্টাল ও বিদু্যৎ খাতে বিশেষ আইন বাতিল করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি। একইসঙ্গে বিদু্যৎ ও জ্বালানি খাতের সব দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও করা হবে।

শনিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, 'বিএনপি নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে বিদু্যৎ ও জ্বালানির দ্রম্নত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান)

আইনসহ এ সংক্রান্ত সব কালাকানুন বাতিল করা হবে। রেন্টাল-কুইক রেন্টাল কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন বন্ধ করা হবে। স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে বিদু্যৎকেন্দ্র নির্মাণ ও অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করা হবে।'

মির্জা ফখরুল বলেন, 'সরকার দেশের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির ব্যাপারে কাতার বা ওমানের সঙ্গে পুরো জ্বালানি চাহিদা মেটানোর মতো দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি না করে অংশ বিশেষ সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্পট জ্বালানি বাজার থেকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে সাত ডলারে যে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে তা এখন স্পট মার্কেট থেকে ৩৮ ডলারে পর্যন্ত কিনতে হচ্ছে। এতে চাপ বাড়ছে ডলারের রিজার্ভে।'

বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'বর্তমানে শীতকালে ৪-৫ মাস বিদু্যৎ উৎপাদনে অতিরিক্ত ক্ষমতা স্ট্যান্ডবাই রাখতে হলে তা বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর গায়ে না দিয়ে সরকারি কেন্দ্রে রাখা গেলে অলস সময়ের জন্য কোনো মূল্য পরিশোধ করতে হতো না। প্রশ্ন হলো- সরকার তো ইচ্ছা করে বড় বড় সরকারি বিদু্যৎকেন্দ্রগুলোকে হয় অচল না হয় আধা সচল করে রেখেছে। অথচ বড় বড় সরকারি কেন্দ্রগুলোকে ওভারহলিং করে সচল করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল বিএনপি। কিন্তু ২০০৯-এ ক্ষমতায় এসে প্রথম এক বছর ইচ্ছা করে সরকার বিদু্যৎ সেক্টরের উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে বিদু্যৎ পরিস্থিতিকে দুর্বিষহ করে তোলে যেন বিনা টেন্ডারে অধিক ব্যয়ে বিদু্যৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়।'

তিনি বলেন, 'সংকটকালে যেখানে দরকার ছিল প্রশাসন পরিচালন ব্যয়ে লাগাম টানা, বিদু্যৎ খাতের ক্যাপাসিটি চার্জের মতো অপব্যয় বন্ধ করা, অপ্রয়োজনীয় রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদু্যৎকেন্দ্রের চুক্তি বাতিল করা। সেটি না করে সরকার জ্বালানি আমদানি বন্ধ করে দিয়ে এখন জনগণের ওপর লোডশেডিং চাপিয়ে দিয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বিধায় এ অবৈধ সরকার জনকল্যাণের প্রতি কোনো দায়দায়িত্বও বোধ করে না।'

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাঈল জাবিউলস্নাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে