বুয়েট আবারও উত্তপ্ত

বুয়েট ইসু্যতে কড়া প্রতিবাদ উপমন্ত্রীর ম ছাত্র রাজনীতিতে আপত্তি শিক্ষার্থীদের ম আবারও ছাত্র রাজনীতি চালুর দাবি ছাত্রলীগের
বুয়েট আবারও উত্তপ্ত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বুয়েটের সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের শনিবারের একটি কর্মসূচিকে ঘিরে ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ ছাত্ররা ওই সমাবেশ চলাকালে অডিটরিয়ামের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। সমাবেশ শেষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা। এদিকে, বুয়েট ক্যাম্পাসে আবার ছাত্র রাজনীতি চালুর দাবি করেছেন ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। অপরদিকে, আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বুয়েট অডিটরিয়ামে স্মরণসভার আয়োজন করেছেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

শনিবার বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ায় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা। ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ জানার পরও এমন কর্মসূচির খবরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভের খবর পেয়ে তাড়াতাড়ি কর্মসূচি শেষ করে ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা।

শনিবার রাতেই এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বুয়েট শিক্ষার্থীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি একে রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল বলে উলেস্নখ করেন। বুয়েট শিক্ষার্থীদের কঠোর সমালোচনা করে শিক্ষা উপমন্ত্রী ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে বলেছেন, 'যেই শিক্ষার্থীরা শোক সভার বিরোধিতা করে প্রতিবাদ করেছে, রাষ্ট্রীয় অর্থে তাদের পাঠদান চালিয়ে যাওয়া উচিত কি না, সেই সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের নেওয়া প্রয়োজন। এটি প্রায় রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল।' উলেস্নখ্য, ২০১৯ সালে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার সূত্র ধরে আন্দোলনের মুখে বুয়েট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে।

শিক্ষার্থীদের তোপরে মুখে অডিটরিয়ামের সামনে ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন এটা কোনো কর্মসূচি নয়। এটা কেবল একটি দোয়া মাহফিল।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, বঙ্গবন্ধুকে সবাই ভালোবাসেন। বঙ্গবন্ধু সবার। তাহলে তার জন্য আয়োজিত দোয়া মাহফিলে ছাত্রলীগের ব্যানার থাকবে কেন?

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রোববার দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৈঠক করেন বুয়েট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। বৈঠকে শিক্ষার্থীরা ক্যাফেটেরিয়ায় ছাত্রলীগের ব্যানারে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের ঘটনায় ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি পুনরুত্থানের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হয়নি। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর তাদের শঙ্কার জায়গা থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

সভা শেষে অডিটরিয়ামের সামনে সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সার্বজনীন। তার চেতনা ধারণ করতে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয় প্রয়োজন পড়ে না। বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে জাতীয় দিবসসমূহের অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসছে।

এ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী স্মরণসভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা।

এদিন বিকাল পাঁচটায় বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে স্মরণসভার জন্য বুয়েট উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার বরাবর লিখিত আবেদন এবং বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া-মাহফিল আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বুয়েটের সব প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ, বুয়েটের সব সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সাবেক শিক্ষার্থীরা ছাড়াও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাদর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বুয়েট শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলনে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

তবে বুয়েটে আবারও ছাত্র রাজনীতি চালু করার দাবি করেছেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ঢাবি ছাত্রলীগ কর্তৃক আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে মানববন্ধনে এ দাবি করেছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বুয়েট প্রশাসনকে আবারও বিবেচনা করতে বলব ছাত্র রাজনীতি সচল করে বুয়েটকে জঙ্গিমুক্ত করার পদক্ষেপ নেবেন।

বুয়েট প্রশাসনের উদ্দেশ্যে জয় বলেন, 'ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে আপনারা কি বুঝাতে চান? আপনারা কি বুয়েটকে জঙ্গিমুক্ত করতে পারবেন? পারবেন না। আপনাদের জন্য অশনি সংকেত এই জঙ্গি চক্র আপনাদেরকেই প্রথমে হত্যা করবে।'

তিনি বলেন, 'ওই বুয়েট ক্যাম্পাসে পাকিস্তানের প্রেতাত্মা যারা মাথা চড়া দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করা হবে। তাদের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড খতিয়ে দেখা হবে। প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে অনুরোধ করব, যারা বঙ্গবন্ধুর শোকের প্রোগ্রাম বানচাল করার প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছে তাদেরকে আপনারা খুঁজে বের করুন, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহ মামলা করা উচিত। তারা রাষ্ট্রদোহ এবং সংবিধান বিরোধী একটা কাজ করেছে।'

আন্দোলনকারীদের শিবির আখ্যা দিয়ে জয় বলেন, 'দেশের জন্য যে বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক নেতারা কাজ করেছেন, কিন্তু জামায়াত-শিবিরের প্রেতাত্মারা নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাইদের সঙ্গে কী বেয়াদবিটা না করল দেখেছেন! জাতির পিতা এই বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন তাকে নিয়ে যারা ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটাবে তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে