​চৌদ্দগ্রামে আখের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

​চৌদ্দগ্রামে আখের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এবার ৩০ হেক্টর জমিতে একাধিক জাতের আখের চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় সর্বমোট ২৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এবার ৫ হেক্টর বেশি আবাদি জমিতে আখ চাষ করেছে স্থানীয় আখচাষিরা। আখের বাম্পার ফলন এবং খরচের তুলনায় বাজারে আখের ভালো দাম থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আখচাষিরা। হাটবাজারগুলোতে হরদমে চলছে আখের বেচাকেনা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এবার সিইও-২০৮, বিএসআরআই-৪১ (অমৃত), বিএসআরআই স্থানীয় (রংবিলাস) ও চায়না বোম্বাইসহ বিভিন্ন জাতের আখ চাষ করা হয়েছে। নানা জাতের দৃষ্টিনন্দন এসব আখক্ষেত দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অনেকেই। বাহারি রঙের আখগুলো দেখতে খুবই সুন্দর। কৃষককুল ব্যস্ত রয়েছেন আখের শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা ও বিক্রি নিয়ে। এবার আলকরা থেকে কাশিনগর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাজুড়ে আগের তুলনায় আখ চাষ অনেকাংশে বেড়েছে। ৯০ দশক থেকে স্থানীয় কৃষকরা স্বল্প পরিসরে আখ চাষ করলেও বর্তমানে এর ফলন ভালো ও ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় অনেকেই উদ্বুদ্ধ হয়ে এটিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। গ্রীষ্ম শেষ হয়ে গেলেও তীব্র গরমের ফলে বাজারে আখের অতিরিক্ত চাহিদা থাকায় আখ ক্রয়ে সাধারণ ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর সাপ্তাহিক হাটবাজারসহ জনবহুল স্থানে প্রান্তিক কৃষকরা মাচা তৈরি করে বিক্রি করছেন রসালো এই আখ। অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী মেশিনে চিবিয়ে বিক্রি করছেন আখের রস। প্রতি গ্লাস রস ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে দেখা গেছে। আবার অনেকে আখ রসকে বোতলে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন অসুস্থ রোগীসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য।

উজিরপুর ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের আখচাষি জাফর উল্লাহ জানান, এবার ১৮ শতক জমিতে সিও ২০৮ জাতের আখ চাষ করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যেই তিনি ৭০ হাজার টাকার আখ বিক্রি করেছেন। আখ চাষে ভালো লাভ হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পৌরসভার নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক অলী আহম্মদ জানান, ২৫ শতক জমিতে আখ চাষ করে তিনি এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার আখ বিক্রি করেছেন। কমপক্ষে ১ লাখ টাকা লাভের প্রত্যাশা করছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘চৌদ্দগ্রামের মাটি ও জলবায়ু আখ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আধুনিক জাত ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণে আখ চাষের জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। আখচাষিদের সহযোগিতা করতে আমরা সব সময় প্রস্তুত আছি’।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাসিবুর রহমান বলেন, ‘আখের রস একটি পুষ্টিকর উপাদান। যা মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্রেইন সার্কুলেশনে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আখরসের কোনো বিকল্প নেই। এ সময় তিনি বেশি বেশি আখরস পান করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান’।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে