শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

দশ মাসের বকনা ও তার মা প্রতিদিন দুধ দিচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল
  ০৮ মে ২০২৩, ০৯:২৭
ফাইল ছবি

পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখেছে মাত্র দশ মাস- এরই মধ্যে বকনা ও তার মা সমানে দুধ দিচ্ছে! শুনে অবাক হলেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। যেখানে নিজে বেঁচে আছে মায়ের দুধ পান করে। প্রসব ছাড়াই সেই দুধের বাছুর প্রতিদিন আড়াই থেকে ৩ লিটার দুধ দিচ্ছে।

একইসঙ্গে বাছুরটির মা প্রতিদিন দুধ দিচ্ছে দেড় থেকে দুই লিটার। এ নিয়ে উৎসুক জনতার মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনা টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের নলছিয়া গ্রামে। বকনা বাছুরটির মালিকের নাম আব্দুস ছালাম মিয়া।

আব্দুস ছালাম মিয়ার স্ত্রী পারভীন বেগম দশ মাস বয়সী বকনার ওলান(বাট) থেকে দুধ সংগ্রহ করছেন। এমন দৃশ্য দেখতে উৎসুক জনতা ওই বাড়িতে ভির করছেন। প্রতিদিন সকাল ও বিকালে দেড় লিটার করে একদিনে তিন লিটার দুধ সংগ্রহ করছেন তিনি। পারভীন বেগম জানান, একদিন দুধ সংগ্রহ না করলে ওলান থেকে আপনা-আপনি দুধ ঝরে পড়ে।

তিনি জানান, ৭-৮ মাস আগে বাছুরসহ এক লাখ তিন হাজার টাকায় একটি গাভি কিনে যমুনার চরাঞ্চলে লালন-পালন করছেন। বাছুরটির মা শুরু থেকে ৩-৪ লিটার করে দুধ দিত। গেল রমজান মাসে দশ মাস বয়সী বাছুরকে নদীতে গোসল করাতে গেলে ওলান(বাট) ফুলা দেখে ধারণা করেন- ওখানে দুধ জমেছে। তিনি তাৎক্ষণিক গরুটির ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করেন। প্রথম কয়েক দিন ওই বকনা বাছুরটি আধা লিটার দুধ দিত।

তিনি আরও জানান, দশ মাস বয়সী বকনা বাছুর প্রসব ছাড়া দুধ দেওয়ার বিষয়টি দেখে তারা অবাক হয়েছেন। শুরুতে দুধের পরিমাণ কম হলেও এখন দুধের পরিমাণ বেড়েছে।

প্রতিদিন সকাল-বিকাল ২-৩ লিটার করে দুধ দিচ্ছে। বাছুরটির মা দেড় থেকে দুই লিটার করে দুধ দিচ্ছে। প্রথমে বাছুরের দুধ ছাগলের বাচ্চাকে খাওয়ালেও এখন পরিবারের সদস্যরা ওই দুধ পান করছেন। মাঝে-মধ্যে প্রতিবেশিদেরও বিনামূল্যে দিচ্ছেন।

স্থানীয় বাদশা মিয়া জানান, সাধারণত যে গাভি বাচ্চা জন্ম দেয়- সেই গাভিই দুধ দিয়ে থাকে। অল্প বয়সী যে বাছুরটি প্রসব ছাড়া দুধ দিচ্ছে এটা একটা বিরল ও ব্যতিক্রমী ঘটনা। বিষয়টি শুনে প্রথম বিশ্বাস করেন নি। পরে ছালামের বাড়িতে গিয়ে দেখেছেন- ঘটনাটি সত্যি ও অবাক হয়েছেন। ভূঞাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুকুমার চন্দ্র দাস জানান, হরমোনজনিত কারণে এমনটা অনেক সময় হয়ে থাকে। এ ঘটনাটি ভিন্ন রকম মনে হলেও ওই দুধ পুরোপুরি স্বাস্থ্যসম্মত। এ ধরনের ঘটনা বিরল নয়। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যে কেউ ওই বাছুরের দুধ পান করতে পারবেন।

টাঙ্গাইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রানা মিয়া জানান, এসব বকনা বাছুরের দুধ পান করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। এই দুধ পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। তবে দুধ পান না করাই ভালো। মূলত অতিমাত্রার হরমোন পরিবর্তন জনিত কারণে বাচ্চা প্রসব ছাড়াই গরু দুধ দিতে পারে। তবে এ ঘটনা খুব বিরল তা নয়। এর আগেও জেলার সখীপুর উপজেলায়ও এমন ঘটনা ঘটেছে। এটি স্বাভাবিক ঘটনা। আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে