স্পেস স্টেশনে পৌঁছলো স্পেসএক্স ড্রাগন

স্পেস স্টেশনে পৌঁছলো স্পেসএক্স ড্রাগন

তিন দেশের চার নভোচারী নিয়ে স্পেসএক্সের ক্রুড্রাগন শনিবার সকালে গিয়ে ভীড়েছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে। এরা সেখানে ছয় মাস থাকবেন।

ক্রু - ২ নামের এই মিশনটি স্পেসএক্সর তৃতীয় মানববাহী অভিযান এবং এই প্রথমবার এতে রকেট বুস্টার এবং স্পেসস্ক্র্যাফটের পুনর্ব্যবহার হলো। মার্কিন মহাকাশ অভিযানের খরচ অনেকটা কমিয়ে এনেছে এই প্রযুক্তি।

ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পৃথিবী ঘিরে ঘণ্টায় ১৭ হাজার কিলোমিটার গতিতে ভ্রমণ করে শনিবার ভোরে এটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত হয় বলে জানিয়েছে সিএনএন। আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র ভূপৃষ্ঠের প্রায় চারশ' কিলোমিটার উপরে ভাসমান অবস্থায় পৃথিবী প্রদক্ষিণ করছে।

এবারের অভিযানে নভোচারি হিসেবে ছিলেন নাসা'র শেইন কিমব্রো এবং মেগান ম্যাকআর্থার, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির টমাস পেসকি এবং জাপানের জাক্সা স্পেস এজেন্সির আকিহিকো হোশিডে।

এই অভিযানের অন্যতম ফোকাস হবে ‘টিস্যু চিপস’ বা মানব অঙ্গের এমন মডেল যেখানে বিভিন্ন ধরনের কোষ থাকে এবং যারা মানবদেহে থাকা অবস্থায় যে আচরণ করে সেটিই বজায় রাখে। নাসা আশা করছে এই গবেষণা থেকে পাওয়া জ্ঞান বিভিন্ন ওষুধ এবং টিকা তৈরিতে কাজে আসবে। এই গবেষণাকে মহাকাশ কেন্দ্রে হয়ে আসা জীববিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ে দীর্ঘ দিনের গবেষণার ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করেছে নাসা।

‘কোন জিনিসটি কীভাবে কাজ করে সে বিষয়টি 'মহাকাশ কেন্দ্রে'র সামান্য অভিকর্ষের পরিবেশে আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হয়।’

শনিবার পৌঁছানো চার নভোচারী মাহাকাশ কেন্দ্রে আগে থেকেই অবস্থান করা আরও সাত নভোচারীর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। এর ফলে সেখানে অবস্থানরত নভোচারির সংখ্যা দাঁড়ালো ১১। আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে একসঙ্গে এতো নভোচারী এর আগে খুব কমই অবস্থান করেছেন। অবশ্য এই 'ভীড়' বেশিদিন থাকছে না। আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা সাত জনের মধ্যে চার জন এপ্রিলের ২৮ তারিখে পৃথিবীর দিকে রওনা দেবেন। ফলে সেখানে লোকসংখ্যা ফের সাতজন হয়ে যাবে।

মার্কিন নভোযানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে নভোচারী পাঠাতে নসাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় এক দশক। ২০১১ সালের নাসার শাটল প্রকলর্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নাসাকে নির্ভর করতে হয়েছে রাশিয়ার সয়ুজ নভোযানের ওপর। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে যাওয়ার আর কোনো উপায়ও ছিল না। সে সময় প্রতিজন নভোচারীর জন্য প্রায় নয় কোটি ডলার খরচ করতে হয়েছে নাসাকে।

যাযাদি/এসআই

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে