ক্রিপ্টো-কারেন্সি

বাড়ছে লেনদেন, বাড়ছে প্রতারণা

দেশে প্রায় দেড় লাখ অ্যাকাউন্টে অবৈধ লেনদেন হ বাণিজ্যিক ব্যাংকেগুলোকে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের
বাড়ছে লেনদেন, বাড়ছে প্রতারণা

বাংলাদেশে ক্যাসিনো বন্ধ হওয়ার পর থেকে ই-ওয়ালেটের (ভার্চুয়াল) মাধ্যমে ক্রিপ্টো-কারেন্সি ও বিট-কয়েনের লেনদেন বাড়ছে। এই মুদ্রা অবৈধ হলেও লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপক হারে। সেই সঙ্গে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেকে। বাংলাদেশে অর্ধশতাধিক ওয়েবসাইটে প্রায় দেড় লাখ অ্যাকাউন্টের ২০০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের খোঁজ পেয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স (এফএটিএফ)। অনলাইনভিত্তিক একাধিক সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠানকে নজরদারির মধ্যে রেখেছেন তারা। এসব কারণেই সতর্ক হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এক নির্দেশনা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, বিটকয়েন বাংলাদেশ, লাভ বেশি টাকা কম, ল জাইগা, বিটকয়েন এক্সচেক্স, ক্রিপ্টো-কারেন্সি লেনদেন, বিটকয়েন ফোরাম বাংলাদেশ, বিটকয়েন বাই অ্যান্ড সেল বাংলাদেশ' নামে বেশ কয়েকটি ফেসবুক পেজ খুঁজে পাওয়া যায়। এসব পেজেও বলা হয়েছে, বিকাশ, রকেটসহ মোবাইল ব্যাংকিং ও সাধারণ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিটকয়েন কেনাবেচা করা হয়। বর্তমানে সারাবিশ্বে সর্বমোট ১ হাজার ৩৭৫টি বিটকয়েন ও ক্রিপ্টো-কারেন্সি রয়েছে। পাশাপাশি পৃথিবীতে টাকা, ডলার, পাউন্ডের মতো ১৮০টি মুদ্রা চালু রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোও বিটকয়েনে বিনিয়োগের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে।

জানা গেছে, ডিজিটাল ক্রিপ্টো-কারেন্সির জগতে বিটকয়েনের অবস্থান শীর্ষে থাকলেও এরই মধ্যে বাজারে এসেছে ইথেরিয়াম, বিটকয়েন ক্যাশ, রিপল, ড্যাশ, লাইটকয়েন, মোনেরো, জিক্যাশ, ড্যাশ প্রভৃতি নামের অনেক ক্রিপ্টো-কারেন্সি। আর এগুলো বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ। এসব কাজে ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহরে কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে। অর্থ লেনদেন করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং

\হমাধ্যম বিকাশ ও রকেটে। ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে বিটকয়েন লেনদেন নিষিদ্ধ। তারপরও ভার্চুয়াল মুদ্রা লেনদেন চলছে, আর এতে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা করছেন বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ ও তথ্য প্রযুক্তিবিদরা।

তারা বলছেন, বাংলাদেশ ক্রিপ্টো-কারেন্সি লেনদেন করাটা অন্তত ঝুঁকিপূর্ণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতারণার শিকার হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার হাতছানি। হাজার টাকা ঢাললে এক বছরেই তা কয়েক কোটি টাকা! এসব বিজ্ঞাপনে গত বছরের শেষের দিকে এক বিটকয়েনের দাম ছাড়িয়েছিল ২০ হাজার ডলার। অথচ এক বছরে এই মুদ্রার দাম বেড়েছে ১ হাজার ৫৫০ শতাংশ। রীতিমতো চোখ কপালে ওঠার মতো অঙ্ক? আর হয়ত সেই কারণেই আছড়ে পড়তে শুরু করেছে বিজ্ঞাপন 'এখানে টাকা রাখুন'। অথচ এই মুদ্রার অনেক কিছুই এখনো স্পষ্ট নয়, ধোঁয়াশায় ভরা।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ডক্টর এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যায়যায়দিনকে বলেন, এই মুদ্রার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে, এর কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। এ কারণে এটা অবৈধ। তবে জুয়াড়িদের কাছে এটা জনপ্রিয়। এক সময় এর দাম ছিল ১০০ ডলার। এক বছরের মধ্যে তা বেড়ে হয় এক হাজার ডলার। এখন এর দাম ১৯ হাজার ডলারে ওঠে গেছে। যে কারণে লোভে পড়ে অনেকেই এই মুদ্রায় বিনিয়োগ করছেন। কিন্তু হঠাৎ করে এর পেছনের লোকেরা বাজার থেকে সরে গেলে বিপদে পড়বেন অনেকেই।

এদিকে বিটকয়েন নিয়ে একাধিকবার সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটের এ সংক্রান্ত একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে দেশে বিটকয়েনের লেনদেন হচ্ছে, যা কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত নয়। ফলে মানুষের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ ধরনের অবৈধ মুদ্রার লেনদেন না করতে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে